প্রত্যাশার চাপ নিতে পারেনি আমরা, মিরাজের সরল স্বীকারোক্তি

একে বারে উল্টে গেল ঠিক এক মাস আগের সেই ছবিটা। এই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে যে প্রতিপক্ষকে হেলায় হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেই কিনা সেমিতে এসে আটকে গেলেন মিরাজরা!

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ২০:১৮
Share:

একে বারে উল্টে গেল ঠিক এক মাস আগের সেই ছবিটা। এই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে যে প্রতিপক্ষকে হেলায় হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেই কিনা সেমিতে এসে আটকে গেলেন মিরাজরা!

Advertisement

অথচ এই দলটিকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন! অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের তৈরি করতে গত ২ বছরে ৬টি আন্তর্জাতিক সিরিজে ৩০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে এই দলটাই। কিন্তু সেমিতে পরিপক্ক দলটিকেই যে দেখতে পারলো না বিসিবি ! উল্টে হোম গ্রাউন্ডে খেলার সুবিধা, প্রায় হাজার দশেক দর্শকের সমর্থন হিতে বিপরীত হলো। কোয়ার্টার ফাইনালের হার্ডল এই প্রথম পেরিয়ে সেমিতে উঠে যখন ইতিহাস তৈরি, সেখানে কেন থমকে যাবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ? প্রত্যাশার চাপের সঙ্গে দর্শকের চাপ, এটাই নাকি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ‘‘আমরা যতই বলি প্রেসার নেব না, কিন্তু চাপ সব সময়ই মাঠে থাকে। এত দর্শকের সামনে আমরা কেউ কোনো দিন খেলিনি। এত দর্শক, স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে ফেলে দিয়েছিল আমাদেরকে। সেমিফাইনাল ম্যাচ জিততে হবে সেই চাপ ছিল। আমাদের বয়স এখনো অল্প। এসব চাপ এখনো সামলে ওঠার বয়স হয়নি। তা ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে আমরা অভ্যস্তও নই। এরকম প্রেসার সিচুয়েশনে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে , তার জন্য মানসিকভাবে কতোটা শক্ত হতে হবে সেটা শিখলাম।’’ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে সেমিফাইনালে হেরে সেই সরল স্বীকারোক্তি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে। শুরুতে কুয়াশা আর উইকেটের ময়েশ্চারের অ্যাডভানটেজ নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসাররা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইনিংসে শুরুতে যে ধাক্কা দিয়েছেন ক্যারিবিয়রা, তা কাটিয়ে ওঠা হয়নি। তারপরও ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তকে ভুল বলতে নারাজ মিরাজ।

Advertisement

‘‘উইকেট একটু শ্লো মনে হচ্ছিল। আগে ব্যাটিং করে ২৪০ থেকে ২৫০ রান করতে পারলে তা চেজ করা যে কোন দলের পক্ষে কঠিন, সে বিশ্বাস থেকেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তাছাড়া চাপের মুখে চেজ সেভাবে করতে পারিনি অতীতে, এটাও মাথায় ছিল। তাই ব্যাটিংয়ের পক্ষেই মত দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ইনিংসে ২০টা রান কম হয়েছে। আমি আর সাইফউদ্দিন আউট হওয়াতে শেষ ৫ ওভারে কম রান হয়েছে।’’ বললেন মিরাজ।

গত মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দলকেই পর্যুদস্ত করেছে বাংলাদেশ। অথচ সেমিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেই স্পিন অস্ত্রকে ভোঁতা করে দিয়েছে ক্যারিবিয়ান যুব বাহিনী।

সেমিতে হেরে অবশ্য মুষড়ে পড়েনি মিরাজরা। যে দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সেমিতে পেয়ে ভারতের বিপক্ষে স্বপ্নের ফাইনালে অবতীর্ন হওয়ার অংক করছিল, সেই দলটিকেই এখন খুঁজতে হচ্ছে স্বান্ত¦না। পর পর ২টি আন্তর্জাতিক সিরিজে ৪-০ ও ৩-০তে জেতার পর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা ৪ জয়, সেখানেই থামতে হলো। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ফতুল্লায় তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচের দিকে এখন মনোযোগ দিতে হচ্ছে। ওই ম্যাচ জিতে তৃতীয় হয়ে সিরিজটা শেষ করতে চান মিরাজ।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ায় মন সবারই খারাপ। তবে স্যাররা ( কোচিং স্টাফ এবং বিসিবি কর্তারা) বলেছেন, ‘‘এটাই শেষ নয়। আরও সামনে যেতে হবে। সামনে আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে । ওই ম্যাচটি আমাদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচ জিততে পারলে অনেক বড় অর্জন হবে। যদি আমরা তিনে থাকতে পারি তাহলে আমাদেরকে শীর্ষ পাঁচটি দলের একটি ধরা হবে। চ্যাম্পিয়ন অথবা রানারআপ হওয়াটা বড় বিষয় না। আমরা যে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে টপ তিন কিংবা পাঁচে আছি, এটা কিন্তু কম নয়। মুশফিক ভাইয়েরা পাঁচ নম্বর হয়েছেন ২০০৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। আমরা যদি তিন অথবা চার নম্বর হই তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম চিন্তা করবে আমাদেরকে চ্যাম্পিয়ন অথবা রানার আপ হতে হবে।’’

আরও পড়ুন- জাতীয় সঙ্গীতের সময় একি করছিলেন অজি ব্যাটসম্যান খোয়াজা! দেখুন ভিডিও

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement