FIFA World Cup

মেসির ঘরে ফেরা নিয়ে উত্তাল মায়ামি

এ বারে সিলভিনা ও মার্সেলো আর দেশে পড়ে না থেকে সোজা আমেরিকায় চলে এসেছেন। তাঁরা এখন মায়ামিতে।

সুমিত ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৫
Share:

লিয়োনেল মেসি। — ফাইল চিত্র।

তিনি ‘ঘরে’ ফিরছেন!

এবং রঙিন মায়ামিতে এত সব আবেগের রং মিশেছে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য যে, এক-এক সময় মনে হচ্ছে, হলিউডের চিত্রপরিচালকেরা ক্যামেরা-ক্রু নিয়ে না এখানে চলে আসেন! বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসির মায়ামি ‘শো’ নিয়ে যা হচ্ছে, তাকে শুধু ফুটবল আখ্যা দেওয়া যায় না। টানটান কোনও রুদ্ধশ্বাস সিনেমার শুটিং মনে হবে।

না কি ভুল লিখলাম? সিনেমা তো কল্পকাহিনির ভিত্তিতেও রংচংয়ে করে দেওয়া যায়। এখানে একটার পর একটা যে সব জীবন্ত মেসি-প্রেমের উপাখ্যানের হদিস পাচ্ছি, তার সব ক’টাই যে বাস্তব। বিশ্বাস করা কঠিন হলেও সত্যি ঘটছে। যেমন সিলভিনা ও মার্সেলো। আর্জেন্টিনার সান লুইসের ভিলা মার্সিডিজ় শহরে হোটেল চালান এই দম্পতি। কাতারে আর্জেন্টিনা যখন প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত ভাবে হেরে গেল, সারা দেশ শোকে ডুবে, তাঁরা ‘লা আলবিসেলেস্টে’ ভক্তদের মনোবল ফেরানোর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলেন। বললেন, আর্জেন্টিনা খেললে তাঁরা বিনামূল্যে হোটেলের ঘর দেবেন সমর্থকদের। এর পরে দল জিততে থাকে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন দম্পতি। আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন আর ঘর ভাড়া নেননি তাঁরা। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে, প্রচুর টাকার লোকসান হবে জেনেও সিদ্ধান্ত পাল্টাননি। পাছে ‘দোষ লেগে যায়’ আর মেসিরা আবার হেরে যান।

এ বারে সিলভিনা ও মার্সেলো আর দেশে পড়ে না থেকে সোজা আমেরিকায় চলে এসেছেন। তাঁরা এখন মায়ামিতে। সমুদ্রসৈকতে ঘুরছেন, সাউথ বিচের বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে ঢুঁ মারছেন আর হাজার-হাজার আর্জেন্টিনীয় সমর্থকের সঙ্গে গলা মিলিয়ে মেসিদের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। কাতার বিশ্বকাপের সময়ে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে বুয়েনোস আইরেস থেকে রওনা হওয়ার দিন উড়ান ধরার কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্তও কাজ করেছেন। অনেক খরচের ব্যাপার, যতটা পুঁজি বাড়িয়ে আসা যায়। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন শহরে চারটি হোটেল চালান তাঁরা। যা আয় করেছেন, প্রায় সবই লেগে যাবে এই সফরে। কিন্তু বিশ্বকাপে মাঠে বসে মেসিকে দেখার আনন্দ, প্রাপ্তির পাশে কোনও অঙ্কের টাকাই যে বড় নয়!

আমেরিকার মাটিতে পা দিয়ে কেঁদে ফেলেন সিলভিনা। স্বপ্ন সফল হওয়া কি একেই বলে? গ্রুপ লিগে মেসিদের ম্যাচ দেখতে দেখতে স্টেডিয়ামে বসে আরও অঝোরে কেঁদেছেন। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে যাবেন কিন্তু এখনও টিকিট জোগাড় হয়নি। সাড়ে তিন হাজার ডলার করে চাইছে একটি টিকিটের জন্য। দেড় হাজার ডলারের বেশি দেওয়ার সামর্থ নেই তাঁদের। বাকি টাকা কোথা থেকে আসবে?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন