জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।
প্রথম বার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠে দাপট দেখাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর। হুবলির মাঠে কর্নাটকের বিরুদ্ধে ভাল জায়গায় তারা। ব্যাটের পর বল হাতেও দাপট দেখিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। তৃতীয় দিনের শেষে কর্নাটক প্রথম ইনিংসে এখনও পিছিয়ে ৩৬৪ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র ৫ উইকেট। যা পরিস্থিতি তাতে কর্নাটকের লিড নেওয়ার সম্ভাবনা কম। আর দু’দিনের খেলা বাকি। অর্থাৎ, প্রথম ইনিংসের লিডেই হতে পারে প্রতিযোগিতার ফয়সালা।
দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের রান ছিল ৬ উইকেটে ৫২৭। তৃতীয় দিন সকালে আরও ৫৭ রান যোগ করে তারা। সাহিল লোতরা ৭২ রানে আউট হন। দুই বোলার আবিদ মুশতাক ও যুদ্ধবীর সিংহ ভাল খেলেন। আবিদ ২৮ ও যুদ্ধবীর ৩০ রান করেন। তাঁরা দলের রান ৫৫০ পার করান। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রান করে জম্মু-কাশ্মীর। কর্নাটকের বোলারদের মধ্যে সফল প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। ৯৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি।
জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, এই উইকেটে কর্নাটকের শক্তিশালী ব্যাটিং আক্রমণও ভাল খেলবে। কিন্তু আকিব নবি তা হতে দিলেন না। সেমিফাইনালে শতরান করা লোকেশ রাহুলকে ১৩ রানে আউট করলেন তিনি। আগের ম্যাচে দ্বিশতরান করা অধিনায়ক দেবদত্ত পড়িক্কলও (১১) রান পাননি। কর্নাটককে জোড়া ধাক্কা দেন আকিব। করুণ নায়ার ও গত ম্যাচের দুই ইনিংসেই শতরান করা আর স্মরণকে শূন্য রানে ফেরান তিনি। ৫৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কর্নাটক।
মায়াঙ্ক আগরওয়াল ভাল খেলছিলেন। তাঁকে কিছুটা সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন শ্রেয়স গোপাল। তাঁকে ২৭ রানের মাথায় আউট করেন যুদ্ধবীর। মায়াঙ্ককে অবশ্য সমস্যায় ফেলতে পারেননি আকিবেরা। গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে শতরান করেন এই ডানহাতি ওপেনার। দিনের শেষ পর্যন্ত ১৩০ রানে অপরাজিত তিনি। সঙ্গে রয়েছেন ক্রুথিক কৃষ্ণ। ২৭ রান করে খেলছেন তিনি। তৃতীয় দিনের শেষে কর্নাটকের রান ৫ উইকেটে ২২০। এখনও ৩৬৪ রানে পিছিয়ে তারা।
যা পরিস্থিতি তাতে এই জুটিই শেষ ভরসা কর্নাটকের। ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা। যে কোনও জায়গা থেকে খেলা ঘুরতে পারে। কিন্তু যা পরিস্থিতি তাতে এখান থেকে কর্নাটকের লিড পাওয়া কঠিন। দেখে মনে হচ্ছে, প্রথম ইনিংসের লিডের উপরেই খেলার ফয়সালা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যদি জম্মু-কাশ্মীর লিড পায় তা হলে প্রথম বার ফাইনালে উঠে প্রথম বারই রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে যাবেন পরশ ডোগরার দল।