পাকিস্তান ক্রিকেট দল। —ফাইল চিত্র।
বার বার দলের ব্যর্থতায় বিরক্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এ বারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। তার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বে আবার হারতে হয়েছে ভারতের কাছে। এ বার আর হাত গুটিয়ে বসে থাকছে না পাকিস্তান বোর্ড। খারাপ খেলায় বোর্ডের শাস্তির মুখে সলমন আলি আঘারা।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিশ্বকাপের দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের কাছে হারের পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান বোর্ড। কিন্তু অপেক্ষা করেছিল তারা। যদি সলমনেরা সেমিফাইনালে উঠতে পারতেন, তা হলে হয়তো শাস্তি দেওয়া হত না। কিন্তু সেটা না হওয়ায় শাস্তি দিয়েছে মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড।
সাধারণত, কোনও দল প্রতিযোগিতায় সফল হলে সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড আর্থিক পুরস্কার দেয়। তাই ব্যর্থ হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে পাক ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপের এই পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে রিপোর্টে। সলমনের অধিনায়কত্বে খুশি নয় বোর্ড। বাবর আজ়ম, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির পারফরম্যান্সও প্রশ্নের মুখে। পাকাপাকি ভাবে তিন সিনিয়র ক্রিকেটারকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তবে পাকিস্তান বোর্ডের এই শাস্তির নির্দেশ নিয়ে একটিই প্রশ্ন রয়েছে। পাক ওপেনার সাহিবজ়াদা ফারহান ছয় ম্যাচে ৩৮৩ রান করেছেন। বিশ্বকাপে সর্বাধিক রানের তালিকায় সকলের উপরে তিনি। দু’টি শতরান করেছেন। ১৮টি ছক্কা মেরেছেন। দল ব্যর্থ হলেও ফারহান নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের যেটুকু সাফল্য তার নেপথ্যে এই ওপেনার। তা হলে বাকিদের খারাপ খেলার দায় তাঁকেও কেন নিতে হবে? কেন জরিমানা দিতে হবে ফারহানকেও?
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে ফারহান ছাড়া বাকি সকলকে দায়ী করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি সিনিয়র ক্রিকেটারেরা। মিডল অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। বোলিংয়েও সমস্যা হয়েছে। দলে কিছু বদলের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। কিন্তু বোর্ড এতটা হালকা ভাবে বিষয়টি নিচ্ছে না। কড়া পদক্ষেপ করেছেন নকভিরা।