Humayun Kabir's Comment Controversy

‘শুধু হুমায়ুন বললেই দোষ?’ ৪ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফের হুঙ্কার বিধায়কের! দাবি, খুনের হুমকি পাচ্ছেন

শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ থানা থেকে বার হন হুমায়ুন কবীর। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, আগামী ১৪ জুলাই সকাল ১১টায় আবার বিধায়ককে তলব করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪২
Share:

থানায় হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর।— নিজস্ব চিত্র।

‘স্যাঁটা’ মন্তব্যের জেরে শেষমেশ থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার প্রায় চার ঘণ্টা ধরে রেজিনগর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। থানা থেকে বেরিয়ে নওদার বিধায়ক দাবি করেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ থানা থেকে বেরোন হুমায়ুন। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, আগামী ১৪ জুলাই সকাল ১১টায় আবার বিধায়ককে তলব করা হয়েছে। তবে হুমায়ুন পরিচিত ভঙ্গিতে বলেছেন, “আমাকে আঘাত করলে আমি তো রসগোল্লা খাওয়াব না।” বিধায়কের দাবি, তাঁকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন-মেসেজ করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে এ নিয়েও পদক্ষেপ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এ নিয়ে রাজ্যের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকেও লিখিত অভিযোগ করেছি। আইন শুধু হুমায়ুনের জন্য? হুমায়ুন কবীরকে আঘাত করলে রেসপন্স পাওয়া যাবে না পুলিশের। আর হুমায়ুন কবীর যখন পাল্টা কিছু বলবে, তখন হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়বে, এটা গণতন্ত্রে চলতে পারে না।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ পাতার একটি প্রশ্নমালা তৈরি করা হয়েছিল। তবে একাধিক প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি বিধায়কের কাছে। তা ছাড়া কেবল গত ২৬ জুনের বিতর্কিত মন্তব্যই নয়, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আগের একাধিক অভিযোগ নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয়েছে। হুমায়ুন অবশ্য বলেন, “আমাকে যে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার যথাযথ উত্তর দিয়েছি। কেন ওই মন্তব্য করেছিলাম, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমি বলেছি, যদি কেউ লাগাতার হুমকি দিতে থাকে, আমি তাকে নিশ্চয়ই রসগোল্লা খাওয়াব না! আগামী ১৪ তারিখ আবার ডাকা হয়েছে, আমি অবশ্যই আসব।”

Advertisement

গত ২৬ জুন রেজিনগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন এবং জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মন্তব্য করেন হুমায়ুন। শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, বিধায়কের মন্তব্য প্ররোচনামূলক এবং অশান্তি পাকাতে উস্কানি দিয়েছেন তিনি। ঘটনাক্রমে রেজিনগর থানায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং পরিকল্পিত ভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টার ধারা যুক্ত করা হয়।

হুমায়ুনের ওই ভাষণের পরে বিধানসভায় কড়া ভাষায় বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর হুমায়ুনের সভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এফআইআরের ভিত্তিতে রেজিনগর থানায় তলব করা হয়েছিল হুমায়ুনকেও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement