পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা (বাঁ দিকে) ও ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। —ফাইল চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যদি পাকিস্তান ভারত-ম্যাচ বয়কট করে তা হলে সাক্ষাৎ হবে না দুই অধিনায়কের। বিশ্বকাপের আগেও দেখা হল না সূর্যকুমার যাদব ও সলমন আলি আঘার। মঞ্চ ভাগ করলেন না তাঁরা। বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নাটক কমছে না। এখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় পাকিস্তান। পাল্টা ভারতও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। দুই মেরুতে দুই দেশের অধিনায়ক।
শনিবার থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে বৃহস্পতিবার অধিনায়কদের সাংবাদিক বৈঠক ছিল। নিয়ম মেনে সকল অধিনায়ককে সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়। কিন্তু এ বার ২০ দেশের অধিনায়কের একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক হয়নি। তাঁদের ব্যাচে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এক ব্যাচ সাংবাদিক বৈঠক করেন শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে। সেখানে ছিলেন পাক অধিনায়ক সলমন। আর এক ব্যাচ সাংবাদিক বৈঠক করেন ভারতের মুম্বইয়ে। সেখানে ছিলেন সূর্যকুমার।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আইসিসিও দুই দেশকে একমঞ্চে রাখতে চাইছে না। ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে না গেলেও সাংবাদিক বৈঠকে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও পাক অধিনায়ক মহম্মদ রিজ়ওয়ান একমঞ্চেই ছিলেন। এশিয়া কাপেও সূর্য-সলমন একমঞ্চে ছিলেন। যদিও হাত মেলাননি তাঁরা। কথাও বলেননি। কিন্তু এ বার দুই অধিনায়কের দেখাই হল না।
ভারত-ম্যাচ বয়কট নিয়ে নিজের অবস্থান বদলাননি সলমন। আরও একবার দেশের সরকারের হাতেই সিদ্ধান্ত ছেড়েছেন তিনি। সলমন বলেন, “ভারত-ম্যাচ আমাদের হাতে নেই। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা তাকে সম্মান জানাই। সরকার যা বলবে সেটাই মানব।” যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, তা হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনেই তাঁরা চলবেন বলে জানিয়েছেন সলমন। তিনি বলেন, “আবারও বলছি, আমাদের হাতে কিছু নেই। যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারতের সামনে পড়ি, তা হলেও সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে চলব।”
তা হলে কি এ বারের বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হবেন দর্শকেরা? জবাবে সলমন বলেন, “আরও তিনটে ম্যাচ তো আছে। সেগুলোর মজা নেবে সকলে।” অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে নামছেন সলমন। অতীত মনে রাখতে চাইছেন না তিনি। সলমন বলেন, “হ্যাঁ, আগের বিশ্বকাপে আমরা আমেরিকার কাছে হেরেছিলাম। কিন্তু এ বার নতুন বিশ্বকাপ। পুরনো কথা মনে রাখছি না। প্রথম বার অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপে নামছি। ভাল ফল করার চেষ্টা করব।”
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদেই ভারত-ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না থাকায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন সলমন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি ওদের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ওদের বিশ্বকাপে না খেলা দুঃখজনক।”
সূর্যকুমার অবশ্য মুম্বইয়ে বসে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা সূচি অনুযায়ীই সব করবেন। কারণ, বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান নিয়েছে। ভারত নয়। সাংবাদিক বৈঠকে ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমাদের কথা পরিষ্কার। আমরা বলিনি ওদের সঙ্গে খেলব না। ওরা বলেছে। আমাদের বিমানের টিকিট কাটা আছে। প্রথমে আমরা এখানে খেলব। এখান থেকে দিল্লি যাব। তার পর কলম্বো যাব। ওদের সিদ্ধান্ত আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
পাকিস্তানের সরকার ভারত-ম্যাচ বয়কটের কথা ঘোষণা করলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি। ফলে জটিলতা আরও বেড়েছে। যদি পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে, তা হলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম মেনে ভারতকে কলম্বো যেতেই হবে। তবেই তাদের ২ পয়েন্ট দেবে আইসিসি। নইলে ভারতও শাস্তি পেতে পারে। সেই কারণেই সূর্য জানিয়েছেন, সূচি মেনে যাবেন তাঁরা।
ভারতই যে বিশ্বকাপ জেতার প্রধান দাবিদার, তা স্বীকার করে নিলেও সতর্ক সূর্য। ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমরা যে ভাবে খেলছি তাতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিদার। কিন্তু আরও ১৯টা দল রয়েছে। ওদের সম্মান করি। আমার ফর্ম ঠিক সময়ে ফিরছে। তাই অনেকটা ফুরফুরে লাগছে। আশা করি বিশ্বকাপে ভাল খেলব।”