India vs Afghanistan

শতরান যশস্বীর, ঝোড়ো ইনিংস রোহিতেরও, বলে পাঁচ উইকেট প্রসিদ্ধের, আফগানিস্তানকে এক দিনের সিরিজ়ে চুনকাম ভারতের

দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সিরিজ় আগেই হাতছাড়া হয়েছিল আফগানিস্তানের। তৃতীয় ম্যাচে চেন্নাইয়ে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২১৮ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। জবাবে ৯ উইকেটে জিতে আফগানিস্তানকে চুনকাম করল ভারত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৯:৫৬
Share:

যশস্বী-রোহিতের জুটি জেতাল ভারতকে। ছবি: পিটিআই।

দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সিরিজ় আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল তৃতীয় ম্যাচে একটু হলেও লড়াই দেবে আফগানিস্তান। তার কিছুই দেখা গেল না। চেন্নাইয়ে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২১৮ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। জবাবে ৯ উইকেটে জিতে আফগানিস্তানকে চুনকাম করল ভারত। শতরান করলেন যশস্বী জয়সওয়াল। ভাল ইনিংস খেললেন রোহিত শর্মাও। তার আগে পাঁচ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের কোমর ভেঙে দেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। ফলে ন্যূনতম লড়াইও দেখা গেল না।

Advertisement

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যে তৃতীয় এক দিনের ম্যাচও জিতবে তা স্পষ্ট হয়ে যায় ম্যাচের কয়েক ওভার গড়াতেই। ১০ ওভারের মধ্যে চারটি উইকেট ফেলে দিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের মেরুদন্ড ভেঙে দেন প্রসিদ্ধ। ওই ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আফগানিস্তান। হার আরও লজ্জাজনক হত যদি না লড়াই করতেন শাহিদি।

আফগানিস্তানের হয়ে একাই লড়াই করে অধিনায়ক শাহিদি। সঙ্গে কিছুটা সঙ্গত দেন আজ়মাতুল্লাহ ওমরজ়াই। শাহিদি টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভাবতেও পারেননি চেন্নাইয়ের পিচে এ ভাবে ধসে যাবে আফগানিস্তানের ব্যাটিং। দ্বিতীয় ওভারে প্রসিদ্ধের বলে ফিরে যান রহমানুল্লাহ গুরবাজ় (৫)। এর পর একে একে প্রসিদ্ধ তুলে নেন ইব্রাহিম জ়াদরান (১১), রহমত শাহ (৫) এবং দারউইশ রসুলিকে (১)। এক সময় তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ৫-২-৬-৪। প্রথম দু’ওভার মেডেন দেন।

Advertisement

সেখান থেকে আফগানিস্তানকে বাঁচাতে লড়তে নামে শাহিদি এবং ওমরজ়াই। দু’জনে মিলে পঞ্চম উইকেটে ১১৪ বল ১০৫ রানের জুটি গড়েন। শাহিদি অনেকটাই ধরে খেলছিলেন। তুলনায় চালিয়ে খেলছিলেন ওমরজ়াই। আইপিএলে খেলার সুবাদে এই পিচ তাঁর ভালই চেনা। সেটাই কাজে লাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত পাঁচটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ৫৬ বলে ৫০ করে ফিরে যান তিনি।

ওমরজ়াই ফেরার পর আবার আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। এক প্রান্তে শাহিদি ধরে থাকলেও উল্টো দিকে কাউকে পাচ্ছিলেন না। ফরিদ আহমেদ ফিরে যাওয়ার সময়েও শতরান থেকে ৯ রান দূরে ছিলেন শাহিদি। তবে জ়িয়া উর রহমান কোনও মতে একটি দিক ধরে রাখায় শতরান করেন শাহিদি। ৪৪তম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরকে চার মেরে শতরান করেন। শাহিদির ইনিংসে মুগ্ধ হয়ে সমর্থকেরা উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।

শতরানের পর পায়ের পেশিতে টান ধরে শাহিদির। মাঠেই বেশ কিছু ক্ষণ চিকিৎসা নিতে দেখা যায় তাঁকে। পরে উঠে দাঁড়ান। তবে বেশি ক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। ১০২ রানের মাথায় প্রসিদ্ধের বলে শ্রেয়স আয়ারের হাতে ক্যাচ দিতেই আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে যায়।

জবাবে ভারত যে ভাবে শুরু করেছিল, তাতে মনেই হচ্ছিল এই ম্যাচ শেষ হওয়া সময়ের অপেক্ষা। আবার পুরনো ফর্মে দেখতে পাওয়া গেল রোহিতকে। নিজের প্রিয় ফরম্যাটে দাপটের সঙ্গে খেললেন তিনি। আগের ম্যাচে অল্পের জন্য অর্ধশতরান পাননি। এ দিন সেটা তো পেলেনই। উল্টে এক সময় শতরানের দিকেও এগোচ্ছিলেন। কিন্তু আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে আউট হতে হল। ৯টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৬৯ বলে ৭৯ করেন রোহিত।

প্রথম উইকেটেই উঠে যায় ১৭০ রান। এর পর ম্যাচের আর কিছু পড়ে ছিল না। রোহিতের অপূর্ণ কাজ করে যান যশস্বী। ৮৬ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন। মেরেছেন ১৪টি চার এবং ৩টি ছয়। শ্রেয়স আয়ার অপরাজিত থাকেন ২০ রানে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement