ভূমিপুত্র কোচ ও ফুটবলারেই সফল গোকুলম

গোকুলম-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছেন টিমের মালিক প্রবীণ। মানুষটি ফুটবল অন্ত প্রাণ। ওঁর জীবনে দু’টো লক্ষ্য ছিল। এক, ওঁর নিজের দল আই লিগ খেলবে।

Advertisement

আই এম বিজয়ন

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৮ ০৫:০১
Share:

আই লিগে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভা এফসি-কে হারিয়ে চমক দিয়েছিল কেরলের দল গোকুলম এফসি। এ বার সুপার কাপের মঞ্চেও চমক দেখাতে শুরু করল বিনো জর্জ-এর দল। বৃহস্পতিবার বাছাই পর্বের ম্যাচে গোকুলম হারিয়েছে আইএসএল-এ জন আব্রাহাম-এর দল নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-কে। যাদের কোচ আবার চেলসির প্রাক্তন ম্যানেজার আভ্রাম গ্র্যান্ট। নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র বাজেটও গোকুলম-এর দশ গুণ। গোকুলম-এর এই জয় এটা প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে ভারতীয় কোচরাও বিশ্বসেরা কোচেদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেন।

Advertisement

গোকুলম-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছেন টিমের মালিক প্রবীণ। মানুষটি ফুটবল অন্ত প্রাণ। ওঁর জীবনে দু’টো লক্ষ্য ছিল। এক, ওঁর নিজের দল আই লিগ খেলবে। দুই, সেই দলে কেরলের ভূমিপুত্র ফুটবলার-দের প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ বারের ফুটবল মরসুমে গোকুলম এফসি-র সাফল্যের পিছনে রয়েছে ম্যাচ ফিট স্থানীয় ও বিদেশি ফুটবলারের মেলবন্ধন। টিম আই লিগ খেলবে জানার পরে দলের মালিক প্রবীণ খোলাখুলি বলেছিল, খুব বেশি খরচ করে বিদেশি নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বড় নামের পিছনে ছুটবে না গোকুলম। আই লিগ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই প্রবীণ নেমে পড়েছিল বিদেশি ফুটবলার খুঁজতে। বিনো জর্জ-কে যখন কোচ করেছিল, তখন অনেকেই বিদেশি কোচ নেওয়ার জন্য বলেছিল প্রবীণকে। কিন্ত গোকুলম মালিক বিনো-র উপর আস্থা রেখে বলেছিল, সুযোগ ও সময় পেলে চমকে দিতে পারে বিনো। বাস্তবে ঠিক সেটাই হয়েছে। বিনো-কে এএফসি-র প্রো লাইসেন্স কোচ। ফুটবলার হিসেবে ও হয়তো প্রত্যাশিত মঞ্চে পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু কোচ হিসেবে দুর্দান্ত কাজ করছে। ওর কোচিং-এর বিশেষত্ব হচ্ছে আক্রমণাত্মক ফুটবল।

এ বারের আই লিগে শুরুর দিকে সে রকম ছন্দ না পেলেও টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই ঝকঝকে হয়েছে বিনো-র কোচিং-এ গোকুলম এফসি-র পারফরম্যান্স। ঘুরে দাঁড়িয়েছে কেরলের দলটি। কেরলের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে ও এই আত্মবিশ্বাসটা জাগাতে পেরেছে, আমরাও ভারতীয় ফুটবলের নাম করা দলগুলোকে হারাতে পারি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার আইএসএল-এর দলের বিরুদ্ধে গোকুলম-এর জয়ের পরে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাইছেন, ফুটবলের মানের বিচারে আই লিগ কি আইএসএল-এর চেয়ে উপরে রয়েছে?

আমার মতে আই লিগ অবশ্যই আইএসএল-এর চেয়ে খেলার মানে এগিয়ে। হয়তো প্রশাসনিক ভাবে বা বিপণনের ক্ষেত্রে আইএসএল-এর চেয়ে পিছিয়ে থাকবে আই লিগ। কিন্তু ঠিক মতো বিপণন করা হলে আই লিগ অনেক ফুটবল পণ্ডিতকেই ভুল প্রমাণ করবে। কেন? তা হলে গোকুলম-এর দিকে দেখুন। স্থানীয় ফুটবলার টিমে প্রচুর। বয়সে তরুণ এই সব ফুটবলাররা সব ম্যাচ ফিট। ওদের সঙ্গে যে সব বিদেশি ফুটবলার-রা খেলছে কেরলের দলটির হয়ে, তারা নামে বা ধারে-ভারে আইএসএল-এর নাম করা বিদেশিদের সঙ্গে তুলনাতেই আসতে পারে না। কিন্তু ফুটবল এমন একটা মজার খেলা যে, তা নাম-অতীত ইতিহাস দিয়ে হয় না। এখানে ম্যাচের দিনে তুমি নেমে কী করতে পারলে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। যার পিছনে সবচেয়ে প্রয়োজন ম্যাচ ফিটনেস। খুব ভাল করে আই লিগ এবং আইএসএল খুঁটিয়ে দেখার পরে বলতেই হচ্ছে আই লিগের ফুটবলাররা একটু বেশি ম্যাচ ফিট। প্রত্যেক বছর আইএসএল শুরু হওয়ার আগে শুনি, এই টুর্নামেন্টের অনেক টিম নাকি বিদেশে প্রাক-মরসুম প্রস্তুতি সারতে যায়। আমার প্রশ্ন, কেন যায়? বিদেশে গিয়ে নিখরচায় বিদেশ ভ্রমণ আর সেখানকার তৃতীয় বা চতুর্থ সারির টিমগুলোর সঙ্গে খেলা ছাড়া আর কিছুই হয় না। যদি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার থাকে, তা হলে তো বিদেশি ফুটবলারদের ভারতে এসে আগাম ট্রেনিং-এ নেমে পড়া উচিত। আরও একটা বিষয় নিয়ে আলোচনার দরকার আছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement