উমরান মালিক। —ফাইল চিত্র।
আগামী আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পেস আক্রমণ কে সামলাবেন? এমনিতেই পেস আক্রমণ হাসপাতালের চেহারা নিয়েছে। দুই পেসারের চোট। এক পেসারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শাহরুখ খানের দলে বাকি যাঁরা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে উমরান মালিকের ফর্ম তথৈবচ। ফলে ক্রমশ চাপ বাড়ছে অভিষেক নায়ারের উপর।
রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল খেলছে জম্মু-কাশ্মীর। অথচ কয়েক বছর আগে সেই দলে যাঁকে তারকা ধরা হত সেই উমরান আর রঞ্জি দলে সুযোগই পান না। তিনি ডিওয়াই পাটিল টি২০ কাপ খেলছেন। আর সেটা খেলতে গিয়েই যা জঘন্য বল করেছেন, তাতে আইপিএলে সেরা ব্যাটারদের বিরুদ্ধে কী করবেন, তা ভাবলেই ভয় হচ্ছে নাইট সমর্থকদের।
টাটা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে মুম্বই কাস্টমসের বিরুদ্ধে দুই ওভারে ৫৯ রান দিয়েছেন উমরান। তার মধ্যে একটি ওভারে এসেছে ৩৬ রান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ২৩ রান দেন উমরান। রাগভেদ মোরে একটি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন। ফলে তাঁকে পাওয়ার প্লে-তে আর বল দেওয়া যায়নি। আবার ১৩তম ওভারে অধিনায়ক শার্দূল ঠাকুর বল তুলে দেন উমরানের হাতে। সেই ওভারেই খেলার ভাগ্য ঠিক করে দেন উমরান।
দ্বিতীয় বলে চার রান দেন উমরান। পরের বলটি নো করেন তিনি। ফ্রি হিটে ছক্কাও খান। তৃতীয় বলে ছক্কা ও চতুর্থ বলে চার রান দেন। ষষ্ঠ বলে আবার নো করেন উমরান। ফ্রি হিটে চার রান দেন। কিন্তু সেটিও নো ছিল। ফলে আরও একটি ফ্রি হিট পান ব্যাটার। সেই বলে ছক্কা মারেন তিনি। ফলে ওভারে ৩৬ রান দেন উমরান। একটিও উইকেট পাননি ডানহাতি পেসার।
টাটা স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ১৯৩ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬ ওভারে জিতে যায় কাস্টমস। তাতে উমরানের দুই ওভারের বড় অবদান রয়েছে। ৪৬ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন মোরে।
২০২৫ সালের আইপিএলের আগে নিলামে ৭৫ লক্ষ টাকায় কেকেআর কিনেছিল উমরানকে। কিন্তু প্রতিযোগিতার আগেই চোট পান তিনি। ফলে পরিবর্ত পেসার হিসাবে চেতন সাকারিয়াকে নেয় কেকেআর। এ বারও উমরান কলকাতার দলেই রয়েছেন। আইপিএলের আগে ডিওয়াই পাটিল টি২০ প্রতিযোগিতায় একেবারেই ছন্দে নেই তিনি। এর আগে এক ম্যাচে চার ওভারে ৪১ রান দিয়েছিলেন তিনি।
নিলামের পর থেকে চাপ বাড়ছে কেকেআরের পেস আক্রমণে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগে হাঁটুতে চোট পান হর্ষিত রানা। ফলে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েন। হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। এখনও সুস্থ হতে পারেননি। কেকেআরের আর এক পেসার শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানা বিশ্বকাপের মাঝে পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে কেকেআরের পেস আক্রমণে বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগী, আকাশদীপের পাশাপাশি ছিলেন উমরান। যদি হর্ষিত ও পাথিরানা সুস্থ হতে না পারেন তা হলে এই ভারতীয় পেসারদের উপরেই ভরসা করতে হবে কোচ অভিষেককে। কিন্তু আইপিএলের আগে উমরানের ফর্ম চিন্তা বাড়াচ্ছে কেকেআরের।