FIFA World Cup 2026

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় পর্তুগাল, নাটকীয় ম্যাচে মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারালেন রোনাল্ডোরা, মন ভরল না দুই তারকার খেলায়

২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লুকা মদ্রিচ। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচ খেলেছেন দু’জন। তাঁদের বোঝাপড়ায় অনেক গোলও হয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চ অবশ্য ছিল দুই প্রাক্তন সতীর্থের অন্য বোঝাপড়া।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪০
Share:

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ছবি: রয়টার্স।

পর্তুগাল – ২ (রোনাল্ডো, রামোস)

Advertisement

ক্রোয়েশিয়া – ১ (পেরিসিচ)

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো না লুকা মদ্রিচ? ফুটবলজীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া দুই তারকা ফুটবলারের লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। শুক্রবার সকালে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। মদ্রিচের দলকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডো। অফসাইডের জন্য বাতিল হল দু’দলের তিনটি গোল।

Advertisement

সাফল্যের খতিয়ানে রোনাল্ডো এবং মদ্রিচ পরস্পরকে টেক্কা দিতে পারেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কাঁধেই গুরু দায়িত্ব ছিল। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জন। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে রোনাল্ডোর বেশ কিছু গোল রয়েছে রিয়ালের হয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। সেই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কেউই দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি।

২০২৫ সালের ৩ জুলাই গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন রোনাল্ডোর জাতীয় দলের সতীর্থ দিয়েগো জোতা। তাঁকে একটা জয় উপহার দিতে চেয়েছিলেন পর্তুগালের ফুটবলারেরা। সেই লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেন তাঁরা। প্রেসিং ফুটবলে ক্রোয়েশিয়াকে চাপে রাখছিল রবার্তো মার্তিনেজ়ের দল। ৪ মিনিটের মাথাতেই ভাল সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। রাফায়েল লিয়াওর তৈরি করা আক্রমণ কাজে লাগিয়ে গোল লক্ষ্য করে দু’টি শট নেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। দু’টিই আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কোনও দলই। ৪ মিনিটে পর্তুগালের ওই সুযোগ ছাড়া তেমন সুযোগও তৈরি হয়নি। ফাইনাল থার্ডে গিয়ে আটকে গিয়েছে দু‌’দলই। রোনাল্ডো এবং‌ মদ্রিচকেও নিষ্প্রভ দেখিয়েছে। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কেউই এমন কিছু করতে পারেননি, যা সমর্থকদের ভরসা দিতে পারে।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৪৮ মিনিটে মাতেয়ো কোভাচিচের শট পর্তুগালের এক ডিফেন্ডারের গায়ে গেলে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের ম্যাচে নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধ ফলাফল নির্ধারণ করে দিল। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান পেরিচিস। বাঁ পায়ের শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারের থেকে রোনাল্ডোর পা পিছিয়ে থাকলেও তাঁর শরীরের উপরের অংশ বেরিয়ে ছিল।

গোল বাতিল হলেও পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। রোনাল্ডোদের একের পর এক আক্রমণ চাপে ফেলে দেয় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি সিআর সেভেন। দলকে সমতায় ফেরালেও রোনাল্ডোর খেলার মধ্যে এ দিন পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। তবে এর আগেই এগিয়ে যাওয়া সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ৭৫ মিনিটে মাতেয়ো কোভাচিচ প্রায় মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টা বল নিয়ে ঢুকে যান পর্তুগালের বক্সে। তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৮৫ মিনিটে আবার এগিয়ে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া। সুচিচের গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের জন্য। এ ক্ষেত্রেও তাঁর শরীরের উপরের অংশ প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের থেকে সামান্য এগিয়ে ছিল।

যখন মনে হচ্ছে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে তখনই পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গন্সালো রামোস। সংযুক্ত সময়ে লিয়াওয়ের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই গোল করেন রামোস। এই গোলের পর সকলেই প্রায় ধরে নিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার আর কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু নাটকের বাকি ছিল তখনও। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। উল্লাসে মেতে ওঠেন মদ্রিচেরা। রোনাল্ডোর মুখে নেমে আসে হতাশা। কিন্তু অফসাইডের জন্য এই গোলও বাতিল হয়ে যায়। রেনাতো ভেগার মাথায় লাগার পর বল পান পেরিসিচি। তিনি সে সময় অফসাইডেই ছিলেন। নিজে গোল করতে না পারলেও এক সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দেন। তিনি গোল করেন। তা-ও গোল না দিয়ে অফলসাইড দেওয়া হয়। ‘ভার’-এর বিশ্লেষণ ভেগা ইচ্ছাকৃত বল স্পর্শ করেননি। ক্রোয়েশিয়ারই এক ফুটবলারের হেড তাঁর মাথায় লেগে পেরিসিচের কাছে যায়। তাই অফসাইড। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement