Women's T20 World Cup 2026

ব্যাটে স্মৃতি-রিচা, বলে দীপ্তি- শ্রী চরণি! টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

পুরুষদের মতোই মহিলাদের ক্রিকেটেও ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। বার্মিংহ্যামে দাপট দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হল তাঁদের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ২২:২৮
Share:

পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের মহিলা ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।

আরও এক বার সেই এক ছবি। বিশ্বক্রিকেটে ভারতের সামনে খেলতে নামলেই কী হয় পাকিস্তানের? শুরুটা ভাল করলেও যত ম্যাচ গড়ায় তত পিছিয়ে পড়ে তারা। পুরুষ হোক বা মহিলা, একই ছবি দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সেই ছবি দেখা গেল। ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। বার্মিংহ্যামে দাপট দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হল তাঁদের। ব্যাট হাতে নায়ক স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষ। বল হাতে দাপট দেখালেন দীপ্তি শর্মা ও শ্রী চরণি। ৫ উইকেট নিয়ে খেলা শেষ করলেন দীপ্তি।

Advertisement

বার্মিংহ্যামে ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভাল করেছিল পাকিস্তান। একটা সময় চার ওভারে ৩৮ রান ছিল তাদের। মুনিবা আলি ও গুল ফিরোজ়া দ্রুত রান তুলছিলেন। তার দায় অবশ্য ভারতীয় পেসারদের। দুই পেসার অরুন্ধতী রেড্ডি ও ক্রান্তি গৌড় শুধু বলের গতির দিকেই নজর দিচ্ছিলেন। লাইন ও লেংথ দেখছিলেন না। তার সুবিধা নিচ্ছিলেন দুই পাক ব্যাটার।

ঠিক তখনই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার দীপ্তির হাতে বল তুলে দেন হরমনপ্রীত। হতাশ করেননি তিনি। প্রথম ওভারেই ১২ রানের মাথায় ফিরোজ়াকে আউট করেন তিনি। পাওয়ার প্লে-তে ৫২ রান করে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি পাওয়ার প্লে-তে তাদের সর্বাধিক স্কোর। ভাল দেখাচ্ছিল মুনিবাকে। তিন নম্বরে নেমে আয়েশা জ়াফরও ভাল খেলছিলেন। সেই জুটিকেও ভাঙলেন দীপ্তি। তাঁর বলে সুইপ খেলতে গিয়ে ১২ রানের মাথায় আউট হন আয়েশা। ভাল ক্যাচ ধরেন স্মৃতি।

Advertisement

কেন ভারত এই ম্যাচে তিন স্পিনার খেলিয়েছে, তা বোঝা গেল পাওয়ার প্লে-র পর। দীপ্তি, শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও শ্রী চরণির সামনে হাত খুলতে সমস্যায় পড়ল পাকিস্তান। একটা সময় চার ওভারে একটিও চার মারতে পারেনি তারা। চাপ বাড়ছিল। তার জেরে পর পর উইকেট পড়ল। সাইরা জ়াবিন, নাতালিয়া পারভেজ় রান পাননি। পাকিস্তানকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেন দীপ্তি। তবে বোলার হিসাবে নয়। তাঁর সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন মুনিবা। ৪১ রান করে খেলছিলেন তিনি। মুনিবা আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়।

স্পিনারেরা ভাল বল করায় শেফালি বর্মার হাতেও বল তুলে দেন হরমনপ্রীত। পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমাকে আউট করেন তিনি। পর পর উইকেট পড়ছিল। প্রশ্ন উঠছিল, পুরো ২০ ওভার পাকিস্তান খেলতে পারবে কি না। সেটাই হল। ১৭ ওভারে ১০৬ রানে অল আউট হয়ে গেল পাকিস্তান। ৬৪ রানে জিতল ভারত। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন দীপ্তি। চার ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট শ্রী চরণির।

পাকিস্তানকে সহজে হারালেও কয়েকটি চিন্তা থাকবে ভারতের। দুই পেসার হতাশ করলেন। ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংস খেললেও উইকেটের পিছনে নড়বড়ে দেখাল রিচাকে। দু’টি সহজ ক্যাচ ছাড়লেন তিনি। নষ্ট করলেন রান আউটের সুযোগ। বেশ কয়েকটি বল ধরতেও পারেননি তিনি। তাঁর টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভারতের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক সাবা করিম। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিরুদ্ধে এই ভুল করলে কিন্তু সমস্যায় পড়তে পারে ভারত।

ভারত ও পাকিস্তানের দুই অধিনায়কই ভেবেছিলেন বার্মিংহ্যামের এই উইকেট রানের স্বর্গ। সেই কারণেই টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিতে এক সেকেন্ডও নেননি হরমনপ্রীত। সাদিয়া ইকবালের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে শেফালি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, আগ্রাসী ব্যাটিং করবে ভারত। কিন্তু মহিলাদের টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় দু’নম্বরে থাকা সাদিয়ার পঞ্চম বলে আউট হলেন তিনি। বলের বাউন্স বুঝতে না পেরে ৬ রান করে ফিরলেন তিনি।

খেলা শুরুর পর দেখে মনে হচ্ছিল, অত সহজ উইকেট নয়। পিচে দু’রকমের বাউন্স ছিল। কোনও বল নিচু হচ্ছিল। কোনও বল বেশি লাফাচ্ছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের রেকর্ড ভাল। কিন্তু এই ম্যাচে শুরু থেকে বেশি চেষ্টা করছিলেন তিনি। পিচ দেখে খেলার চেষ্টা করছিলেন না। সেটা করতে গিয়ে আউট হলেন তিনি। সাত বলে মাত্র ১ রান করলেন তিনি।

জোড়া ধাক্কার পর জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল। সেটাই করলেন স্মৃতি ও হরমনপ্রীত। শুরুতে বল দেখে সিঙ্গল, ডাবলসে খেলার চেষ্টা করছিলেন। মাঝে মাঝে চার মারছিলেন স্মৃতি। তার মাঝেই এক বার ক্যাচ তুলেছিলেন তিনি। ধরতে পারেননি পাকিস্তানের ফিল্ডার। ১০ ওভারে ভারতের রান ছিল ৬৫।

থিতু হওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়াতে শুরু করেন দুই ব্যাটার। বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল স্মৃতিকে। ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে বড় শট মারছিলেন তিনি। সাদিয়ার এক ওভারে ১৯ রান নেন দুই ব্যাটার। ৩৪ বলে অর্ধশতরান করেন স্মৃতি। পরের ওভারে তাঁর আরও একটি ক্যাচ পড়ে। তা কাজে লাগান ভারতীয় ব্যাটার। স্মৃতি-হরমনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, বড় রান করবে ভারত। ঠিক তখনই পাকিস্তানকে খেলায় ফেরালেন অধিনায়ক ফাতিমা।

রামিন শামিমের বল লং অনের উপর দিয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন স্মৃতি। ব্যাটে-বলে হয়নি। অনেকটা দৌড়ে ভাল ক্যাচ ধরেন ফাতিমা। ৪৪ বলে ৬৮ রান করে আউট হন স্মৃতি। ভাঙল ৯১ রানের জুটি। চার নম্বরে ভারতী ফুলমালিকে নামিয়ে ফাটকা খেলার চেষ্টা করেছিল ভারত। তা কাজে লাগেনি। ১ রান করে স্টাম্প আউট হন তিনি। তার পরেই অধিনায়ক হরমনপ্রীতকে ৩৬ রানের মাথায় আউট করেন ফাতিমা। আবার চাপে পড়ে যায় ভারত।

সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন সেই রিচা। প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেছিলেন। আর থামল না তাঁর ব্যাট। ১৯তম ওভারে এল ২৩ রান। শেষ ওভারে ফাতিমার বলে আউট হলেন রিচা। মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রান করলেন তিনি। বাংলার ব্যাটারের ব্যাটে ১৬০ রান পার হল ভারতের। সেই রানের ধারেকাছেও পৌঁছোতে পারল না পাকিস্তান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement