নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বাজেট অধিবেশনের পরে লোকসভায় সংখ্যার সমীকরণ বদলে গিয়েছে অনেকটাই। তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদ, শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৬ সাংসদের সমর্থন ইতিমধ্যেই শাসক এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েছে। জল্পনা রয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ থেকে দূরে সরে থাকা ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদের সমর্থনও এ বার নরেন্দ্র মোদীর সরকারের দিকে যেতে পারে। বদলে যাওয়া এই আবহে আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। সেখানে কেন্দ্র ১৩০ এবং ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর চেষ্টা করতে পারে বলে শনিবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আর সেই সঙ্গেই জল্পনায় চলে এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা সমীকরণ ও সংসদীয় পাটিগণিতের হিসাবনিকাশ। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন চলবে আগামী ১৩ অগস্ট পর্যন্ত। এর মধ্যে ১৯ দিন অধিবেশন বসার কথা। অর্থাৎ সংখ্যা অর্জন করতে পারলে সংসদে জোড়া বিল নিয়ে বিতর্ক এবং পাশের পর্যাপ্ত সময় পাবে সরকারপক্ষ। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় বর্তমানে তিনটি আসন খালি রয়েছে। যে কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ করানোর জন্য মোট ভোটদানকারী সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের (৬৬.৬৭ শতাংশ) সমর্থন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, সব সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিলে ৩৬০ জনের সমর্থন পেতে হবে সরকারপক্ষকে।
গত ১৭ এপ্রিল মোদী সরকার লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের জন্য সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল, দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকায়। সে সময় উপস্থিত ৫২৮ জনের মধ্যে ৩৫২টি ভোট দরকার ছিল বিল পাশ করাতে। সরকার পেয়েছিল ২৯৮টি। এর পরে তৃণমূল থেকে বেরনো ২০ জন এবং উদ্ধবের শিবসেনা থেকে বেরোনো ৬ জনকে নিলে এনডিএ-র পক্ষে ৩২৪ জন রয়েছেন। ডিএমকে-র ২২ জন সরকারের পক্ষে ভোট দিলে এনডিএ-র ভোট ৩৪৬ হবে। এ ছাড়া শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-র ৮ লোকসভা সাংসদের সমর্থনও যেতে পারে সরকারের দিকে। সম্প্রতি শরদ-কন্যা তথা এনসিপি (এসপি)-র লোকসভা সাংসদ সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কন্যা রেবতী সুলের বিয়ে হয়েছে নাগপুরের শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ অরুণ লাখানির পুত্র সারাং লাখানির সঙ্গে। কিছুদিন আগেই অরুণ বিজেপির সমর্থনে মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদের সদস্য হয়েছেন। অর্থাৎ, ‘হিসাব’ ঠিকমতো মিললে ৩৫২-য় পৌঁছে যাওয়া কঠিন নয় এনডিএর পক্ষে। সে ক্ষেত্রে মাত্র ৮টি ভোট প্রয়োজন হবে মোদী-শাহদের। এমডিএমকে, অকালি দল (পিডি)-র, শিরোমণি অকালি দল এবং জম্মু ও কাশ্মীর আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির ১ জন করে সাংসদের সমর্থন পেলে লক্ষ্যের আরও কাছে পৌঁছে যাবেন তাঁরা।
প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, এই পরিস্থিতিতে প্রথমে সংবিধানের ১৩০-তম সংশোধনী বিল পাশ করানোর চেষ্টা করবে সরকারপক্ষ। সেই বিলে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ডের সাজা রয়েছে এমন মামলায় যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্র বা রাজ্যের মন্ত্রী টানা ৩০ দিন আটক থাকেন, ৩১তম দিনে তাঁর পদ চলে যাবে। গত বছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বিলটি লোকসভায় পেশ করেছিলেন। এর পরে সেটি যায় যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। সূত্রের খবর, বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বে জেপিসি-র বৈঠকে আগামী ১৭ জুলাই বিতর্কিত বিল সম্পর্কে রিপোর্ট গৃহীত হবে। জেপিসি-তে পাশ হওয়ার পরে বিলটি পেশ করা হতে পারে লোকসভায়। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস, ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতেই একের পর এক আঞ্চলিক দল ভাঙানোর কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। বাদল অধিবেশনে তার ছাপ দেখা যাবে কি না, আপাতত জল্পনা তা নিয়েই।