কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: রয়টার্স।
ফ্রান্স দলের শেষ কথা কি কিলিয়ান এমবাপেই? তিনি যা বলেন তা-ই হয়? অধিনায়কই কি সর্বেসর্বা? গত কয়েক দিনে বিভিন্ন ভিডিয়ো দেখে এই জল্পনাই শুরু হয়েছে। এমবাপের আচরণের সমালোচনা করে অনেকেই তাঁকে একনায়কের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আদৌ কি বাস্তবটা তেমনই? বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে উত্তর দিয়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ।
ফ্রান্সের কোচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমবাপেকে যেমন ভাবে দেখানো হয় আদপে তিনি মোটেও সে রকম নন। দেশঁর কথায়, “এমবাপে একটুও বদলায়নি। আপনারা এমবাপেকে একনায়ক হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করেন। সত্যিটা ঠিক এর উল্টো।”
এমবাপের আচরণের সঙ্গে তাঁর পিএসজি-তে থাকার সময়ের মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। সেই সময় নাকি কোচ তাড়ানো, কোচ নেওয়া থেকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতেন এমবাপেই।
যদিও দেশঁ বলেছেন, “লোকের সামনে ওকে যে ভাবে দেখা যায় তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। কিলিয়ান বরাবর পরিণত মানসিকতার। গোটা দল ওকে অনুসরণ করে। কিলিয়ানকে অধিনায়ক পেয়ে আমি খুশি। মাঠ এবং মাঠের বাইরে সব সময়ে ওর মুখে শুধু দলেরই কথা থাকে।”
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্যারাগুয়ে কিছুটা ‘টাফ’ ফুটবল খেলেছে। কিলিয়ান এমবাপেদের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটির ফুটবলারেরা। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলারেরা মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ শেষ করায় খুশি দেশঁ। যদিও নিজে ম্যাচের সময় মেজাজ হারিয়েছেন। সমালোচনা করেছেন প্যারাগুয়ের খেলার।
ম্যাচের পর ফুটবলারদের মানসিকতার প্রশংসা করে দেশঁ বলেছেন, ‘‘আমরা নিজেদের খেলায় মনোনিবেশ করেছিলাম। কঠিন ম্যাচ ছিল। প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা সব সময় বলের কাছাকাছি থাকছিল। ওদের রক্ষণ দারুণ। এই তাপমাত্রায় গতিসম্পন্ন ফুটবল খেলা কঠিন। আমাদের ফুটবলারেরাও কিন্তু পাল্লা দিয়ে গিয়েছে। আমরা চাপ ধরে রাখতে সফল হয়েছি। চাপ ধরে রাখলেই ম্যাচ জেতা যায় না। তা-ও এটা গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে। আমাদের কিছু ফুটবলার প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলছে। এ পর্যন্ত আমরা সহজ ম্যাচ পেয়েছি, এমন নয়। তবে প্যারাগুয়ে ম্যাচে অন্য রকম অভিজ্ঞতা হল।’’