উদ্ধার অস্ত্র থেকে ত্রাণের ত্রিপল!— নিজস্ব চিত্র।
রাজ্যের খাদ্য দফতরের প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা রানিবাঁধের প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডির বিধায়ক কার্যালয় থেকে উদ্ধার ত্রাণের রাশি রাশি কম্বল, ত্রিপল, শিশুদের পোশাক থেকে অস্ত্র। শনিবার এ নিয়ে খাতড়ায় উত্তেজনা ছড়ায়।
খাতড়া বাজারের পাম্প মোড়ে রয়েছে তৃণমূলের কার্যালয়। জ্যোৎস্না বিধায়ক কার্যালয় ছিল সেখানেই। সেখান থেকে ত্রাণের বিপুল সামগ্রী এবং অস্ত্র উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, কার্যালয়ের দরজা ভেঙে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি তাঁরা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন।
২০১৬ এবং ২০২১, পর পর দু’দফা বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রানিবাঁধ থেকে জয়ী হন তৃণমূলের জ্যোৎস্না। ২০২১ সালে তিনি রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আর তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এলাকায় দেখাই যায়নি প্রাক্তন মন্ত্রীকে। খাতড়ার পাম্প মোড়ে থাকা তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ও সেই থেকে তালাবন্ধ।
বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি ত্রাণের জিনিসপত্র ডাঁই করে রাখা ছিল জ্যোৎস্নার কার্যালয়ে। কম্বল, ত্রিপলের একাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া কার্যালয় থেকে লাঠি, রড, তরোয়াল-সহ বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্রও মিলেছে বলে অভিযোগ। বিজেপির অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সামান্য একটি ত্রিপল, কম্বল চেয়েও পাননি গরিব মানুষ। অথচ সরকারি সেই সমস্ত সামগ্রী বিধায়ক কার্যালয়ে পড়ে পড়ে নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যে সরকার বদল না হলে বিরোধীদের আক্রমণের জন্য দলীয় কার্যালয়ে রড-লাঠি থেকে তরোয়াল মজুত করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে পদ্মশিবির। এ নিয়ে তৃণমূল বা জ্যোৎস্না, কারও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।