ফুরফুরে: নেটে ঝড় তোলার আগে বিশ্রাম বৈভবের। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।
রাজস্থান রয়্যালস অনুশীলনের মাঝেই হঠাৎ ‘কে’ ব্লকের গ্যালারি থেকে শোনা গেল ‘বৈভব ভাইয়া... বৈভব ভাইয়া...’ চিৎকার। কিছুক্ষণ পরে বোঝা গেল, ১৫ বছরের বিস্ময় বালককে দেখতে হাজির হয়েছে, তার থেকেও ছোট ভক্তেরা। তাদের গড় বয়স, ১২-১৩ হবে! কারও হাতে ফোন নেই। আছে অটোগ্রাফের খাতা ও বৈভবের কিছু পোস্টার। নিজস্বী তোলার ভিড় নয়, এক বার বৈভবের সঙ্গে দেখা করার আশা। তাদের মধ্যে সকলেই হয়তো বৈভবের মতোই ক্রিকেটার হতে চায়।
১৫ বছরের এই শক্তিশালী ছেলেটি যা পেরেছে, অনেক ক্রিকেটারই তা পারবে না। ভারতের সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার আগেই আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের প্রেরণা হয়ে উঠেছে। ‘কে’ ব্লকে অপেক্ষারত খুদে ভক্তদের আশায় জল ঢেলে বৈভব চলে যেতেই পারত। কিন্তু সে যায়নি। এক দিন সে নিজেও তো গ্যালারির জালের অন্য প্রান্তে ছিল। বাবার বন্ধুর সঙ্গে খেলা দেখতে এসেছিল ইডেনে। সেই দিনটা হয়তো মনে পড়ে গিয়েছিল বিধ্বংসী ওপেনারের। রবিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচ হলেও মাঠে ভিড় হবে এক জনকে দেখতেই। সেবৈভব সূর্যবংশী।
বৈভবের ছোটবেলার কোচের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কলকাতায় মরসুমের প্রথম ম্যাচ দেখতে আসছে তার মা, বাবা ও দাদা। মণীশ ওঝা বলছিলেন, ‘‘কলকাতা আমাদের শহর থেকে খুব একটা দূরে না। সপরিবারে ওর ম্যাচ দেখতে আসছে। আমিও চেষ্টা করছি কলকাতায় যাওয়ার। গত বার পারিবারিক কারণে পারিনি। কিন্তু এ বার ইচ্ছে আছে।’’
মা-বাবার সামনে গত বার বড় রান করতে পারেননি বৈভব। একটি চার মেরেই ফিরে গিয়েছিল ড্রেসিংরুমে। কিন্তু এ বার ভাল ছন্দে বৈভব। গত ম্যাচে যদিও শূন্য রানে আউট হয়েছে। ছন্দে ফেরার বাড়তি খিদে দেখা যাচ্ছে তাঁর মধ্যে। নেটে প্রায় ২০ মিনিট ব্যাট করল। একাধিক বলও পাঠাল গ্যালারিতে। মোট আটটি ছক্কা হাঁকাতে দেখা গেল তাঁকে। আউটও হল পাঁচ বার। দু’বার স্পিনারের বিরুদ্ধে স্টাম্পড। নান্দ্রে বার্গারের বলে দু’বার বোল্ডও হল। এক বার তাঁকে আউট করলেন অ্যাডাম মিলনে। রবিবার বৈভবের ব্যাটে বড় ইনিংস দেখা যায় কি না অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
বৈভবের পাশাপাশি যশস্বী জায়সওয়ালও নেটে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটালেন। স্পিনারদের বিরুদ্ধেই বেশি ব্যাট করতে দেখা গেল তাঁকে। অন্য দিকে স্পিনার হলেও বাউন্সারের অনুশীলন করলেন রবি বিষ্ণোই। ক্রুণাল পাণ্ড্যর মতো তিনিও বাউন্সার দেওয়ার চেষ্টা করে গেলেন ক্রমাগত। ব্যাটসম্যানকে রীতিমতো বিভ্রান্ত করছিলেন। ছন্দে ফেরার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন অধিনায়ক রিয়ান পরাগও। রবিবার ইডেনে শেষ হাসি কারা হাসে দেখার।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে