কোহালির সেই পাকিস্তানি ভক্ত দারাজ।
কাপ সেমিফাইনালের আগে বিরাট কোহালির জন্য শুভেচ্ছা পাঠালেন তাঁর পাকিস্তানি ফ্যান।
যে বিরাট-ভক্ত গত মাসেই পাকিস্তানের হাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
উমর দারাজ।
তার পর থেকে পঞ্জাব প্রদেশের ওকারায় তাঁর বাড়িতে বসেই মন দিয়ে ক্রিকেট দেখছেন উমর। জীবনে যতই ঝড়ঝাপটা বয়ে যাক না কেন, কারাবাসের পরেও তাঁর আইডলকে কিন্তু বদলে ফেলেননি উমর। জেল থেকে বেরোনোর পরেও নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে থাকতে হয়, পাকিস্তানের বছর বাইশের এই দর্জিকে। কিন্তু তাতে কী! উমর এখনও পুরোদমেই বিরাট কোহালির একজন অকৃত্রিম ফ্যানই রয়ে গিয়েছেন।
তফাৎ কেবল এটাই যে এখন আর উমরের বাড়ির ছাদে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়ছে না। গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়েই তো জেলে যেতে হয়েছিল উমরকে। অস্ট্রেলিয়াতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সে দিন ভারতকে জিতিয়েছিলেন কোহালি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিরাটের সে দিনের নব্বই নটআউট ইনিংসটা দেখার পরেই বাড়ির ছাদে গিয়ে ভারতীয় জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বিপাকে পড়েছিলেন উমর। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তানের স্বতন্ত্রতায় আঘাত করেছেন উমর। পাকিস্তানের দণ্ডবিধি অনুযায়ী যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর শাস্তিটা হতে পারে দশ বছরের জেল এবং জরিমানা।
ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে উমরের গ্রেফতারের খবর গোটা বিশ্বেই আলোড়ন তুলেছিল। বিশেষ করে ভারতে তো বটেই। যা জানার পর ভারতীয় মিডিয়ার কাছে বিরাটের ভাই বিবৃতি দিয়েছিলেন, দেশে ফিরলে উমরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পাক সরকারের কাছে বিরাটকে আবেদন জানাতে বলবেন তিনি।
কিন্তু পর পর ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সে সুযোগ পাননি কোহালি।
সে কথা মনে করালে উমর বলছেন, বিরাট তাঁর যাবতীয় ব্যস্ততা সরিয়ে তাঁর মুক্তি নিয়ে আবেদনের সময় পাবেন তা তিনি এক বারও ভাবেননি। তবে সেমিফাইনালের আগে সীমান্তের ওপারে তাঁর স্বপ্নের নায়ককে শুভেচ্ছা পাঠাতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি উমর।
‘‘আমি আজও কোহালির এক জন বড় ভক্ত।’’ ওকারার বাড়িতে বসে এবিপিকে বলছেন উমর। এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘‘আপনার মাধ্যমে কোহালিকে বেস্ট অব লাক বলে দিলাম। আর যে ভাবে কোহালি খেলছে তাতে আমি নিশ্চিত ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাবেন।’’
সঙ্গে এটাও বলছেন, ‘‘জানি বিরাট কোহালি এক জন ব্যস্ত মানুষ। আর তাঁর কাছে আমি এক জন নগণ্য মানুষ। তাও ওঁকে সমর্থন করে যাব। যে ভাবে এশিয়া কাপ আর তার পরে বিশ্বকাপে ব্যাট করে যাচ্ছে তা দেখার পর মনে হয় উনি অন্য কোনও গ্রহ থেকে এসেছেন।’’
ভারতের পতাকা উড়িয়ে নিগৃহীত হতে হয়েছিল বিরাটের এই পাকিস্তানি ফ্যানকে। শুধু পুলিশ নয়, প্রতিবেশী এবং বন্ধুরাও তাঁর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে পিছুপা হননি। যদিও উমর মানেন না তিনি কোনও গুরুতর অপরাধ করেছিলেন।
উমর দারাজ বলছেন, ‘‘ক্রিকেটকে কখনই ছাড়তে পারব না। আমি নিজের টিম পাকিস্তান এবং শাহিদ আফ্রিদিকে ভালবাসি। তবে আমার ফেভারিট বিরাট কোহালি।’’
পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উমরের ফেভারিট টিম ভারত।
বিরাটের ভক্ত বলছেন, ‘‘ভারত-পাকিস্তান যখন মুখোমুখি হয়, তখন আমি সবসময়ই পাকিস্তানের ফ্যান। কিন্তু ভারত যখন অন্য কোনও টিমের বিরুদ্ধে খেলে তখন আমি ভারতকেই সমর্থন করি।’’