গোল করে মানজ়াম্বির উল্লাস। ছবি: রয়টার্স।
সুইৎজ়ারল্যান্ড ৪ (মানজ়াম্বি ২, ভারগাস, জ়াকা-পেনাল্টি)
বসনিয়া ১ (মাহমিচ)
একের পর এক আক্রমণ। বলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। অগণিত সুযোগ তৈরি। এত কিছু করেও বসনিয়াকে কিছুতেই বাগে আনতে পারছিল না সুইৎজ়ারল্যান্ড। সব চিত্র বদলে গেল কোচ মুরাত ইয়াকিনের একটি সিদ্ধান্তে। ৭০ মিনিটের মাথায় তিনি তিনটি বদল করলেন। তাতেই কাজ হল জাদুর মতো। শেষ ২০ মিনিটে চারটি গোল করে বসনিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইৎজ়ারল্যান্ড। জিতল ৪-১ ব্যবধানে। জোড়া গোল করে নায়ক ‘সুপার সাব’ জোহান মানজ়াম্বি।
কাতারের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করতে হয়েছিল সুইসদের। তাই বসনিয়ার বিরুদ্ধে সেই ভুল করতে চায়নি তারা। শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয়। খেলার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন গ্রানিট জ়াকা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থদের বল দেওয়া, বিপক্ষের থেকে বল কাড়া সবই একাই করছিলেন।
বাঁ দিক থেকে বসনিয়ার রক্ষণে কাঁপুনি ধরাচ্ছিলেন ড্যান এনডোয়ে। কখনও সখনও এনডোয়েকে আটকাতে দু’-তিন জন বসনিয়ার ফুটবলারও চলে যাচ্ছিলেন। তবে এত কিছু করেও সুবিধা করতে পারছিল না সুইৎজ়ারল্যান্ড। তার একটাই কারণ, বসনিয়ার জমাট রক্ষণ। ইটালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আসা বসনিয়া যে সহজে ছেড়ে দেবে না তা বোঝাই গিয়েছিল। বল পেলে বসনিয়া দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠে যাচ্ছিল। বল হারালে দ্রুত নেমে আসছিল নীচে। ফলে সুইৎজ়ারল্যান্ড কিছুতেই ফাঁক খুঁজে পাচ্ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা যায় একই ছবি। অনবরত আক্রমণ করেও বসনিয়ার রক্ষণে কামড় বসাতে পারছিল না সুইৎজ়ারল্যান্ড। সব বদলে গেল ৭০ মিনিটে। মানজ়াম্বি ছাড়াও রুবেন ভারগাস এবং জিব্রিল সো-কে নামান সুইস কোচ ইয়াকিন। তার পর সুইৎজ়ারল্যান্ডের আক্রমণ বহু গুণ বেড়ে যায়। তরুণ ফুটবলারদের আক্রমণ ঝাঁজ সামলাতে পারেনি তারা।
মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করেন মানজ়াম্বি। সুইৎজ়ারল্যান্ডের একটি আক্রমণ থেকে জোরালো সাইড ভলিতে বল জালে জড়ান। কিছু ক্ষণ পরেই লাল কার্ড দেখেন বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ। নিশ্চিত গোলের সামনে থাকা ব্রিল এমবোলোকো ফাউল করেন তিনি। যদিও ফ্রিকিক কাজে লাগাতে পারেনি সুইৎজ়ারল্যান্ড। কিন্তু ওই লাল কার্ড খেলা আরও বদলে দেয়।
কিছু ক্ষণ পরেই গোল করেন আর এক পরিবর্ত খেলোয়াড় ভারগাস। ডান দিক থেকে এমবোলোর পাস পেয়ে চলতি বলে শট নিয়ে গোল করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের খেলার শেষ মিনিটে আরও একটি গোল করেন মানজ়াম্বি।
নাটক তখনও শেষ হয়নি। সংযুক্তি সময়ের তৃতীয় মিনিটে একটি গোল শোধ করে বসনিয়া। বক্সের সামান্য ভেতরে একটি ভাসানো বল পেয়ে গোলের মতো শটে গোল করেন এরমিন মাহমিচ। সংযুক্তি সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি পায় সুইৎজ়ারল্যান্ড। গোল করেন জ়াকা।