Sports News

কঠিন হয়ে গেল মোহনবাগানের আই লিগ জয়ের রাস্তা

যে ভাবে শুরু করেছিল সে ভাবে শেষ করতে পারল না মোহনবাগান। যার ফল আইজলের পাহাড় থেকে রীতিমতো হারের বোঝা মাথায় নিয়েই সমতলে ফিরতে হচ্ছে মোহনবাগানকে। শনিবার আইজলকে হারাতে পারলেই আই লিগ নিশ্চিত হয়ে যেত মোহনবাগানের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৭ ১৭:৩২
Share:

যে ভাবে শুরু করেছিল সে ভাবে শেষ করতে পারল না মোহনবাগান। যার ফল আইজলের পাহাড় থেকে রীতিমতো হারের বোঝা মাথায় নিয়েই সমতলে ফিরতে হচ্ছে মোহনবাগানকে। শনিবার আইজলকে হারাতে পারলেই আই লিগ নিশ্চিত হয়ে যেত মোহনবাগানের। সেখানে আইজলের সামনে ছিল আর একটু কঠিন লক্ষ্য। দু’গোলে জিততে হত আজই চ্যাম্পিয়ন হতে হলে। সেটা না পারলেও ১-০ গোলে জিতে ১৭ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে আবার শীর্ষে উঠে এল খালিদ জামিলের আইজল। সমসংখ্যক ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকল মোহনবাগান। হাতে রয়েছে মাত্র একটি করে ম্যাচ। আইজলের সামনে শুধু একটা ড্র। ঠিক যে ভাবে দু’মরসুম আগের আই লিগে মোহনবাগানের লক্ষ্য ছিল। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেই সে বার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান।

Advertisement

আরও খবর: এক গোলে হার মোহনবাগানের, ঝুলে থাকল আই লিগের ভাগ্য

এদিন প্রথম থেকে যে ভাবে শুরু করেছিল মোহনবাগান সেটা ধরে রাখতে পারলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে পারত অন্তত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে অত্যধিক রক্ষনাত্মক হয়ে যাওয়ার খেসারত দিতে হল বাগানকে। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার আইজল বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ডাফি, সনি, জেজেরা। কখনই সেই আক্রমণ প্রতিহত করলেন গোলকিপার অ্যালবিনো গোমস আবার কখনও তা নিজেদের ভুলেই হারালেন বাগান স্ট্রাইকাররা। বৃষ্টি ভেজা আইজলের রাজীব গাঁধী স্টেডিয়াম একটা সময় মেঘ-কুয়াশায় এমনভাবে ঢেকে গিয়েছিল যে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন রেফারি। কিন্তু তার মধ্যেই বেশিরভাগ সময় খেলা চলে। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। পুরোটাই চলে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে।

Advertisement

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলার হাল ধরে নেয় আইজল এফসি। ততক্ষণে বৃষ্টি অনেকটাই কমে এসেছে। পাহাড়ি দলের পর পর আক্রমণে ততক্ষণে মোহনবাগান রক্ষণ রীতিমতো চাপে। আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়াতে এর পর আইজলের ঘরের ছেলে জেজে লালপেখলুয়াকে তুলে বলবন্ত সিংহকে নামান কোচ সঞ্জয় সেন। যদিও সেটা প্রায় শেষ মুহূর্তে। এএফসি কাপে দারুণ খেলা বলবন্তকে কেন নামাতে এত দেড়ি করলেন সঞ্জয় সে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। ৮৫ মিনিটে নেমে আর কিছুই করার ছিল না বলবন্তের। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই মোহনবাগানের কাটল রক্ষণ সামলে। আর সেই রক্ষনাত্মক মোহনবাগানের জালে যখন আইজল বল জড়াল তখন ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের আর বাকি সাত মিনিট। আমনার মাপা কর্নারে জোমিংলিয়ানার হেড সরাসরি চলে যায় মোহনবাগান গোলে। গোল ছেড়ে ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছিলেন দেবজিৎ মজুমদার।

৮৩ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে আর সমতায় ফিরতে পারেনি মোহনবাগান। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা রালতে। হেরেই থামতে হল বাগানকে। এ বার সামনে একটি করে ম্যাচ বাকি দু’দলেরই। ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে আইজল। প্রতিপক্ষ শিলং। চেনা পরিবেশ অনেকটাই। পাহাড়েই খেলতে হবে। মোহনবাগানকে ঘরের মাঠে খেলতে হবে চেন্নাই সিটির বিরুদ্ধে। মোহনবাগান জিতলেও এই অবস্থায় চ্যাম্পিয়ন আইজলই। আইজল হেরে গেলে তৈরি হবে একাধিক হিসেবে। একই দিনে একই সময় এই দুই ম্যাচ খেলা হবে দুই জায়গায়।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন