ফাইনাল ম্যাচে স্টেডিয়াম ভরালেন দর্শকেরা। (ডান দিকে) বাংলাদেশের পতাকা হাতে সমর্থকেরা। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। — বিশ্বরূপ বসাক
মাঠে মুখোমুখি। গ্যালারিতে পাশাপাশি। দুই বাংলার এই মেলবন্ধনেই হল রেকর্ড।
বুধবার ফাইনালে সাফ প্রতিযোগিতায় রেকর্ড ভিড়ের নজির গড়ল কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠায় ওপারের রংপুর, পাটগ্রামের মতো জায়গা থেকে এ দিন খেলা দেখতে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে হাজির হন রুহুল আমিন বাবুল, নূর নবী, আসিফ রোহিতদের মতো শতাধিক সমর্থক। আবার শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা ছাড়াও উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ির দূর দূরান্ত, কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন অনেকেই। স্টেডিয়াম কমিটির কর্মকর্তারা দাবি করেন এদিন ১৫ হাজারেরও বেশি দর্শক হয়েছে।
খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন সাফের সাধারণ সচিব আনোয়ারুল হক, রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্ল, আইএফএ-র সভাপতি এবং ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন সে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা শাখার চেয়ারম্যান মাফুজা আখতার কিরণ। রংপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা গোলাম রব্বানি সঙ্গে এসেছেন অন্তত ৫০ জন সমর্থককে। এ দিন মাঠে ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত ভারতীয় এবং বাংলাদেশ দলের কোচ থেকে কর্মকর্তারাও, আয়োজন ফেডারেশন এবং আইএফএ কর্তারাও। খুশি আইএফএ এবং ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও। আইএফএ ও ফেডারেশনের তরফে ম্যাচের আয়োজনের কো-অর্ডিনেটর সুদেষ্ণা মুখোপাধ্যায় জানান, সাফ মহিলা ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে এ দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম দুই বাংলার মিলন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
ভারতীয় কোচ সাজিদ ইউসুফ দর বলেন, ‘‘এর আগে তিনবার বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানে সাফ মহিলা ফুটবল হয়েছে। সেখানে আমাদের সমর্থক এখানকার মতো এত বিরাট সংখ্যায় ছিল না। এ দিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন পাওয়ার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাব।’’ ফাইনালে হেরে গেলেও সাফ প্রতিয়োগিতায় রানার্স হওয়ায় খুশি বাংলাদেশের সমর্থকদের অনেকেই। তাদের কোচ গোলাম রব্বানি বলেন, ‘‘মহিলা ফুটবল দেখতে দর্শকের ভিড় আমার ভাল লেগেছে।’’
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে খেলা দেখতে অসেছিলেন মহম্মদ রজ্জাক, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে আব্দুল রউফরা। ডংমেই গ্রেস ভারতের হয়ে প্রথম গোল দিতেই ভারতীয় পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁরা জানান, ‘‘এ দিন ফাইনালে ভারতের সাফ জেতার শরিক হয়ে স্টেডিয়ামে থাকতে পারার আনন্দই আলাদা।’’ দলবেঁধে যান শিলিগুড়ির দোমাইল এলাকার রয়্যাল ক্লাবের মহিলা ফুটবলার শিবানী শর্মারা। জলপাইগুড়ি থেকে অনিল মিত্র, সুজন সিকদাররাও ছিলেন তেরঙ্গা নিয়ে।