মহম্মদ আজহারউদ্দিন। — ফাইল চিত্র।
আইপিএলের টিকিট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার (এইচসিএ) সভাপতি এ জগন মোহন রাওকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আরও চার কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিজের রাজ্যের সংস্থার এই অবস্থা দেখে ক্ষিপ্ত মহম্মদ আজহারউদ্দিন।
আজহার এইচসিএ-র প্রাক্তন সভাপতি। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “আইপিএলের টিকিট কেলেঙ্কারি এবং হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার ধারাবাহিক দুর্নীতি দেখে আমি ব্যথিত। এখনকার এইচসিএ কর্তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সব দায় ওঁদেরই।”
তিনি আরও লিখেছেন, “আমি চাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর এই কমিটিকে বাতিল করা হোক। সিস্টেম পরিষ্কার করার এটাই সময়। হায়দরাবাদ ক্রিকেটের পুরনো সম্মান ফিরিয়ে আনা উচিত।”
জগন মোহন ছাড়াও কোষাধ্যক্ষ সি শ্রীনিবাস রাও, সিইও সুনীল কান্তে, সচিব রাজেন্দ্র যাদব এবং তাঁর স্ত্রী জি কবিতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, আর্থিক দুর্নীতি এবং টিকিট নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তেলঙ্গানা ক্রিকেট সংস্থার সচিব ধরম গুরাভা রেড্ডি প্রথম অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয় জগন মোহন-সহ চার জনের বিরুদ্ধে। শোনা গিয়েছে, অসত্য তথ্য দিয়ে নির্বাচনে জিতেছেন জগন মোহন।
টিকিট বিতর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে আইপিএল চলার সময়। হায়দরাবাদ সংস্থা চাপ দিয়ে আইপিএলের দল সানরাইজার্সের থেকে আরও বেশি বিনামূল্যের টিকিট চেয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ৩৯০০ টিকিট (মোট আসনসংখ্যার ১০ শতাংশ) পাওয়ার কথা থাকলেও এইচসিএ আরও ১০ শতাংশ বেশি টিকিট চাইছিল। সানরাইজার্স রাজি না হওয়ায় ২৭ মার্চ লখনউ ম্যাচের আগে একটি কর্পোরেট বক্স বন্ধ করে দেয় এইচসিএ। সেই মুহূর্তে ২০টি টিকিট চাওয়া হয়েছে। সানরাইজার্স অভিযোগ জানায়, এতে বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি লঙ্ঘিত হচ্ছে। হায়দরাবাদ ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেয় তারা। পরে একটি বৈঠকে সমস্যা মেটে। সেই টিকিট নিয়ে বেনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ।