রোমি ভিন্ডার। ছবি: এক্স।
আইপিএলের আচরণবিধি ভঙ্গের শাস্তি পেলেন রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্ডার। ম্যাচের সময় ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার করায় তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। ভিন্ডারকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
গত ১০ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচের সময় ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার করেছিলেন ভিন্ডার। সে সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। যা আইপিএলের আচরণবিধির সম্পূর্ণ বিরোধী। সেই ঘটনায় ভিন্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল বোর্ড। পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন এবং নিরাপত্তা শাখা তদন্ত শুরু করে। মোবাইল ব্যবহারের কারণ হিসাবে অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। মোবাইলে শারীরিক সমস্যার সামাধান খুঁজছিলেন তিনি। ভিন্ডার আরও দাবি করেছেন, বৈভব পাশে থাকলেও সে সময় তিনি ব্যাটারের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করেছেন। এর পর তাঁকে মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর যুক্তিতে সন্তুষ্ট হওয়ায় তদন্তকারীরা নির্বাসন বা কোনও কড়া শাস্তি দেননি।
বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘দুর্নীতি দমন এবং নিরাপত্তা শাখা তদন্ত করেছে। অভিযোগ আসার পরই রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষকে সরকারি ভাবে সতর্ক করা হয়। তদন্তের পর ভিন্ডারকেও সতর্ক করা হয়েছে। জরিমানাও করা হয়েছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, শারীরিক সমস্যার কারণেই তিনি ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার করেছিলেন। বৈভবের সঙ্গে তিনি কোনও কথা বলেননি। আর বৈভব বাচ্চা ছেলে। ও ফোনের দিকে তাকিয়েছিল ঠিকই। ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির উচিত ওকে নিয়মগুলো ভাল করে শিখিয়ে দেওয়া। ওকে শুধু শুধু সন্দেহ করা ঠিক নয়।’’
জানা গিয়েছে, ভিন্ডার বেশ কিছু দিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। আইপিএল শুরুর বেশ কিছু দিন আগে প্রায় এক মাস নাগপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মধ্যে এক সপ্তাহের মতো ভেন্টিলেটরে ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা তাঁর বাঁচার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন প্রায়। তাঁর দু’টি ফুসফুসই ছোট হয়ে গিয়েছে। অসুস্থতার কারণে প্রায় ১০ কিলোগ্রাম ওজন কমে গিয়েছে তাঁর। হাঁপানির কারণে বেশি হাঁটাহাঁটি করতেও সমস্যা হয় ভিন্ডারের। ক্রিকেটের প্রতি টান থেকেই সুস্থ হওয়ার পর আবার রাজস্থান ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজস্থান কর্তৃপক্ষও তাঁকে যতটা সম্ভব সাবধানে রাখার চেষ্টা করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন কোনও ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফ সাজঘরে বা ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না। শুধু দলের ম্যানেজারের কাছে মোবাইল থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তিনিও মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না। সাজঘরের বাইরে ব্যবহার করতে পারেন না। ব্যবহার করলে তার কারণ জানাতে হয় বিসিসিআইকে।