গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গত বার কিলিয়ান এমবাপে ও লিয়োনেল মেসির মধ্যে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যান এমবাপে। সবচেয়ে বেশি গোল করে সোনার বুট জেতেন তিনি। এ বারও কি সবচেয়ে বেশি গোল করবেন এমবাপে? না তাঁর জায়গা নেবেন অন্য কোনও স্ট্রাইকার? এ বারের বিশ্বকাপে কোন পাঁচ স্ট্রাইকারের দিকে সকলের নজর থাকবে তা খতিয়ে দেখল আনন্দবাজার ডট কম।
লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এ বার নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। তাঁদের দল তাঁদের স্ট্রাইকারের তালিকায় রাখলেও কোনও বিশেষ পজিশনে তাঁদের আটকে রাখা যায় না। তাঁরা যেমন গোল করেন, তেমনই গোল করান। মেসি বা রোনাল্ডো খেলতে নামলে গোটা ফুটবলবিশ্বের চোখ তাঁদের দিকেই থাকে। গত দুই দশক ধরে এই ছবি দেখা যাচ্ছে। তাঁরা কিংবদন্তি। তাই এই দুই তারকাকে এই তালিকায় রাখা হল না।
তালিকায় সকলের উপরে থাকবেন এমবাপে। বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচ খেলে ১২টি গোল করেছেন তিনি। তার মধ্যে আটটি এসেছিল গত বার। আর পাঁচটি গোল করলেই জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকে টপকে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হবেন তিনি। পর পর দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন তিনি। এক বার জিতেছেন। এক বার হেরেছেন। তৃতীয় বারও ফ্রান্সকে ফাইনাল খেলতে হলে গোলের মধ্যে থাকতে হবে এমবাপেকে। তাঁর দিকে নজর থাকবে সকলের।
এ বারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন হালান্ড। গত কয়েক বছরে ক্লাব ফুটবলে গোল মেশিনের তকমা পেয়েছেন তিনি। খেলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির হয়ে। বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকার বলতে যা বোঝায়, হালান্ড ঠিক তেমনই। বক্সের মধ্যে তিনি ভয়ঙ্কর। গ্রুপ আই-এ ফ্রান্সের সঙ্গেই রয়েছে হালান্ডের নরওয়ে। অর্থাৎ, গ্রুপ পর্বেই এমবাপে বনাম হালান্ডের লড়াই দেখা যাবে।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিশ্বকাপে ৮ গোল রয়েছে ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকারের। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৬ গোল করে সোনার বুট জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু গত বার মাত্র দু’টি গোল করেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পেনাল্টি ফস্কেছিলেন। দলও বাদ পড়েছিল। গত দু’বছর ক্লাব ফুটবলে গোলের মধ্যে রয়েছেন কেন। তিনিও বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকার। তাঁর উপরেই ভরসা করছে ইংল্যান্ড।
দলে মেসির মতো ফুটবলার থাকার পরও গত বারের বিশ্বকাপে নজর কেড়েছিলেন এই তরুণ স্ট্রাইকার। চারটি গোল করেছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ড ও শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন। এ বার তিনি আরও পরিণত। মেসির বয়স হয়েছে। ফলে গোলের জন্য আলভারাজ়ের উপর ভরসা করবেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি।
২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িল। সেই খরা কাটাতে মরিয়া তারা। গোলের জন্য ব্রাজ়িলের বড় ভরসা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোলের মধ্যে রয়েছেন তিনি। তাঁর প্রধান শক্তি গতি। যে কোনও ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করতে পারেন। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল করেছেন। সেই সংখ্যা এ বার অনেকটাই বাড়ানোর লক্ষ্যে নামবেন। নজর থাকবে তাঁর দিকেও।