(বাঁ দিকে) জিতেশ শর্মা এবং বৈভব সূর্যবংশী (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
বৈভব সূর্যবংশীর পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচকদের বিরুদ্ধে সরব রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর উইকেটরক্ষক ব্যাটার জিতেশ শর্মা। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছরের ব্যাটারকে অপেশাদার বললেও দোষারোপ করেননি। বরং প্রশংসাই করেছেন জিতেশ।
আরসিবির পডকাস্টে এবি ডিভিলিয়ার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জিতেশ। সেখানেই বৈভবকে নিয়ে কথা বলেছেন বিরাট কোহলির সতীর্থ। জিতেশ বলেছেন, ‘‘বৈভব আমার খুব ভাল বন্ধু। আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ। আমি ওকে যা খুশি বলতে পারি।’’ ডিভিসিয়ার্স প্রশ্ন করেন, ‘‘তোমার মতে কোন তরুণ ক্রিকেটার ভবিষ্যতে ভারতীয় দলে খেলতে পারে বা তারকা হয়ে উঠতে পারে?’’ জিতেশ পরে আর একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘সঙ্গে সঙ্গে আমার মুখে বৈভবের নাম এসেছে। টেকনিক, মানসিকতা এবং কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতার জন্যই বৈভবকে বেছে নিয়েছি। আমার তো মনে হয় বৈভব তিন ধরনের ক্রিকেটেই দাপট দেখাবে। মাঠে ওকে এই বয়সেই দারুণ পেশাদার মনে হয়। কিন্তু আসলে তা নয়।’’
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বৈভবের বয়স এবং সেই অনুযায়ী স্বাভাবিক আচরণের কথা বলেছেন। আরসিবির উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের বক্তব্য, ‘‘বৈভব ১৫ বছরের বাচ্চা। আইসক্রিম খেতে খুব ভালবাসে। আমার ঘরে আসত। প্রায়ই আইসক্রিম খেত। আমি অবশ্য খেতাম না। একটা বাচ্চা তো আইসক্রিম খেতে চাইবেই। এতে অস্বাভাবিক আছে? বৈভব আমাদের বাড়িতেও আসে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করে। ইউটিউবে ভিডিয়ো দেখে। বৈভব আমার ছোট ভাইয়ের মতো।’’
বৈভবকে নিয়ে এখন থেকেই সমাজমাধ্যমে যে সব সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা পছন্দ নয় জিতেশের। বেশ বিরক্তই তিনি। এ নিয়ে জিতেশ বলেছেন, ‘‘যে যা পারে বলুক। আমি এগুলো পাত্তাও দিই না। অনেকেই মনে করেন, বৈভবের আরও পেশাদার হওয়া উচিত। কারণ এই বয়সেই ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করছে। মাথায় রাখা উচিত ওর বয়স মাত্র ১৫। খুবই বাচ্চা ছেলে। বাচ্চাদের বাচ্চার মতোই থাকতে দেওয়া উচিত। আমার সঙ্গে থাকলে যা খুশি করে। কোন ভাবেই আমি ওকে বিচার করতে রাজি নই। আমিই তো বৈভবকে বলি, তোর বয়স এখন ১৫। টেলিভিশন দেখবি। যা খুশি খাবি। তবে ব্যাটিং নিয়ে সব সময় যত্নশীল থাকবি। খুশি মনে থাকবি।’’
জিতেশ বুঝিয়ে দিয়েছেন, ১৫ বছরের একটা ছেলের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করাই ভুল। ভাল খেলছে বলে, কৈশোর নষ্ট করার কোনও অর্থ হয় না। বৈভবকে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দেওয়া উচিত।