দিল্লির ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত। ছবি: পিটিআই।
আইপিএলে জয়ে ফিরল দিল্লি ক্যাপিটালস। শেষ দু’টি ম্যাচে হেরে লিগ তালিকায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল তারা। শনিবার বেঙ্গালুরুতে আরসিবি-কে হারিয়ে জয়ে ফিরল তারা। শেষ ওভারে ১৫ রান তুলে দলকে জেতালেন ডেভিড মিলার। তবে কেএল রাহুল এবং ট্রিস্টান স্টাবস অর্ধশতরান না করলে জিততে পারত না দিল্লি। প্রথমে ব্যাট করে বেঙ্গালুরু তুলেছিল ১৭৫/৮। জবাবে এক বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জেতে দিল্লি।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি। শুরুতেই বেঙ্গালুরু ওপেনারেরা চাপে ফেলে দেন দিল্লিকে। ফিল সল্ট এবং বিরাট কোহলি মিলে দিল্লির বোলারদের শাসন করতে থাকেন। প্রথম ওভারেই দু’টি চার হজম করেন আকিব নবি। মাঝের তিনটি ওভারে আরসিবি-র রানের গতি কিছুটা কমে গেলেও তা বেড়ে যায় আকিবের দ্বিতীয় ওভারে। দু’টি চার এবং একটি ছয় মেরে সেই ওভার থেকে ১৮ রান নেন সল্ট। পাঁচ ওভারে পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় বেঙ্গালুরু।
ষষ্ঠ ওভারের শুরুতেই ফেরেন কোহলি (১৯)। প্রথম বলেই আউট করেন লুনগি এনগিডি। অফস্টাম্পের বাইরের বল চালিয়েছিলেন কোহলি। কভারে ক্যাচ ধরেন পাথুম নিসঙ্ক। কোহলি ফিরলেও আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান সল্ট। দিল্লির বোলারদের রেয়াত করছিলেন না। কিন্তু সল্টের সঙ্গ দিতে পারেননি বাকি কোনও ব্যাটার। দেবদত্ত পডিক্কল (১৮), রজত পাটীদার (৮) ব্যর্থ। টিম ডেভিড (২৬) চালিয়ে খেলে কিছুটা চেষ্টা করলেও খারাপ শট খেলে আউট হয়ে যান। পরের দিকে রানের গতি বাড়াতে পারেনি বেঙ্গালুরু। তাদের ইনিংস থামে ১৭৫/৮ স্কোরে।
রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় দিল্লি। নিসঙ্ককে ফিরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। এর পরেই দিল্লির ব্যাটিংয়ে ধস নামে। ভুবনেশ্বর পর পর ফিরিয়ে দেন করুণ নায়ার (৫) এবং সমীর রিজ়ভিকে (২)। দলের ধস সামলাতে হাল ধরেন কেএল রাহুল এবং ট্রিস্টান স্টাবস। রাহুল গত কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেও নিজের ‘ঘরের মাঠ’ বেঙ্গালুরুতে রান পেয়েছেন। ৬টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩৪ বলে ৫৭ করে ফিরে যান তিনি। স্টাবসের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি।
রাহুল ফেরার পর স্টাবসের সঙ্গে জুটি গড়েন অক্ষর পটেল। তবে পরিস্থিতির কারণে দু’জনেই কিছুটা ধীরগতিতে খেলতে থাকেন। ১৫তম ওভারে পায়ের পেশিতে টান ধরে অক্ষরের। মাঠে চিকিৎসা করার পরেও খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। নামেন ডেভিড মিলার। এই একটি সিদ্ধান্তই খেলার গতিপথ পাল্টে দেয়। এত ক্ষণ দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ দিল্লির হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। তিন ওভারে উঠেছিল মাত্র ১৪ রান। কিন্তু মিলার নামতেই খেলা পাল্টে যায়।
১৮তম ওভারে ভুবনেশ্বরের থেকে ১২ এবং ১৯তম ওভারে রসিখ দারের থেকে ১০ রান নেয় দিল্লি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫। ম্যাচে একটিও ওভার বল করেননি তিনি। ফলে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিলই। তবু প্রথম দু’বলে ওঠে দু’রান। পরিস্থিতি পাল্টে যায় এর পরেই। শেফার্ডের তৃতীয় এবং চতুর্থ বলে ছয় এবং পঞ্চম বলে চার মেরে দিল্লিকে জিতিয়ে দেন মিলার।