ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ছবি: রয়টার্স।
কঙ্গোর কাছে প্রথম ম্যাচে আটকে যেতেই নিজের দেশের সংবাদমাধ্যম কঠোর সমালোচনা করেছিল তাঁর। সেই সংবাদমাধ্যমের উপরে রেগে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। উজ়বেকিস্তান ম্যাচের আগে অনুশীলনে সময়ের আগেই সংবাদমাধ্যমকে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো।
শুক্রবার অনুশীলনের পর প্রথম জলপানের বিরতির সময় সংবাদমাধ্যমের স্ট্যান্ডের দিকে তাকান রোনাল্ডো। এর পর হাতের ইশারায় বোঝান, সময় হয়ে গিয়েছে। এ বার চলে যেতে হবে। পর্তুগিজ সাংবাদিকেরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলতে পারেন ফিফা বা পর্তুগালের কর্তারা। রোনাল্ডো বলার কেউ নন।
অনেকের ধারণা, পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার কারণেই এই আচরণ করেছেন রোনাল্ডো। কঙ্গো ম্যাচের পর পর্তুগিজ সংবাদপত্র ‘আ বোলা’ লিখেছিল, রোনাল্ডোর বিদায়ের সময় আসন্ন। বিভিন্ন ভাবে সমালোচনা করা হয়েছিল রোনাল্ডোর। ছাড়া হয়নি দলকেও। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, অতীতের কথা মাথায় রেখে দল বদলানোর। সংবাদপত্রের বিশেষজ্ঞ কেভিন প্রিন্স বোয়েতাং বলেছিলেন, দলের ভালর জন্য রোনাল্ডোর উচিত নিজে থেকেই সরে যাওয়া।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছিল রোনাল্ডোকে। ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ শিরোনাম করেছিল, ‘দশ জন পুরুষ এবং একটা মূর্তি’। তারা লিখেছিল, রোনাল্ডোর অহঙ্কারের জন্য আরও একটা বিশ্বকাপ হাতছাড়া হতে চলেছে পর্তুগালের। রোনাল্ডোর আগের মতো গতি নেই। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ লিখেছিল, “যে দিন মেসি বোঝালেন কেন তাঁকে আর্জেন্টিনা দলের এখনও দরকার, সে দিনই পর্তুগাল বোঝাল কেন রোনাল্ডোকে তাদের আর দরকার নেই।”
এ দিকে, অনুশীলনের পর দলের সকলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন রোনাল্ডো। লেখেন, ‘সকলে ঐক্যবদ্ধ’। অর্থাৎ দলে যে কোনও ভাঙন নেই, সেটাই স্পষ্ট হয়েছে তাঁর পোস্টে।