FIFA World Cup 2026

বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বার গোলশূন্য ড্র, দশ জনের বেলজিয়ামকে বাগে পেয়েও হারাতে পারল না ইরান, দেশকে বাঁচালেন দু’দলের গোলকিপার

বিশ্বকাপে আরও এক বার গোলশূন্য ড্র দেখা গেল। ১৪ জুন স্পেন বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচের পর রবিবার রাতে বেলজিয়াম বনাম ইরান ম্যাচেও কোনও গোল হল না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০২:৩৩
Share:

বেলজিয়াম-ইরান ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: রয়টার্স।

বিশ্বকাপে আরও এক বার গোলশূন্য ড্র দেখা গেল। ১৪ জুন স্পেন বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচের পর রবিবার রাতে বেলজিয়াম বনাম ইরান ম্যাচেও কোনও গোল হল না। তবে দুই দলই গোল করার অনেক সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে, সুযোগ নষ্ট না করলে বেলজিয়ামেরই এই ম্যাচ জেতার কথা। অবশ্য গোল না হওয়ার নেপথ্যে দুই দেশের গোলকিপারের প্রশংসা প্রাপ্য। বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া এবং ইরানের গোলকিপার আলিরেজা বেইরানভান্দ প্রাণ দিয়ে গোল বাঁচালেন। ৬৭ মিনিটে বেলজিয়ামের নাথান এনগোয় লাল কার্ড দেখেন। বাকি সময়ে দাপটে খেলেও জয়সূচক গোল পায়নি ইরান।

Advertisement

র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম ১৫ মিনিট শাসন করেছে বেলজিয়াম। মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কেভিন দ্য ব্রুইন। মাঠের প্রায় সর্বত্রই ছিল বেলজিয়ামের দাপট। ইরান বল ছুঁতেই পারছিল না। প্রথম কয়েক মিনিটে তাদের নাভিশ্বাস তুলে দেয় বেলজিয়াম। বোঝাই যাচ্ছিল, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে পা দেওয়া ইরান এখনও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি।

কিন্তু যত সময় এগোল, ইরানের খেলা ততই খুলল। ২৯ মিনিটে দুরন্ত একটি ফ্রিকিক থেকে এগিয়ে যেতে পারত তারা। সেটি অল্পের জন্য অফসাইডে বাতিল হয়। ইরানের নেওয়া ফ্রিকিক মনে পড়িয়ে দিয়েছিল কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচকে। সেই ম্যাচে এ রকই একটি ফ্রিকিক থেকে গোল করেছিল নেদারল্যান্ডস।

Advertisement

বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল ইরান। মনে করা হয়েছিল গোলে শট মারবেন এহসান হাজিসফি। কিন্তু ‘ওয়াল’-এ দাঁড়ানো মেহদি তারেমিকে পাস দেন তিনি। তারেমি বল ধরেই জালে জড়িয়ে দেন। কিন্তু বল ধরতে গিয়েই সামান্য অফসাইড হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ফলে ‘ভার’ পরীক্ষার পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।

বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম দেশকে কোনও ট্রফি দিতে পারেনি। দেখা গেল, এখনকার প্রজন্মকে নিয়েও খুব বেশি আশা দেখা যাবে না। রোমেলু লুকাকু ৭৩ মিনিট মাঠে ছিলেন। একটিও শট নিতে পারেননি। বেশ কয়েক বার বক্সে ভাল সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু গোলের দিকে পিছন করে বল রিসিভ করার রোগ এখনও তাঁর যায়নি। ফলে ঘুরতে ঘুরতেই তাঁর পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়েছে ইরান।

দ্য ব্রুইন মোটের উপর খারাপ খেলেননি। কিন্তু বয়স ছাপ ফেলেছে তাঁর খেলাতেও। বেশ কয়েক বার তাঁর পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়েছেন ইরানের ফুটবলারেরা। ইরানের রক্ষণও ভাঙতে পারেননি তিনি। তবু বেলজিয়াম গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছিল তাঁর পাস থেকেই। বেইরানভান্দ সেই বল এক হাতে না বাঁচালে তখনই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ইরান (২২) এগিয়ে রয়েছে মহম্মদ সালাহের মিশর এবং আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের থেকেও। কেন তারা এগিয়ে, সেটা বোঝা গিয়েছে ম্যাচে। আয়োজক আমেরিকার সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব যতই থাক, যতই বার বার ম্যাচ খেলেই ফিরে যেতে হোক, ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের জেদ এবং প্রতিজ্ঞা মাঠের বাইরের এই বাধা দমাতে পারবে না। রাজনীতি বা কূটনীতির প্রভাব দেখাই যাচ্ছে না তাদের খেলায়। ফুটবলারেরা খোলা মনে খেলতে পারছেন। বরং এখনকার পরিস্থিতি তাঁদের জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দলের মধ্যে বন্ধন আছে। যে কারণে ম্যাচ শেষের পর গোটা দলকে নিয়ে ভাষণ দিলেন তারেমি। কোচ বসে থাকলেন ডাগআউটেই।

ইরানের অন্তত খান তিনেক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন কুর্তোয়া। অতীতে বার বার দেশকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন। তবে এই ম্যাচে যে এত বার তাঁকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হবে সেটা বোধহয় ভাবনায় ছিল না। ইরানের বেইরানভান্দ শুরুতেই চোট পেয়েছিলেন। বাকি ম্যাচে দেখে বোঝাই গেল না। বহু সেভ করেছেন। তাঁর এক হাতে সেভ প্রতিযোগিতার সেরা হয়ে যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement