সোফির (ডান দিকে) সঙ্গে লিয়োনেল মেসি। ছবি: এক্স।
আলোচনার কেন্দ্রে লিয়োনেল মেসি। না, মাঠের ভিতরের কীর্তি নিয়ে তো আলোচনা হচ্ছেই। এ বার মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। বেশ কিছু দিন ধরে মেসির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা চলছে সোফি মার্তিনেজ়ের। কাবো ভার্দেকে হারিয়ে সেই সাংবাদিকেরই মুখোমুখি হলেন মেসি।
কাবো ভার্দেকে হারিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন মেসি। পুরস্কার নেওয়ার পর তিনি মিক্সড জ়োনে যান। সেখানে ছিলেন সোফি। আর্জেন্টিনার সাংবাদিককে দেখে হাসি মুখে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন মেসি। তার পরে বলেন, “যদি আমি তোমার দিকে তাকাই, তা হলে সকলে বলবে কেন তাকালাম। যদি তোমার সঙ্গে কথা বলি, তা হলে সকলে বলবে কেন কথা বললাম।”
মেসির কথা থেকে স্পষ্ট, তিনি জানেন সোফির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। তার পরেও কথা বলেছেন তিনি। সোফিকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সোফিও নিশ্চয় সে কথা জানেন। তিনি পাল্টা মেসিকে বলেন, “তুমি যা বললে তার গুরুত্ব আমার কাছে খুব বেশি। তোমার এই কথার জন্য ধন্যবাদ।”
এই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। জল্পনার পরেও যে ভাবে মেসি সোফিকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, তার জন্য মেসির সাহসের প্রশংসা করেছেন অনেকে। আবার অনেকের মতে, অত সাংবাদিকের মধ্যে সোফিকেই জড়িয়ে ধরলেন মেসি। নিশ্চয় তাঁদের সম্পর্কে কিছু রয়েছে।
মেসি ও সোফির প্রথম কথা হয়েছিল কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে। সোফি মেসিকে জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও তাঁর কৃতিত্ব কমবে না। আর্জেন্টিনায় তিনি নায়ক। তিনি স্বপ্ন দেখান। সাংবাদিকেরা সাধারণত প্রশ্ন করেন। কিন্তু সোফি সে দিনে মেসিকে গোটা আর্জেন্টিনার তরফ থেকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
কয়েক মাস আগে সোফিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন মেসি। তার পরেই দু’জনকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লাও নাকি পছন্দ করেন না যে, মেসি সোফির সঙ্গে কথা বলুন। তবে সবই জল্পনা। এই বিষয়ে মেসি বা আন্তোনেল্লা কোনও মন্তব্য করেননি। সোফিও কিছু বলেননি।
কাবো ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠলেও নিজেদের খেলায় খুশি নন মেসি। তিনি বলেন, ‘‘জানতাম ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। বিশ্বকাপে কেউ আপনাকে বিনামূল্যে কিছু দেবে না। এখন আমরা বিশ্রাম নেব। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেব এবং পরের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করব। কাবো ভার্দেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন।’’
মেসির এই কথাতেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, কিছু ভুল হয়েছে তাঁদের খেলায়। পরে ১২০ মিনিটের লড়াই নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘‘আমরা আগেই জানতাম কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে। এই দলটা স্পেন এবং উরুগুয়েকে আটকে দিয়েছিল। সেগুলো কোনও কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। প্রথম গোল করাটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন। সেটা আমরা করতে পেরেছি। এগিয়ে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম, এ বার হয়তো লড়াই কিছুটা সহজ হবে। ঠান্ডা মাথায় নিজেদের খেলা খেলতে পারব, কিন্তু ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটল।’’
মেসি মেনে নিয়েছেন তাঁরা প্রত্যাশিত ফুটবল খেলতে পারেননি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘কাবো ভার্দে ওদের পরিকল্পনা এবং দক্ষতার দুর্দান্ত ব্যবহার করেছে। মনে হচ্ছিল কাজটা একটু কঠিনই হবে। নকআউট ম্যাচে চাপ থাকেই। সহজে কিছু পাওয়া যায় না। কেউ কেউ হয়তো নাম শুনে কোনও দেশের দলকে কম গুরুত্ব দিতে পারে। আমরা এ সব নিয়ে ভাবি না। কঠিন লড়াই করতে হবে ভেবেই মাঠে নেমেছিলাম।’’ মেসি আরও বলেছেন, ‘‘এটাই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য্য। ব্যবধান খুব কম। এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। ভাল খেললেও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আবার নিজেদের সেরাটা দিতে না পারলে আরও বেশি খাটতে হয়।’’