হাসপাতালে বাবা সঞ্জয়ের (বাঁ দিকে) সঙ্গে অনয়া। ছবি: সমাজমাধ্যম।
সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন আগেই। সেই মতো শনিবার লিঙ্গ নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচার করালেন অনয়া বঙ্গার। তাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার হয়েছে। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে সে কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বঙ্গারের সন্তান অনয়া। সঙ্গে ধন্যবাদ দিয়েছেন বাবাকে।
অনয়ার পোস্ট করা বার্তার সঙ্গে একটি ছবিও রয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের বেডে শুয়ে অনয়া। পাশে তাঁর বাবা। এই অস্ত্রোপচারের যাবতীয় খরচ বহন করেছেন সঞ্জয়ই।
লম্বা বার্তায় অনয়া জানিয়েছেন, জীবনের যাত্রাপথে কত কঠিন মুহূর্তের সামনে পড়তে হয়েছে তাঁকে। লিখেছেন, “এই যাত্রাটা শুধু আমার নয়, পরিবারের জন্যও সহজ ছিল না। বোঝা, মেনে নেওয়া এবং আমার পাশে দাঁড়াতে গিয়ে অনেকটা সময় লেগেছে। রাতারাতি কিছু হয়নি। ধন্দ, প্রশ্ন সকলের মনেই ছিল। আজ এখানে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই আমার।”
অনয়া আরও লিখেছেন, “আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাবাকে পাশে পাওয়ার থেকে বড় কিছু হয় না। রাতারাতি ওঁর সমর্থন আসেনি। যখন সমর্থন পেয়েছি, তা ছিল নিখাদ, নিঃশর্ত এবং শক্তিশালী। এই অস্ত্রোপচার আমার জীবনের অন্যতম বড় ধাপ। তবে বাবা পাশে ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। উন্নতির জন্য সময় লাগে। ভালবাসার জন্য সময় লাগে। তবে সেগুলো এলে জীবনটা খুব সুন্দর হয়ে ওঠে।”
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন অনয়া। ১০ মাসের প্রক্রিয়ার পর আরিয়ান থেকে অনয়া হয়েছিলেন। সে সময় বাবার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল তাঁর। তবে এখন সম্পর্ক স্বাভাবিক। সন্তানের ইচ্ছা মেনে নিয়েছেন বঙ্গার। অনয়ার যে অস্ত্রোপচার হয়েছে তার নাম ‘ভ্যাজিনোপ্লাস্টি’। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পুরুষাঙ্গের জায়গায় কৃত্রিম ভাবে স্ত্রীঅঙ্গ স্থাপন করা হয়েছে। এখন অনয়াকে কিছু দিন বিশ্রামে থাকতে হবে। ছ’মাস মতো খেলতে পারবেন না। পোশাক শিল্পী সাইশা শিন্ডে এবং অভিনেত্রী ত্রিনেত্রা হালদার গুমারাজু এই অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ নিয়েছেন অনয়া। তাইল্যান্ডের যে ক্লিনিকে তাঁরা অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন, অনয়াও সেখানেই করিয়েছেন। এক মাস মতো ওখানে থাকতে হবে তাঁকে।
অনয়া আগে বলেছিলেন, ‘‘এই অস্ত্রোপচারের জন্য আমাকে পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি যে লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, তার সঙ্গে আমার কোনও মিল ছিল না। লিঙ্গ নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া নয়। দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে প্রশ্ন করেছি, সত্যিই আমি প্রস্তুত কিনা। মানসিক এবং চিকিৎসা মূল্যায়নেও সাহায্য নিয়েছি।’’