জয়ের উচ্ছ্বাস ইটালির ক্রিকেটারদের। ছবি: পিটিআই।
প্রথম বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইটালির নজির। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারা শুধু প্রথম ম্যাচই জিতল না, নেপালকে ১০ উইকেটে হারাল আজ়ুরিরা। বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচে ওমানকে ১০৫ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দিয়ে নজর কেড়েছিল নেপাল। অথচ ইটালির বিরুদ্ধে অসহায় দেখাল রোহিত পৌড়েলের দলকে। ওয়াংখেড়ের ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না নেপাল। ধারাবাহিক ব্যবধানে উইকেট হারিয়েছে তারা। ১৯.৩ ওভারে ১২৩ রানে শেষ হয় যায় নেপালের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আরিফ শেখের ২৪ বলে ২৭। ৪টি চার মেরেছেন তিনি। এ ছাড়া অধিনায়ক পৌড়েল তিন নম্বরে নেমে করেছেন ১৪ বলে ২৩। ২টি ছক্কা মেরেছেন নেপালের অধিনায়ক। এ ছাড়া বলার মতো রান ওপেনার আসিফ শেখের ২০ এবং করণ কেসির অপরাজিত ১৮।
ইটালির সফলতম বোলার ক্রিশান কালুগামাগে ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৯ রানে ২ উইকেট বেন মানেতির। ৮ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন জসপ্রীত সিংহ। ২২ রানে ১ উইকেট জেজে স্মাটসের। এ ছাড়া ৩৪ রানে ১ উইকেট আলি হাসানের।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১২.৪ ওভারে ১২৪ রান ইটালির। দুই ওপেনার ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন। বেশি আগ্রাসী ছিলেন অ্যান্টনি মোস্কা। তিনি ৩২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করেন ৩টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে। তাঁর তিন বছরের ছোট ভাই জাস্টিন মোস্কা ৪৪ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিনি ৫টি চার এবং ৩টি ছয় মেরেছেন। নেপালের কোনও বোলারই ইটালির দুই ওপেনিং ব্যাটারের আগ্রাসন থামাতে পারেননি। প্রথম বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েই জয়ের স্বাদ পেল ইউরোপের দেশটি।
এ দিনের প্রথম ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে একপেশে জয় পেয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে দাসুন শনাকারা করেন ৫ উইকেটে ২২৫। দুই ওপেনার পাথুম নিশঙ্কা (১৩) এবং কামিল মিশারা (৮) দ্রুত আউট হয়ে গেলেও সমস্যা হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দেন তিন নম্বরে নামা কুশল মেন্ডিস এবং চার নম্বরে নামা পবন রত্নায়েকে। মেন্ডিস ৪৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন ৭টি চারের সাহায্যে। রত্নায়েকে করেন ২৮ বলে ৬০। ৮টি চার এবং ১টি ছয় এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। পাঁচ নম্বরে নেমে শনাকা করেছেন ২০ বলে ৫০। ২টি চার এবং ৫টি ছয় মেরেছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। এ ছাড়া ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কামিন্দু মেন্ডিস। ওমানের বোলারদের মধ্যে সফলতম জীতেন রামানন্দী ৪১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।
২২৬ রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে কোনও সময়ই স্বচ্ছন্দে ছিলেন না ওমানের ব্যাটারেরা। চার নম্বরে নামা মহম্মদ নাদিমের ৫৬ বলে অপরাজিত ৫৩ রান এবং পাঁচ নম্বরে নামা ওয়াসিম আলির ২০ বলে ২৭ রানের সুবাদে সম্মানজনক রান করে ওমান। বাকি কোনও ব্যাটার দু’অঙ্কের রানও করতে পারেননি। নাদিম ৩টি চার এবং ১টি ছক্কা মেরেছেন। ওয়াসিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৩টি ছক্কা।
শ্রীলঙ্কার মাহিশ থিকশানা ১১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ১৯ রানে ২ উইকেট দুষ্মন্ত চামিরার। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন দুনিথ ওয়েল্লালাগে, দুশন হেমন্ত এবং মেন্ডিস।