FIFA World Cup 2026

ষোলোতম দেশ হিসাবে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়া, ০-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় ঘানার

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল আফ্রিকার আরও একটি দেশ। কলম্বিয়ার কাছে ১-০ ব্যবধানে হারায় শেষ হয়ে গেল ঘানার দৌড়। শেষ দেশ হিসাবে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছোল কলম্বিয়া।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৯:০১
Share:

কলম্বিয়ার ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।

কলম্বিয়া – ১ (অ্যারিয়াস)

Advertisement

ঘানা – ০

শেষ দেশ হিসাবে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশটি ১-০ ব্যবধানে হারাল ঘানাকে। প্রথম নকআউট ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছেন কলম্বিয়ার ফুটবলারেরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন জন অ্যারিয়াস।

Advertisement

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে আফ্রিকার ন’টি দেশ উঠেছিল। মিশর এবং মরক্কো বাদে কোনও দেশই রাউন্ড অফ ১৬-য় পৌঁছোতে পারল না। দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ঘানাকে নিয়ে আশায় ছিলেন আফ্রিকার ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ ঘানা। তারা হেরে গেল কলম্বিয়ার কাছে। ম্যাচের কোনও সময়ই ঘানাকে দেখে মনে হয়নি, তারা জিততে পারে। শুরু থেকেই দাপট ছিল কলম্বিয়ার। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে তারাই। অধিকা‌ংশ সময় মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের কাছে। ঘানার খেলায় পরিকল্পনার অভাব চোখে পড়েছে। কলম্বিয়ার ডিফেন্স ভাঙার জন্য বিকল্প চেষ্টাও দেখা যায়নি।

শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল থেকে ঘানাকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন কলম্বিয়ার ফুটবলারেরা। যদিও ৮ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়ার স্ট্রাইকার জন কর্দোবাকে। তাতে কলম্বিয়ার আগ্রাসী ফুটবলে তেমন প্রভাব পড়েনি। পরিবর্ত হিসাবে নামেন আর এক স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ়। ১৩ মিনিটে ঘানার সমস্যা বাড়ায় ডিফেন্ডার মারভিন সেনায়ার চোট। তাঁকেও মাঠ ছাড়তে হয়। কড়া মেজাজের ম্যাচে দু’দলের ফুটবলারেরাই প্রতিপক্ষের শরীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিতে শুরু করায় প্রথম দিকে একটু বেশিই ফাউল হচ্ছিল। রেফারিকে বার বার খেলা থামাতে হচ্ছিল। দু’দলের খেলা দেখে মন ভরছিল না।

সেনায়া উঠে যাওয়ায় ঘানার আত্মবিশ্বাস সম্ভবত কিছুটা ধাক্কা খায়। সেই সুযোগ কাজে লাগায় কলম্বিয়া। ১৪ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যারিয়াস। প্রায় একক প্রচেষ্টায় গোল করেন কলম্বিয়ার উইঙ্গার। পিছিয়ে পড়ার পর ঘানা আরও রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। কৌশল বদলে প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবলে চলে যায়। ২০ মিনিটে গোলের সুযোগ এসেছিল তাদের সামনেও। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি ঘানার আক্রমণ ভাগের ফুটবলারেরা। এর পরই প্রতি আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ২১ মিনিটে লুইস দিয়াজ়ের জোরালো শট আটকে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স জিগি। তাঁর এই সেভ যথেষ্ট প্রশংসনীয়। ৩৯ মিনিটেও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন দিয়াজ়। ৪২ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেজ়ও। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়াতে পারেননি কলম্বিয়ার ফুটবলারেরা। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়েও প্রতিপক্ষকে হতাশ করেন জিগি।

দ্বিতীয়ার্ধেও আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে কলম্বিয়া। জয় নিশ্চিত করার জন্য ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করে তারা। কিন্তু কখনও ঘানার ডিফেন্ডারেরা, কখনও গোলরক্ষক কলম্বিয়ার ফুটবলারদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। এর মধ্যেই ৫৭ মিনিটে দিয়াজ়ের করা গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের জন্য। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। কলম্বিয়ার চাপ সত্ত্বেও প্রতিআক্রমণ থেকে ৬৯ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ঘানা। ভাল জায়গায় বল পেয়েও বাইরে মারেন থমাস পার্তে। শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ঘানার ফুটবলারেরা। গোল করার মতো একাধিক পরিস্থিতিও তৈরি করেন তাঁরা। কিন্তু একটিও কাজে লাগাতে পারেননি। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেল আফ্রিকার ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম ভরসার দল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement