সাহিবজ়াদা ফারহান। —ফাইল চিত্র।
তিন বার মুখোমুখি হয়েছিলেন জসপ্রীত বুমরাহের। কিন্তু তিন বারের লড়াইয়ে সাহিবজ়াদা ফারহানকে এক বারও আউট করতে পারেননি বুমরাহ। উল্টে ভারতীয় পেসারের বলে তিনটি ছক্কা মেরেছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটার। গত বছর এশিয়া কাপে বুমরাহের সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ নিয়ে ছ’মাস পর আবার মুখ খুললেন ফারহান।
‘ইএসপিএন ক্রিকইনফো’-র একটি ভিডিয়োতে ফারহান জানিয়েছেন, শুরুতে বুমরাহ তাঁকে যথেষ্ট সমস্যায় ফেলেছিলেন। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, বুমরাহকে তো শুরুতে খেলতেই পারছিলাম না। ও বলের গতির হেরফের করছিল। ইয়র্কার, বাউন্সার করছিল। কোনও বল ঢুকছিল। কোনও বল বাইরের দিকে যাচ্ছিল। খুব সমস্যা হচ্ছিল। সেই সময় আমাকে পাল্টা আঘাতের কথা ভাবতে হয়েছিল। সেই রাস্তা বার করেছিলাম।”
কী পরিকল্পনা করে বুমরাহের বিরুদ্ধে তিনটি ছক্কা মেরেছিলেন ফারহান? পাক ব্যাটার বলেন, “ঠিক করেছিলাম, ওর বলে আউট হব না। তা হলেই ও আউট করার জন্য বেশি বৈচিত্র করার চেষ্টা করবে। তাতে আমার সুবিধা হবে। সেটাই হল। খেয়াল করলে দেখবেন, বুমরাহকে প্রতিটা ছক্কা মেরেছি লেংথ বলে। ও আমার শরীরে বল করেছিল। দুবাইয়ের উইকেট মন্থর ছিল। ফলে বল ভাল উচ্চতায় আসছিল। নিজেকে আগে থেকেই তৈরি রেখেছিলাম। তাই ছক্কা মারতে পেরেছি।”
বুমরাহের বিরুদ্ধে হাত খোলায় বাকিদের বিরুদ্ধেও রান করতে সুবিধা হয়েছিল ফারহানের। আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। ফারহান বলেন, “আপনি যখন দলের সেরা বোলারকে ছক্কা মারবেন, তখন বাকিরা এমনই ঘাবড়ে যাবে। আমার সঙ্গে সেটাই হয়েছিল। বুমরাহের বলে বড় শট খেলে আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গিয়েছিল। সেই সুবিধাও কাজে লাগাতে পেরেছি।”
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (সাত ম্যাচে ২১৭) রান করেছিলেন ফারহান। কিন্তু ফাইনাল-সহ তিনটি ম্যাচেই ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভাল খেলেছেন ফারহান। দু’টি শতরান ও দু’ঠি অর্ধশতরান সহ ৩৮৩ রান করেছেন তিনি, যা সর্বাধিক। কিন্তু তার পরেও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আগে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান।