ICC T20 World Cup 2026

দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি থেকে বাঁচল আইসিসি! রবিবার ভারত-পাক ম্যাচ হবে ঘোষণা হতেই ছ’গুণ হল বিমানভাড়া!

ভারত-পাক ম্যাচ না হলে আইসিসির ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার ক্ষতি হত। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১,৫৭৫ কোটি ৬১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। এই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্বস্তিতে ক্রিকেট-খেলিয়ে দেশগুলিও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৮
Share:

আগামী রবিবার একসঙ্গে টস করতে দেখা যাবে সলমন আঘা এবং সূর্যকুমার যাদবকে। —ফাইল চিত্র

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হওয়ায় বিরাট আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচল ক্রিকেটবিশ্ব। জানা গিয়েছে, এই ম্যাচ না হলে দেড় হাজার কোটি টাকার উপর ক্ষতি হত আইসিসির।

Advertisement

একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ না হলে আইসিসির ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার ক্ষতি হত। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১,৫৭৫ কোটি ৬১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। এই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্বস্তিতে ক্রিকেট-খেলিয়ে দেশগুলিও। কারণ, আইসিসি যদি এই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হত, তা হলে সদস্য দেশগুলিও অনেক কম টাকা পেত।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘‘সম্প্রচারকারী সংস্থা, টিকিটের অর্থ এবং অন্যান্য স্পনসরশিপ মিলিয়ে সম্ভাব্য মোট ক্ষতির পরিমাণ হত প্রায় ১৭৪ মিলিয়ন ডলার।’’

Advertisement

আগামী রবিবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে, এই ঘোষণা হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুম্বই-কলম্বো-মুম্বই যাতায়াতের বিমান ভাড়া ১০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০,০০০ টাকা হয়ে গিয়েছে।

সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। তার আগে রবিবার আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক হয় নকভির। সেই বৈঠকের ব্যাপারে নকভি জানান শরিফকে। সেখানেই তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য। একই অনুরোধ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও। এই অনুরোধের পর পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘‘বিভিন্ন আলোচনার নির্যাস এবং বন্ধু দেশগুলির অনুরোধের পর পাকিস্তান সরকার সে দেশের ক্রিকেটদলকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মাঠে নামার’ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেটকে আরও বেশি করে জনপ্রিয় করে তোলার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রিকেটদলকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর আশা, মাঠে খেলোয়াড়োচিত আচরণ বজায় রাখবেন ক্রিকেটারেরা।

সোমবার রাতে বিসিবি-র তরফেও প্রথমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানকে ভারত-ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ বোর্ড বিবৃতিতে লেখে, “সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসি এবং বাকি সব পক্ষের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে চায় বিসিবি। বিশেষ করে কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন রাজা নকভি, তাঁর বোর্ড এবং পাকিস্তানের সমর্থকদের।”

বিসিবি-র বিবৃতিতে আমিনুল বলেন, “এই কঠিন সময়ে যে ভাবে নিজেদের সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে পাকিস্তান, তাতে আমরা গভীর ভাবে উৎসাহিত। আমাদের ভ্রাতৃত্ব দীর্ঘজীবী হোক।”

তিনি আরও বলেন, “গত কাল স্বল্প সময়ে পাকিস্তানে যাওয়া এবং আলোচনা থেকে যে ফলাফল পাওয়া গিয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য আমরা পাকিস্তানকে অনুরোধ করছি। এতে ক্রিকেটের গোটা বাস্তুতন্ত্রই উপকৃত হবে।”

পাকিস্তানের বিদ্রোহের কারণ ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বহিষ্কার করা। আইসিসি-ও সোমবার রাতে বিবৃতি দেয়। তারা জানায়, ‘‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশকে কোনও আর্থিক, ক্রীড়াভিত্তিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ দরকারে সমস্যা সমাধান কমিটির কাছে আবেদন করতে পারে। সদস্য দেশগুলির প্রতি নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচারের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। শাস্তির বদলে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।’’

বৈঠকে হওয়া আলোচনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০৩১-এর মধ্যে বাংলাদেশে একটি আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ এক দিনের বিশ্বকাপের আগেই এই প্রতিযোগিতা হবে। বড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করার জন্য বাংলাদেশ যে দক্ষ এবং সক্ষম, এ ব্যাপারে বিশ্বাস রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

আইসিসি-র মুখ্য কর্তা সংযোগ গুপ্ত বলেন, “টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকার আক্ষেপ থেকে যাবে। তবে বাংলাদেশকে ক্রিকেটীয় দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে সরবে না আইসিসি। বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় ভাবে কাজ করে চায় আইসিসি, যাতে ভবিষ্যতে সে দেশে ক্রিকেট উন্নতি করতে পারে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement