স্বর্ণমন্দিরে সিম।
৭ ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা। যে মঞ্চে কোবি ব্রায়ান্ট, মাইকেল জর্ডনের মতো কিংবদন্তিরা মাতিয়েছেন সেই এনবিএতে কিছু দিন আগেই স্যাক্রামেন্টো কিংসের হয়ে অভিষেক হয়েছে। তিনি— ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাস্কেটবলার সিম ভুল্লার।
খেলাটার সম্পর্কে ভারতীয়দের আগ্রহ বাড়াতে দেশে বাস্কেটবল ক্লিনিক করতে এসেছেন সিম। নয়ডা, অমৃতসরের মতো বিভিন্ন শহরে বাস্কেটবল কোচিং দিতে ঘুরছেন। তার ফাঁকেই ই-মেল মারফত একান্তে আনন্দবাজারকে সিম বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় ভারত বাস্কেটবলে অনেক উন্নতি করবে। সবাই এখন দেখছে ভারতীয়রাও এনবিএ-র মতো বড় মঞ্চে খেলছে। আমি একা কেন? সতনামও এনবিএ ড্রাফটে ছিল। সেটা সত্যিই খুব ভাল ব্যাপার দেশের জন্য।’’ গত বছর স্যাক্রামেন্টো কিংসের হয়ে সামার লিগে খেলেন ভুল্লার। অর্থাত্ যেখানে দলের রিজার্ভ বাস্কেটবলাররা খেলেন। সেখানে ভাল পারফর্ম করায় সিমকে সই করাতে সময় নষ্ট করেনি স্যাক্রামেন্টোর মতো নাম করা ফ্র্যাঞ্চাইজি। সিম বললেন, ‘‘এনবিএতে খেলা যে কোনও বাস্কেটবলারের জন্যই বড় ব্যাপার। আমি যখন জানতে পারলাম স্যাক্রামেন্টোর হয়ে খেলব, সুযোগটা স্বপ্নপূরণের মতো লেগেছে। আশা করছি আমার এনবিএতে খেলা বাকি ভারতীয়দের উদ্বুদ্ধ করবে।’’
সেন্টার পজিশনে খেলা সিমের চেহারা কোনও কুস্তিগিরের থেকে কম নয়। সাত ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা হওয়া ছাড়াও ওজন ১৬৩ কেজি। এ রকম চেহারা তৈরি করলেন কী ভাবে? সিম বলছিলেন, ‘‘প্রতিদিন অন্তত দু’ঘণ্টা জিমে কাটাই। তার পরে ট্রেনার বলে দেওয়া বিশেষ সার্কিট ট্রেনিং করি। অর্থাত্ এরোবিকস। তার পরে আবার শক্তি বাড়ানোর সব এক্সারসাইজ। কিন্তু ওজনটা বেড়ে গেছে। ওটা কমাতে হবে।’’ ওজন কমাতে আবার নিজের পছন্দের সমস্ত খাবার জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে ‘পঞ্জাব দ্য পুত্তর’কে। ‘‘আমি কানাডায় বড় হয়েছি ঠিকই তবে ভারতীয় খাবার খেয়ে বড় হয়েছি। রাজমা চাওয়াল খেতে পছন্দ করি। কিন্তু নিজেকে ফিট রাখতে এ সব আর খাওয়া হয় না।’’
ভারতের মতো ক্রিকেট-শাসিত দেশে বাস্কেটবলের জায়গা করতে সময় লাগবে। তবে সাফল্যের বীজ পুঁতে দেওয়া হয়েছে, মনে হচ্ছে ভুল্লারের। ‘‘আমি গর্বিত মনে করব যদি ভারতীয় বাস্কেটবলের অ্যাম্বাস্যাডর হতে পারি। ইয়াও মিং যেমন চিনের হয়ে খেলেছে, ভারতের হয়ে আমিও সেটা করতে চাই।’’ সঙ্গে সংযোজন, ‘‘কোনও খেলার উন্নতির পিছনে একদম গোড়া থেকে কাজ শুরু করতে হয়। ভারতে প্রতিভার অভাব নেই। শুনলাম টিভিতেও এখানে এখন বাস্কেটবল সরাসরি সম্প্রচার হয়।’’ বাস্কেটবলকে ভালবেসে ওঠা সিমের আদর্শ মাইকেল জর্ডন বা ম্যাজিক জনসন নন। ‘‘জর্ডন বা জনসন নয়, আমার বাবার জন্যই আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি। ওঁর জন্যই লড়াই করে যেতে চাই।’’
বাস্কেটবল ছাড়াও বেসবল তাঁর পছন্দের খেলা। তবে এই বাস্কেটবলার কিছুটা হলেও ক্রিকেট-ভক্ত। ‘‘বেসবল আর সকার ভাল লাগে। কিন্তু ছোটবেলায় অনেক ক্রিকেট খেলা দেখেছি।’’