আরও চার বছর ভারতীয় হকি দলের দায়িত্ব তাঁর হাতেই থাকার খবরে দারুণ স্বস্তিতে রোল্যান্ট অল্টমান্স।
সর্দার-সৃজেশদের ডাচ কোচকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমেই বলে দিলেন, ‘‘আমি তো সেই প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি অলিম্পিক্স পদক জেতার জন্য দরকার অন্তত চার থেকে ছয় বছরের প্রস্তুতি। দু’হাজার কুড়ি অলিম্পিক্সের আগে আমি যেটা এখন পাব।’’
এক দিকে তিনি ভারতীয় হকির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর। অন্য দিকে তিনিই জাতীয় দলের কোচ। দু’টো দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে চাপ ও অসুবিধের মুখোমুখি হয়েছেন অল্টমান্স। কারণ, তিনি বললেন, ‘‘এ বার কোনও চাপ ছাড়াই ইন্ডিয়া টিম নিয়ে আমার পরিকল্পনাগুলো প্রয়োগ করতে পারব মনে হয়। এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব আপনাদের দেশের হকি দলকে।’’
টোকিও অলিম্পিক্সে পদক জেতা প্রধান লক্ষ্য হলেও ভারতীয় হকি দল নিয়ে তার আগে আরও একটি লক্ষ্য পূরণ করতে চান অল্টমান্স। ‘‘এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতায় এখন আমরা এশিয়া সেরা। আমাদের তাই পরের টার্গেট দু’হাজার আঠারো বিশ্বকাপ হকি। যেটা ভুবনেশ্বরে হবে। ঘরের মাঠে, গ্যালারি ভরা সমর্থন পিছনে নিয়ে বিশ্ব সেরা হওয়ার এমন সুবর্ণ সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করা উচিত নয় ভারতীয় হকি দলের,’’ বলে দিলেন অল্টমান্স।
ভারতের বিদেশি কোচের মতে ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যম্পিয়ন্স ট্রফি ভারতের পাওয়াটা বিরাট মুহূর্ত হলেও শুধু এই একটা প্রতিপক্ষকে হারানোই তাঁর টিমের লক্ষ্য ছিল না কুয়ান্তানে। অল্টমান্স বললেন, ‘‘আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ভাল খেলে জিতে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা। সেটা আমাদের দল করতে পারায় আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। তার পর সত্যি বলতে, ফাইনালে পাকিস্তানকে সামনে পেয়ে আমার মতই চাপে পড়ে গিয়েছিল আমার দলও। তার পর ফাইনালে এক নম্বর গোলকিপার সৃজেশ মাঠে নামতে না পারায় টিম আরও চাপে ছিল। কিন্তু ছেলেদের তখন বলেছিলাম, তোমরা শুধু নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে যাবে পুরো ষাট মিনিট। আর সঙ্গে একটা কথা মনে রাখবে, গ্রুপে আমরা ওদের হারিয়েছি এখানে। ওই কথাটা সে দিন টনিকের মত কাজ করেছে আমাদের টিমের ভেতর।’’
অল্টমান্স স্বীকার করছেন, ভারতীয় হকিতে ‘ডাবল রোল’ করতে গিয়ে তিনি একটা সময় নিজের পরিবারের থেকেও দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে এখন অনেকটাই স্বস্তিতে। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিলেন, রিও অলিম্পিক্সের আগে কোনও সময়ই তিনি বলেননি যে, হকিতে ভারত পদকের দাবিদার। তিনি নাকি আসলে বলেছিলেন, ভারত যদি প্রথম ছয় দলের মধ্যে থাকে সেটাই বড় ব্যাপার হবে। এখন অবশ্য তিনি বলছেন, ‘‘তবে এখন আমি মনে করি, ২০১৮ বিশ্বকাপ আর ২০২০ অলিম্পিক্সে ভারত পদকের অন্যতম দাবিদার।’’