রবিচন্দ্রন অশ্বিন। —ফাইল চিত্র।
জয় শাহের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের প্রাক্তন স্পিনারের দাবি, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখবেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা। ঘন ঘন বড় প্রতিযোগিতা হওয়ায় আকর্ষণ হারাচ্ছে বিশ্বকাপ। এ জন্য আইসিসির পরিকল্পনাকেই দুষেছেন অশ্বিন।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কী বাত’-এ আইসিসিকে একহাত নিয়েছেন অশ্বিন। তিনি বলেছেন, ‘‘এ বার কেউ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখবে না। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে খেলাগুলো দেখুন। ভারত-আমেরিকা, ভারত-নামিবিয়া! এই সব ম্যাচের প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ থাকে না। ভারত প্রথম দিকের ম্যাচগুলো ইংল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশের সঙ্গে খেললেও একটা আকর্ষণ থাকত।’’ দলের সংখ্যাবৃদ্ধিকেও ভাল ভাবে নিচ্ছেন না অশ্বিন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দলের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রতিযোগিতার মান কমছে। দলগুলির মানের পার্থক্য অনেক বেড়ে গিয়েছে। এ ভাবে আকর্ষণ ধরে রাখা যায় না।’’
ঘন ঘন বড় মাপের প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে অশ্বিন। প্রাক্তন অফ স্পিনার কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘আগে চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ হত। প্রতিযোগিতার একটা আকর্ষণ থাকত। উত্তেজনা থাকত। এখন প্রতিবছরই আইসিসির প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ঘন ঘন প্রতিযোগিতা হওয়ায় আকর্ষণ হারাচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমি স্কুলে পড়ার সময় বিশ্বকাপ এত ঘন ঘন হত না। ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩। নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্বকাপ দেখতাম আমরা। বিশ্বকাপের কার্ড সংগ্রহ করতাম। সূচি টাঙিয়ে রাখতাম দেওয়ালে। কত উত্তেজনা থাকত।’’ অশ্বিনের যুক্তি, ‘‘একের পর এক প্রতিযোগিতায় ক্রিকেটপ্রেমীরা মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। বেশি দিলে আগ্রহ বাড়ে না। বরং কমে।’’
ক্রিকেটের প্রসারের বিরুদ্ধে নন অশ্বিন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে দল বৃদ্ধি ক্রিকেটের প্রসারের পদ্ধতি হতে পারে না। তিনি বলেছেন, ‘‘বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্বকাপের মান বিসর্জন দিয়ে এটা করতে হবে? প্রতিযোগী দলগুলোর ভারসাম্য না থাকলে, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতারও আকর্ষণ ধরে রাখা যাবে না।’’
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পর এক দিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দিহান অশ্বিন। তিনি বলেছেন, ‘‘জানি না আগামী বিশ্বকাপের পর এক দিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কী। বিজয় হজারে ট্রফির কিছু ম্যাচ দেখেছি। অনেক খেলোয়াড়ের মানসিকতা ৫০ ওভারের ম্যাচের মতো নয়। দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা এ বার খেলেছে। মানুষের মধ্যেও বিজয় হজারে ট্রফি নিয়ে ভাল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। খেলোয়াড় কখনও খেলার চেয়ে বড় হতে পারে না। তবু কোনও কোনও সময় কিছু খেলোয়াড়ের জন্যও প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এ বারের বিজয় হজারেই তার প্রমাণ। না হলে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা কত জন দেখেন? কিন্তু কোহলি-রোহিত এক দিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলে কী হবে জানি না।’’