বৈভব সূর্যবংশী। — ফাইল চিত্র।
আইপিএল ক্রমশ ব্যাটারদের খেলা হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে অনেক দিন ধরেই। চলতি মরসুমে বহু বার ২০০ রান পেরিয়েছে এক ইনিংসে। ব্যাট-বলের ভারসাম্য আনতে তিনটি পরামর্শ দিলেন সচিন তেন্ডুলকর। পাশাপাশি বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।
এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের অনুষ্ঠানে গিয়ে সচিন বলেছেন, “ব্যক্তিগত ভাবে আমি বলতে পারি, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটা উঠিয়ে দেওয়া উচিত। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মাত্র ২০টা ওভার খেলতে হয়। সেখানেও যদি একজন অতিরিক্ত ব্যাটারকে দলে নেন তা হলে মুশকিল। বোলারেরা ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে। এখানে একেবারেই ভারসাম্য নেই।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ থেকে আইপিএলে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম চালু হয়েছে।
শুধু এটিই নয়, আরও দু’টি পরামর্শ দিয়েছেন সচিন। তিনি বলেছেন, “পাওয়ার প্লে-র প্রথম ছ’ওভারে ফিল্ডিং নিয়ে বিধিনিষেধ থাকে। মাত্র দু’জন থাকে বৃত্তের বাইরে। আমার মতে, ব্যাটারদের জন্য প্রথম চার ওভার ফিল্ডিংয়ের বিধিনিষেধ থাকুক। পরের দু’ওভারে ফিল্ডিং সাজানোর ভার দেওয়া হোক বোলিং দলের অধিনায়কের হাতে। তিনি যখন খুশি সেটা নিতে পারবেন।”
সচিনের সংযোজন, “বাকি দুটো ওভারে আরও একজন ফিল্ডার বাইরে থাকতে পারে। সেটা ম্যাচের যে কোনও সময়ে নেওয়া যেতে পারে। তা হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভাল ভাবে করা যাবে।”
সচিনের তৃতীয় পরামর্শ হল, যে কোনও একজন বোলার পাঁচ ওভার বল করতে পারবেন। তাঁর যুক্তি, “দলের সেরা বোলারের উচিত পঞ্চম ওভার বল করা। আপনি কি সেরা বোলারকে অতিরিক্ত একটা ওভার করতে দেখতে চান না। সেরা ব্যাটারেরা তো ২০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে পারে। তা হলে সেরা বোলার কেন একটা বাড়তি ওভার বল করবে না?”
ক্রমশ উঠে আসে বৈভবের কথা। তাঁকে ‘বিশেষ প্রতিভা’ বলে বর্ণনা করে সচিন জানিয়েছেন, ‘স্বাভাবিক ভঙ্গিতে খেলা উচিত’। সচিনের কথায়, “সকলেই বৈভবকে নিয়ে কথা বলছে। আমিও ওর খেলা দেখেছি। অসাধারণ লেগেছে। ওর মধ্যে বিশেষ প্রতিভা রয়েছে। শুধু শট মারার দক্ষতাই নয়, বৈভবের কব্জির মোচড়েও অনন্য একটা ব্যাপার রয়েছে। মাঠের যে কোনও দিকে শট খেলার জন্য কব্জির মোচড় দরকার নয়। শুধুই চালিয়ে খেলে না। বাকিদের থেকে আগে বলের লাইন এবং লেংথ ধরে ফেলে। তাই সহজেই বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে পারে।”
১৫ বছরের ক্রিকেটারের উদ্দেশে পরামর্শও দিয়েছেন সচিন। বলেছেন, “ও নিজের মতো খেলুক। এটাই বলতে চাই। সব কিছুর প্রথম বার থাকে। টেস্টে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে শিখে যাবে। সমস্যা সব সময়ে থাকবে। কেরিয়ারের শেষ দিন, শেষ বল পর্যন্ত। তাই বলে কি নিজের কাছে সমাধান থাকবে না। বৈভবকে দেখে সব সময়েই আত্মবিশ্বাসী মনে হয়। আশা করি ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তি নিয়েই খেলে যাবে।”