ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন মহসিন নকভি। —ফাইল চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বেঁকে বসেছিল পাকিস্তান। দেশের সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে না তারা। আট দিন পর সেই সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান। তার নেপথ্যে আসল নায়ক কে ছিলেন, তা জানিয়ে দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি।
রবিবার ভারতের কাছে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। একতরফা হারের পর পাকিস্তানের সুপার এইটে ওঠার রাস্তা কঠিন হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন নকভি। সেখানে ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়কে। তাঁর সঙ্গে দেখা হয় নকভির। পরের দিন আবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন পাক বোর্ডের প্রধান। দিসানায়কেকেই সমস্যা মেটানোর কৃতিত্ব দিয়েছেন নকভি।
পাকিস্তান সরকার যখন নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় তখন দিসানায়কে ফোন করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফকে। তার পরেই সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান। নকভি দিসানায়কেকে বলেন, “পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জ়ারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ আপনাকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন। সত্যি বলতে কি গতকালের ম্যাচ হওয়ার নেপথ্যে আপনিই আসল নায়ক। আপনার জন্যই ২০০ কোটি মানুষ খেলা দেখেছে। আনন্দ পেয়েছে। শুধুমাত্র আপনার জন্যই এই ম্যাচটা আমরা খেলেছি।”
নকভি জানিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে না নামার একাধিক কারণ তাঁদের কাছে ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে ঢুকে পড়ার পর নিজেদের অবস্থান থেকে সরেন তাঁরা। পাক বোর্ডের প্রধান বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু আপনার ফোন পাওয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, ‘আর কোনও সমস্যা নেই। ম্যাচটা আমরা খেলব।’ আপনি যে এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তাতে আমি খুব খুশি।”
পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে না চাওয়ার পর আইসিসি দফায় দফায় তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পাকিস্তানের উপর চাপ দেয় তারা। নির্বাসনের আশঙ্কাও ছিল। পাশাপাশি সম্প্রচারকারী সংস্থাও পাক বোর্ডকে চাপ দিচ্ছিল। সেই সময়ই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দিসানায়কে ফোন করেন শাহবাজ়কে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও পাকিস্তানে গিয়ে নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললেও পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার অনুরোধ করেন তিনি। আইসিসিও জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ বয়কট করায় বাংলাদেশের কোনও শাস্তি হবে না। এই ঘটনার পর সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান। নকভি তখন জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ম্যাচ বয়কট করেছিলেন তাঁরা। আইসিসি বাংলাদেশের দাবি মেনে নেওয়ায় তাঁরা সিদ্ধান্ত বদলেছেন। এত দিন পর এ বার দিসানায়কের নাম শোনা গেল নকভির মুখে।