পাকিস্তান ক্রিকেট দল। — ফাইল চিত্র।
ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না চেয়ে বিপদে পড়েছে পাকিস্তান। নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে কড়া শাস্তি পেতে হতে পারে তাদের। সেই শাস্তি থেকে বাঁচতে বিরল একটি নিয়মের আশ্রয় নিতে চাইছে তারা। তবে ভারতের দাবি, সেই নিয়ম ধোপে টিকবে না। ‘দুর্বল যুক্তি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে ভারতের তরফে।
সেই নিয়মের নাম ‘ফোর্স ম্যাজেউর’। অপ্রত্যাশিত কোনও পরিস্থিতির জেরে কোনও চুক্তি পালন করা না গেলে, এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়। সেই নিয়মই আইসিসি-র কাছে পেশ করতে চাইছে পাকিস্তান।
পাক বোর্ডের একাংশের দাবি, আইসিসি-কে এই নিয়ম উল্লেখ করে বলা হবে, পাকিস্তানের সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে তা ক্রিকেট বোর্ডের হাতের বাইরে। সেই নির্দেশিকা মেনে চলতে তারা বাধ্য। তাই ভারত-ম্যাচ খেলতে পারবে না। এক কর্তা বলেছেন, “এই একটি নিয়ম ছাড়া ম্যাচ না খেলার পিছনে পাকিস্তানের কাছে আর কোনও যুক্তি নেই।”
অতীতে দেখা গিয়েছে, সরকারের নির্দেশে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ় যায়নি শ্রীলঙ্কায়। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে যায়নি জ়িম্বাবোয়েতে। দুই ক্ষেত্রেই কোনও শাস্তি বা জরিমানা হয়নি। এ বারই প্রথম এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার নেপথ্যে জোরালো কোনও কারণ নেই। কী ভাবে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ নিয়ম উল্লেখ করে পাকিস্তান সেটাই দেখার। যদি খেলাটি ভারতে থাকত তা হলে পাকিস্তানের হাতে যুক্তি থাকত। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ইচ্ছাতেই খেলাটি শ্রীলঙ্কায় হচ্ছে।
ভারতীয় বোর্ডের এক কর্তা বলেছেন, “যে দিন পাকিস্তানের সরকার ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বয়কটের কথা ঘোষণা করল, সে দিনই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলল। এই নিয়মে বরফ গলবে না। তা ছাড়া পাকিস্তান সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে বিশেষ কোনও পার্থক্য নেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বোর্ডের মুখ্য কর্তা। বোর্ডের প্রধান সে দেশের সরকারের মন্ত্রী।”
তিনি আরও বলেছেন, “পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ বোর্ড ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলছে। ভারত নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও বাংলাদেশ আসতে চায়নি। পাকিস্তানও অদ্ভুত সব কারণ দেখাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এমনিতেই নিরপেক্ষ দেশে হবে। তার পরেও ম্যাচ বয়কট করার কোনও অর্থ নেই।”
উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।”
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বলেছিল, “জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী, যাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাঁদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়।” আইসিসি জানিয়েছিল, তারা প্রত্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি লিখেছিল, “পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের উপর এর সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।”