অজিঙ্ক রাহানে। —ফাইল চিত্র।
আইপিএলে দেওয়া হয় ফেয়ার প্লে পুরস্কার। ম্যাচে আচরণের ভিত্তিতে দলগুলিকে পয়েন্ট দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতার শেষে যে দল গড়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পায় তাদের পুরস্কৃত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচের একটি ঘটনার জন্য ফেয়ার প্লের দৌড়ে চার নম্বর থেকে আট নম্বরে নেমে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
কীসের ভিত্তিতে ফেয়ার প্লে পুরস্কার?
প্রতি ম্যাচে দলগুলি সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পেতে পারে ফেয়ার প্লেতে। চারটি ভাগে দেওয়া হয় পয়েন্ট। ‘স্পিরিট অফ গেম’-এ থাকে ৪ পয়েন্ট। ‘স্পিরিট অফ গেম’-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই নম্বরও থাকে বেশি। সময় নষ্ট করলে, প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটারকে স্লেজিং করলে পয়েন্ট কাটা যায়। সংশ্লিষ্ট দলের ক্রিকেটারদের সাধারণ আচরণও বিবেচনা করা হয়। প্রতিপক্ষ দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ২ পয়েন্ট, খেলার নিয়ম মেনে চলার জন্য ২ পয়েন্ট এবং আম্পায়ারদের প্রতি সম্মানের জন্য থাকে ২ পয়েন্ট।
কারা দেন নম্বর?
মাঠের দুই আম্পায়ার এবং তৃতীয় আম্পায়ার প্রতি ম্যাচের পর সংশ্লিষ্ট দুই দলের আচরণ মূল্যায়ন করে পয়েন্ট দেন। এই তিন আম্পায়ারের রিপোর্টই চূড়ান্ত।
কী ভাবে তালিকা?
প্লেঅফে ওঠা চারটি দল বাকি দলগুলির তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলে। তাই মোট পয়েন্টের উপর পুরস্কার দেওয়া হয় না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গড় পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। কারণ বেশি ম্যাচ খেলা দলগুলি অনেক সময়ই মোট পয়েন্ট বেশি পায়।
কেকেআর কেন চার থেকে আটে?
রবিবারের ম্যাচে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর বিরুদ্ধে। কেকেআর ব্যাটার প্রতিপক্ষের ফিল্ডিংয়ে বাধা দিয়েছেন। দৌড়ে রান নেওয়ার সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে দিক পরিবর্তন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইপিএলের আচরণবিধির ২.২ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। রঘুবংশী লেভেল ওয়ান অপরাধ করায় কেকেআরের ফেয়ার প্লে পয়েন্ট কাটা গিয়েছে। ‘স্পিরিট অফ গেম’ থেকে ১ পয়েন্ট কেটে নিয়েছেন আম্পায়ারেরা। গড় কমে যাওয়ায় অজিঙ্ক রাহানের দল নেমে গিয়েছে।
এ বার কারা এগিয়ে?
রবিবারের ৩৮তম ম্যাচের পর এ বারের আইপিএলে যুগ্ম ভাবে এগিয়ে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং পঞ্জাব কিংস। চেন্নাইয়ের আট ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট এবং পঞ্জাবের সাত ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট। দু’দলেরই গড় ১০। তৃতীয় স্থানে যুগ্ম ভাবে রয়েছে গুজরাত টাইটান্স এবং রাজস্থান রয়্যালস। দু’দলই আটটি ম্যাচ খেলে ৭৯ পয়েন্ট পেয়েছে। গড় ৯.৮৮। পঞ্চম স্থানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সংগ্রহ সাত ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট। গড় ৯.৮৬। ষষ্ঠ স্থানে যুগ্ম ভাবে লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দু’দলেরই আটটি করে ম্যাচ খেলে ৭৮ পয়েন্ট। গড় ৯.৭৫। অষ্টম স্থানে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের ৭৭ পয়েন্ট। গড় ৯.৬৩। নবম স্থানে রয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তাদের গড় ৯.৪৩। সাত ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দশম নম্বরে দিল্লি ক্যাপিটালস। তাদের গড় ৯।
কারা কত বার জিতেছে?
তিন বারের চ্যাম্পিয়ন কেকেআর এক বারও আইপিএলের ফেয়ার প্লে পুরস্কার পায়নি। সবচেয়ে বেশি সাত বার পেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ পেয়েছে তিন বার। রাজস্থান রয়্যালস তিন বার পেয়েছে। তার মধ্যে ২০২২ সালে গুজরাত টাইটান্সের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে পেয়েছে। আইপিএলের ইতিহাসে এই এক বারই দু’টি দল ফেয়ার প্লে পুরস্কার পেয়েছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও দু’বার পুরস্কার পেয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি ক্যাপিটালস, কিংস ইলেভেন পঞ্জাব, গুজরাত লায়ন্স এক বার করে জিতেছে।
কারা কখনও পুরস্কার পায়নি?
কলকাতা নাইট রাইডার্স ছাড়া রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, লখনউ সুপার জায়ান্টস কখনও ফেয়ার প্লে পুরস্কার পায়নি। এখন অবলুপ্ত কোচি টাস্কার্স কেরালা, পুণে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া, রাইজ়িং পুণে সুপারজায়ান্টস কখনও ফেয়ার প্লে ট্রফি জিততে পারেনি।
ফেয়ার প্লে পয়েন্ট আইপিএলের মূল প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করে না। এর উপর প্লেঅফে ওঠার কোনও সম্পর্ক নেই।