পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে কি না, পাকিস্তান তা জানাবে আগামী শুক্রবার বা সোমবার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এই কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানের এই টালবাহানা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান অত্যন্ত বুদ্ধি করে ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলবে। মনে করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের মাঝপথে ১০ ফেব্রুয়ারি বা তার পরের দিন পাকিস্তান কোনও একটা সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম দু’টি ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস এবং ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে। অঘটন না ঘটলে প্রথম দুটি ম্যাচে জিতে পাকিস্তান যদি সুপার এইটে ওঠা নিশ্চিত করে ফেলে, তা হলে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তারা বয়কট করতে পারে। এই ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা। ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ম্যাচের পর পাকিস্তান জানিয়ে দিতে পারে যে, তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না।
একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘‘পাকিস্তান যদি প্রথম দুটো ম্যাচেই জিতে যায়, তা হলে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।’’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘‘পিসিবি বিশ্বকাপ চলাকালীন তাদের প্রতিবাদের ব্যাপারে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।’’
গত সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন পিসিবি প্রধান নকভি। বৈঠকের পর নকভি জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা সোমবার নেওয়া হবে। বৈঠক শেষে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আইসিসির অবস্থান এবং গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান করব।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।’’ সঙ্গে শাহবাজের সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিয়েছিলেন নকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নকভি। তিনি গত শনিবার জানিয়েছিলেন, পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন তাঁরা। সোমবার শাহবাজের সঙ্গে সেই বৈঠক করেছিলেন পিসিবি প্রধান।
পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ভাল ভাবে নেয়নি জয় শাহের আইসিসি। নকভিরা বিশ্বকাপ বয়কট করলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। আইসিসির সব সদস্য দেশই পাকিস্তানের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ মূল সমস্যার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই। প্রয়োজনে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করে রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে পারে আইসিসি।
সমস্যার শুরু আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বাদ দেওয়ায়। ভারতে তাদের ক্রিকেটার, সমর্থক, কর্তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত নয় জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আইসিসি সব খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশঙ্কা নিয়ে বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বার আলোচনাও করেছেন আইসিসি কর্তারা। কিন্তু বাংলাদেশের অনড় মনোভাবে অসন্তুষ্ট হন আইসিসির বোর্ড সদস্যেরা। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের দাবি খারিজ হয়। পরিবর্ত দেশ হিসাবে ক্রমতালিকার ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দিয়েছে আইসিসি।