সিইও নিয়োগের পাশে লোঢা-সুপারিশ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে বোর্ডের

প্রথমে স্বার্থসংঘাত নিয়ে কড়া নির্দেশ। পরে নিরপেক্ষ অডিট সংস্থা এবং ওম্বুডসম্যান নিয়োগ। এ বার সিইও।লোঢা কমিশনের দেখানো পথেই যে তারা এগোচ্ছে, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু এখনও আদালতে লড়ে যাচ্ছে নিজেদের যুক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:২৬
Share:

প্রথমে স্বার্থসংঘাত নিয়ে কড়া নির্দেশ। পরে নিরপেক্ষ অডিট সংস্থা এবং ওম্বুডসম্যান নিয়োগ। এ বার সিইও।

Advertisement

লোঢা কমিশনের দেখানো পথেই যে তারা এগোচ্ছে, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু এখনও আদালতে লড়ে যাচ্ছে নিজেদের যুক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। এমনকী সে জন্য মামলায় জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে অনুমোদিত সংস্থাদেরও।

আগামী মাস থেকে দায়িত্ব নিচ্ছেন বোর্ডের নতুন সিইও রাহুল জোহরি। যিনি এত দিন ছিলেন ডিসকভারি নেটওয়ার্ক এশিয়া প্যাসিফিকের এগজিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাদের দক্ষিণ এশিয়ার জেনারেল ম্যানেজার। প্রায় ১৫ বছর টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ করার পর এ বার দেশের ক্রিকেট পরিচালনা ও উন্নতির দায়িত্বে।

Advertisement

এই কাজের জন্য একজন জুতসই পেশাদার খুঁজে বার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মুম্বইয়ের কর্ন ফেরি নামক একটি সংস্থাকে। তারাই চার মাস ধরে ঝাড়াই বাছাই করার পর খুঁজে বার করলেন এই জোহরিকে। যাঁকে নিয়ে বোর্ড সচিব অনুরাগ ঠাকুরের আশা, ‘‘বোর্ডে পেশাদারিত্ব আনার পথে এটা আর একটা পদক্ষেপ। আশা করি আমাদের নতুন সিইও বোর্ডে পূর্ণ পেশাদারিত্ব আনতে সাহায্য করবেন।’’

সিইও নিয়োগ যে জরুরি, তা তিন সদস্যের লোঢা কমিশনের রিপোর্টে স্পষ্ট সুপারিশ করা হয়েছিল। জানুয়ারিতে পেশ হওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ক্রিকেটের বিপণন ও ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজ সিইও-র নেতৃত্বেই হওয়া উচিত। সেই সুপারিশ মেনে জোহরিকে ‘‘বোর্ডের কাজকর্মে আরও গতি আনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ ও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন’’-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি লোঢার সুপারিশ মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বোর্ড কিন্তু আদালতে এখনও ‘এক রাজ্য এক ভোট’-এর মতো কয়েকটি সুপারিশের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে যার শুনানিতে বডোদরা ক্রিকেট সংস্থার হয়ে সওয়াল করতে নেমে বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দেন, এক রাজ্য এক ভোট নীতি বাস্তবায়িত হলে ক্রিকেটে আরও বেশি রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটবে। বিচারপতিরা তার ব্যাখ্যা চাইলে অবশ্য সিব্বল ‘‘আপনারা তো সবই জানেন’’ বলে বিষয়টির ইতি ঘটানোর চেষ্টা করেন।

আদালতের সঙ্গে এই লড়াইয়ে বোর্ড এখন আর একা নয়। সার্ভিসেস, ইউজিসি ও রেলওয়েজের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সংস্থাও ঢুকে পড়েছে এর মধ্যে। যার অর্থ, কেন্দ্রীয় সরকারও এই আইনি লড়াইয়ে এখন অন্যতম পার্টি হয়ে উঠেছে। এক রাজ্য এক ভোটের নীতিতে যে তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে, এই যুক্তি নিয়ে রেলওয়েজ কোর্টে আবেদন পেশ করেছে। বোর্ড সূত্রের খবর, রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই এই আইনি লড়াইয়ে ঢুকে পড়ল রেলওয়েজ। এ বার খোদ কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলায় ‘পার্টি’ হয়ে যাওয়ায় কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement