জয়ের পর সিনারের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।
পুরো ম্যাচও খেলতে হল না। তার আগেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলেন ইয়ানিক সিনার। বিপক্ষের খেলোয়াড় অবসর নেওয়ায় বিশেষ ঘাম ঝরাতে হল না তাঁকে। মেয়েদের পঞ্চম বাছাই এলেনা রিবাকিনাও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন। তবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে নেয়োমি ওসাকার পোশাক নিয়ে। এ দিকে, মজা করে কার্লোস আলকারাজ়ের থেকে সার্ভিসের ‘স্বত্ব’ দাবি করেছেন নোভাক জোকোভিচ।
মঙ্গলবার রাতে সিনারের প্রতিপক্ষ ছিলেন হুগো গাস্টন। দু’বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী সিনার ৬-২, ৬-১ এগিয়ে থাকার সময় গাস্টন আর টানতে পারেননি। মাঠেই চিকিৎসা করান। তার পরেই ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
গাস্টনের যে কিছু হয়েছে, সেটা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন সিনার। ম্যাচের পর তিনি বলেন, “আমি দেখছিলাম ও খুব একটা জোরে সার্ভ করতে পারছে না। বিশেষ করে দ্বিতীয় সেটে। তবে এ ভাবে ম্যাচ জিততে কেউ চায় না। ও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়। জানতাম আমাকে ভাল টেনিস খেলতে হবে, আগ্রাসী থাকতে হবে। সেটা পেরেছি। মেলবোর্নে আবার ফিরতে পেরে ভাল লাগছে।”
ওপেন যুগে পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসাবে টানা তিনটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের লক্ষ্যে নেমেছেন সিনার। অতীতে জোকোভিচ (২০১১-২০১৩) এই কাজ করে দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে সিনারের প্রতিপক্ষ জেমস ডাকওয়ার্থ।
এ দিন ষষ্ঠ গেমেই সিনারের র্যাকেট থেকে একটি অসাধারণ ড্রপ শট দেখা যায়, যা থেকে তিনি ব্রেক পয়েন্ট পান। বলের কাছে পৌঁছতেই পারেননি গাস্টন। সিনার নেটের কাছে গিয়ে প্রতিপক্ষের শারীরিক অবস্থা জানতে চান। তখন চোট না পেলেও পরের গাস্টনের শরীর ক্রমশ অসুস্থ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দু’সেট পরে ম্যাচ ছেড়ে দেন।
মহিলাদের প্রথম দশ বাছাইয়ের মধ্যে সবার শেষে নেমেছিলেন রিবাকিনা। স্ট্রেট সেটে জিতলেও লড়াই সহজ হয়নি। তিনি ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন কাজা জুভানকে। এই নিয়ে টানা সাত বার মেলবোর্নে প্রথম রাউন্ডে জিতলেন। তাঁর সার্ভিস এ দিনও নজর কেড়ে নিয়েছে। প্রায় প্রতিটি গেমেই দ্রুত ৪০-০ এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তিন বার বিপক্ষকে একটিও পয়েন্ট না দিয়ে গেম জিতে নেন। শেষ গেমের আগে একটিও ব্রেক পয়েন্ট হজম করতে হয়নি রিবাকিনাকে।
তবু ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, “সহজ ম্যাচ ছিল না। প্রথম সেটে রিটার্ন করতে সমস্যা হচ্ছিল। তবে সার্ভিস নিয়ে খুশি। অনেক পরিশ্রম করেছি। কাজা ভাল খেলোয়াড়। আশা করি আরও অনেক বার ওর সঙ্গে খেলতে পারব।”
এ দিনই মেলবোর্নে শেষ ম্যাচ খেললেন গেল মঁফিস। তিনি অস্ট্রেলিয়ারই কোয়ালিফায়ার ডেন সুইনির কাছে ৭-৬, ৫-৭, ৪-৬, ৫-৭ গেমে হেরেছেন। ৩৯ বছরের মঁফিসকে ম্যাচের পর সমর্থকদের উদ্দেশে কিছু কথা বলতে দেওয়া হয়েছিল। ফরাসি খেলোয়াড় বলেন, “২০০৩ থেকে এখানে খেলছি। এখন ২০২৬। অসাধারণ একটা যাত্রাপথ শেষ হল। অবিশ্বাস্য সমর্থকদের পেয়েছি এখানে। সকলকে ধন্যবাদ।” মঁফিস আগেই জানিয়েছেন, এটাই তাঁর শেষ মরসুম।
এ দিন জিতেছেন ওসাকাও। তবে খেলার চেয়েও বেশি তাঁর পোশাক নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। কয়েন টসের আগে তিনি সমুদ্রের মতো নীল রংয়ের একটি ট্র্যাকসুট জ্যাকেট এবং সাদা ওয়াইড-লেগ বটম পরে কোর্টে ঢোকেন। সঙ্গে ছিল সাদা ছাতা। সাদা রংয়ের একটি টুপিও পরেছিলেন, যা তাঁর মুখের বেশির ভাগটাই ঢেকে রেখেছিল।
ওসাকার সেই পোশাক। ছবি: রয়টার্স।
অতীতেও বার বার নতুন নতুন পোশাক পরে চমকে দিয়েছেন ওসাকা। মেলবোর্নেও তার ব্যতিক্রম হল না। ওসাকার পোশাক দেখে চমকে গিয়েছেন ধারাভাষ্যকারেরা। জাপানের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোনও টেনিস ব্যাগ ছিল না। জানা গিয়েছে, পোশাকশিল্পী রবার্ট উন ওসাকার পোশাকের নকশা করেছেন। অতীতে বিয়োন্স, কার্ডি বি এবং আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো গায়কদের পোশাকের নকশাও করেছেন উন। তবে টেনিস কোর্টে আদৌ এই পোশাক মানানসই কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই ওসাকার পোশাকের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কোর্টে নেমে আন্তোনিয়ো রুজিচকে ৬-৩, ৩-৬, ৬-৪ গেমে হারান ওসাকা।
সিনারের মতোই হাল হয়েছে তাঁর দেশীয় খেলোয়াড় লোরেঞ্জো মুসেত্তির। রাফায়েল কলিগননের বিরুদ্ধে ৪-৬, ৭-৬, ৭-৫, ৩-৪ এগিয়ে থাকার সময় বিপক্ষ খেলা ছেড়ে দেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন মুসেত্তি। অষ্টম বাছাই বেন শেল্টন ৬-৩, ৭-৬, ৭-৬ হারিয়েছেন উগো হুমবার্টকে। স্টেফানোস চিচিপাস ৪-৬, ৬-৩, ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন শিনতারো মোচিজ়ুকিকে। নবম বাছাই টেলর ফ্রিৎজ় ৭-৬, ৫-৭, ৬-১, ৬-৩ হারিয়েছেন ভ্যালেন্টিন রোয়ারকে।
মেয়েদের বিভাগে, নবম বাছাই এবং গত বারের বিজয়ী ম্যাডিসন কিজ় ৭-৬, ৬-১ হারিয়েছেন ওলেকসান্দ্রা ওলিনিকোভাকে।
এ দিকে, চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন আলকারাজ় এবং জোকোভিচের সার্ভিসের মতো অনেক মিল দেখা গিয়েছে। হাসতে হাসতে জোকোভিচ জানিয়েছেন, তিনি আলকারাজ়ের থেকে সার্ভিসের ‘কপিরাইট’ বা স্বত্ব দাবি করবেন। জোকোভিচের কথায়, “সার্ভিস দেখামাত্রই ওকে বার্তা পাঠিয়েছি। বলেছি, আমাদের স্বত্ব নিয়ে কথা বলা দরকার। এখানে দেখা হওয়ার পর ওকে বললাম, জয়ের লভ্যাংশের কত শতাংশ আমি পাব, সেটা নিয়ে কথা বলতে হবে। আমি নিশ্চিত ও যতগুলো এস সার্ভিস মারবে, সেগুলো আমাকে উৎসর্গ করবে।”