FIFA World Cup 2026

৫ ঘণ্টায় ভাঙল দ্রুততম গোলের নজির, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল দু’দেশ, জয় ব্রাজ়িলের, নকআউটে আমেরিকা

বিশ্বকাপ থেকে দু’টি দেশ ছিটকে গেল শনিবার। গ্রুপের একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল। প্রথম জয় পেল ব্রাজ়িল। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেল আমেরিকা। ঘটল আরও নানা ঘটনা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১২:২০
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল তুরস্ক। ১০ জনের প্যারাগুয়েকে পেয়েও জিততে পারল না তারা। বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল হাইতিরও। মরক্কো ১-০ গোলে হারিয়ে স্কটল্যান্ডকে। মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি ৭১ সেকেন্ডে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল করে এ বারের বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের নজির গড়েন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই নজির হাতছাড়া হয়ে যায় তাঁর। প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজ়া ৬৫ সেকেন্ডে গোল করে রেকর্ড ছিনিয়ে নিলেন।

Advertisement

প্রথম জয় মরক্কোর

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক জায়গায় গত বারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। আক্রমণের ঝাঁজ দিয়ে খেলা শুরু করে আফ্রিকার দেশটি। ফলও পায় হাতেনাতে। ৭১ সেকেন্ডে সাইবারি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোটা ম্যাচে আর গোল না হলেও নজির গড়েন সাইবারি। স্কটল্যান্ড-মরক্কো ম্যাচ পর্যন্ত এ বারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল ছিল এটি। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সের ভিতরে বল পেয়ে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি।

Advertisement

ফিফা ক্রমতালিকায় স্কটল্যান্ড খানিকটা এগিয়ে থাকলেও স্কটিশদের খেলায় তেমন ধার ছিল না। কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বরং গোল শোধের জন্য খানিকটা মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। স্কটল্যান্ডের দু’টি পেনাল্টির আবেদন গ্রাহ্য করেননি রেফারি। এ বারের বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল মরক্কো। স্কটল্যান্ড হেরে যাওয়ায় গ্রুপ ‘সি’ থেকে ছিটকে গিয়েছে হাইতি।

প্রথম জয় ব্রাজিলের

হাইতির বিরুদ্ধে দেখা গেল ব্রাজ়িলীয় ফুটবলের ঝলক। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়ের নায়ক ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গোল করলেন, করালেন। কার্লো আনচেলোত্তির দলের প্রাণ ভোমরা ভিনিই। ভিনিসিয়াস না থাকলে প্রথম সারির দলগুলির বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়তে পারে ব্রাজ়িলকে। ফিফা ক্রমতলিকায় ৮৫ নম্বরে থাকা হাইতিকে হারাতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি ব্রাজ়িলকে।

হাইতিকে ব্রাজ়িল বড় ব্যবধানে হারাবে, এটাই প্রত্যাশিত। প্রথম ১০ মিনিট প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ার পর খেলার রাশ নিয়ে নেয় ব্রাজ়িল। বল এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন ব্রাজ়িলের ফুটবলারেরাই। কোনও কোনও সময় হাইতির ফুটবলারদের দর্শকের মতো দেখিয়েছে। ব্রাজ়িলীয়রা ফুটবল দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। দু’দলের শক্তির তুলনা টানার অর্থ হয় না। ভিনিসিয়াস, কাসেমিরোদের দেখা ছাড়া হাইতি ফুটবলারদের করার কিছু ছিল না। সাধ্য মতো চেষ্টা করেছেন তাঁরা। অকারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেনি। ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে প্রায় গোলও করে ফেলেছিল হাইতি। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার বাঁচিয়ে দেন।

জ়োনাল মার্কিংয়ে ব্রাজ়িলকে আটকানো পরিকল্পনা করেছিলেন হাইতির কোচ। লাভ হয়নি। ব্রাজ়িল খেলা ধরে নিতেই হাইতির রক্ষণ সংগঠনে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন ঠেকানো মতো মশলা হাইতি শিবিরে নেই। ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রতিহত করলে বক্সের সামনে বল পান ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্স। তিনিই প্রায় আত্মঘাতী গোল করে ফেলছিলেন! তাঁর পায়ে লেগে গোলমুখী বল ম্যাথেউস কুনহার পায়ের ছোঁয়ায় সামান্য দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়।

৩৬ মিনিটে ব্রাজ়িলের দ্বিতীয় গোলও কুনহার। এ ক্ষেত্রেও কৃতিত্ব ভিনিসিয়াসের। মাঝ মাঠে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কিছুটা দৌড়ে ডিফেন্স চেরা পাস দেন কুনহাকে। হাইতির এক ডিফেন্ডারকে গায়ে নিয়েও বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কুনহা। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় গোল করে ব্রাজ়িলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। লুকাস পাকুয়েতা মাঝ মাঠ থেকে বল বাড়ান সেন্টার সার্কেলের বাঁ দিকে অপেক্ষারত অরক্ষিত ভিনিসিয়াসকে। গতিতে হাইতির ডিফেন্ডারকে পিছনে ফেলে ডান পায়ের শটে গোল করেন ভিনিসিয়াস। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় এ বারের বিশ্বকাপে ব্রাজ়িলের প্রথম জয়।

সহজ জয়ের মধ্যেও আচনেলোত্তির উদ্বেগ বাড়ালেন রাফিনহা। পেশীতে চোট পেয়ে প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৪০ মিনিট মাঠে ছিলেন। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিরা যে ভাবে বেশ কয়েকটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন, তা নিয়ে ভাবতে হবে ব্রাজ়িলের ইটালীয় কোচকে।

তুরস্ককে হারাল প্যারাগুয়ে

প্যারাগুয়ের জয় গ্রুপ ‘ডি’ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেল আমেরিকা। গালারজ়া ৬৫ সেকেন্ডে গোল করেন তুরস্কের বিরুদ্ধে। এটাই এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দ্রুততম গোল। মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কোর সাইবারির রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষে লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল অ্যালমিরন। গোটা দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জনে খেলতে হয়ে প্যারাগুয়েকে। তা-ও সমতা ফেরাতে পারেনি তুরস্ক। দু’ম্যাচ তাদের পয়েন্ট শূন্য। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল।

গ্রুপ ‘ডি’ থেকে দু’ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করে নিল আমেরিকা। দু’ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোলপার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া। সমান পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে প্যারাগুয়ে। শেষ ম্যাচে আমেরিকাকে হারাতে পারলে তুরস্কের পয়েন্ট হবে ৩। তাতেও লাভ হবে না। কারণ অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ে দু’দলের কাছেই তারা হেরেছে। অস্ট্রেলিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচ ড্র হলেও গ্রুপে তৃতীয় স্থানে আসতে পারবে না তুরস্ক।

আমেরিকা নকআউটে

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেল প্রধান আয়োজক দেশ আমেরিকা। বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে একপেশে ভাবে হারিয়ে দিল আমেরিকা। ২-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট কার্যত নিশ্চিত করে ফেলে আয়োজক দেশ। পরে তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ম্যাচের ফল তাদের জায়গা নিশ্চিত করে দেয়। শনিবার খুঁজেই পাওয়া গেল না আগের ম্যাচের অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথমার্ধে আমেরিকার আক্রমণের সামনে তারা কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় একটু উন্নতি হলেও তা কখনওই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

প্যারাগুয়ের পর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচও বুঝিয়ে দিল, আমেরিকার ফুটবল অনেক এগিয়েছে। প্রথমার্ধে তারা যে আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে তা প্রশংসাযোগ্য। ১১ মিনিটে আসে প্রথম গোল। বাঁ দিক থেকে ফোলারিন বালোগুনের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের গোলেই ঢুকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্জেস। সময় যত বাড়তে থাকে, আমেরিকার দাপটও বাড়তে থাকে। বিরতির আগে দ্বিতীয় গোল করে আমেরিকা। কর্নার থেকে ডেস্টের শট প্রতিহত হয়। সেই বল হেডে জালে জড়ান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। প্রথমে লাইন্সম্যান গোলটি অফসাইডের জন্য বাতিল করেন। পরে ‘ভার’ সেই সিদ্ধান্ত বদল করে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement