সরপ্রীত সিংহ। ছবি: রয়টার্স।
চলতি বিশ্বকাপে একাধিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় খেলছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম নিউ জ়িল্যান্ডের সরপ্রীত সিংহ। ইরানের বিরুদ্ধে তিনি প্রায় ৯০ মিনিটই মাঠে ছিলেন। বিশ্বকাপে খেলা প্রথম পঞ্জাবি ফুটবলার সরপ্রীত চাইছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে দেখতে।
এক সাক্ষাৎকারে সরপ্রীত বলেছেন, “আমার কাছে এই সম্মান খুব আলাদা। বিশেষ করে আমার পরিবার এবং সম্প্রদায়ের কাছে। প্রথম শিখ হিসাবে খেলতে পেরে গর্বিত। আশা করি আমাকে দেখে অনেকে এগিয়ে আসবে। আরও অনেক শিখ, পঞ্জাবি, সিংহকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে চাই।”
তাঁর সংযোজন, “ম্যাচের আগে ইন্টারনেটে আমাকে নিয়ে অনেক আলোচনা দেখতে পেয়েছি। আমার পারিবারিক ইতিহাসের কারণে জানতাম নতুন কিছু অর্জন করতে চলেছি। বিশ্বকাপে প্রথম সিংহ হিসাবে খেলতে পেরে আমি গর্বিত। আরও অনেককে দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।”
সরপ্রীতের পরিবার জালন্ধর থেকে নিউ জ়িল্যান্ডে চলে যান অনেক বছর আগে। সেই প্রসঙ্গে সরপ্রীত বলেছেন, “বাবা-মা অনেক দিন আগে জালন্ধর থেকে নিউ জ়িল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। আমার এবং ভাইদের জন্য একটা নতুন জীবন উপহার দিয়েছেন। তাই বিশ্বমঞ্চে বাবা-মায়ের পরিচিতি তুলে ধরতে পেরে খুব ভাল লাগছে। তা ছাড়া নিজেদের সংস্কৃতিও তুলে ধরতে চাই। সিংহদের অনুপ্রেরণা হতে চাই। গোটা বিশ্বের সকলের সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ।”
২০১৯-এ জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছিলেন সরপ্রীত। সিনিয়র দলের হয়েও খেলেছেন। সম্প্রতি নিউ জ়িল্যান্ডের ক্লাব ওয়েলিংটন ফিনিক্সের হয়ে খেলা শুরু করেছেন। তবে বায়ার্নের সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলতে পারেন না। সরপ্রীত বলেছেন, “পেশাদার ফুটবলার হওয়াই আমার স্বপ্ন ছিল। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে আমি খুব খুশি। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। আমার কাহিনিটাই বলে দিচ্ছে এটা সকলের পক্ষেই সম্ভব। ভারতীয় ফুটবলে প্রতিভার কমতি নেই। আগামী দিনে অনেকেই এ ভাবে উঠে আসতে পারে।”
বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ভারত বহু কিলোমিটার দূরে। তবু সরপ্রীতের মতে, সঠিক পরিকাঠামো, উন্নতির রাস্তা এবং সাপোর্ট সিস্টেম থাকলে ভারতীয় ফুটবলারদের বিশ্বমঞ্চে খেলা কোনও বড় ব্যাপার নয়। সরপ্রীত বলেছেন, “ভারতে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। শুধু সঠিক উন্নয়ন, ভাল পরিষেবা এবং পরিকাঠামো দরকার। তা হলেই আমার মতো অনেক ফুটবলার উঠে আসবে।”