বিনেশ ফোগাট। —ফাইল চিত্র।
আবার ধাক্কা খেলেন বিনেশ ফোগাট। ধাক্কা খেল তাঁর প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন। ১৮ মাস পর কুস্তিতে ফেরার চেষ্টা করছিলেন বিনেশ। তাঁর লক্ষ্য ছিল চলতি বছর এশিয়ান গেমসে নামা। কিন্তু তার জন্য ট্রায়ালেই নামতে পারবেন না বিনেশ। নেপথ্যে ভারতীয় কুস্তি সংস্থার এক নিয়ম। সেই নিয়ম বিনেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় কুস্তি সংস্থার নিয়ম, এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে সুযোগ পেতে জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। তবে চাইলেই এই প্রতিযোগিতায় খেলা যাবে না। ২০২৫ সালের কুস্তির জাতীয় প্রতিযোগিতা, ২০২৬ সালে ফেডারেশন কাপ ও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় প্রতিযোগিতায় যাঁরা পদক জিতেছেন, তাঁরাই এই ট্রায়ালে নামতে পারবেন। ২০২৫ সালের আগের পদকজয়ীদের সুযোগ দেওয়া হবে না। এই নিয়মেই বাদ পড়েছেন বিনেশ। অর্থাৎ, কুস্তিতে ফিরতে হলে আরও অপেক্ষা করতে হবে এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথে সোনাজয়ী কুস্তিগিরকে।
কয়েক দিন আগে ডোপ পরীক্ষা না দেওয়ায় সতর্ক করা হয়েছে বিনেশকে। আইটিএ-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিনেশের ডোপ পরীক্ষা করাতে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন ডোপিং নিয়ন্ত্রণ আধিকারিক। কিন্তু এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে কোথাও বিনেশকে পাননি তিনি। নথিভুক্ত পরীক্ষা তালিকা বা আরটিপি-র অন্তর্গত সমস্ত ক্রীড়াবিদকে প্রতিদিন ৬০ মিনিটের একটি সময় নির্ধারিত করে দিতে হয়, যখন তিনি ডোপ পরীক্ষার জন্য তৈরি থাকবেন। যে কোনও দিন ডোপ পরীক্ষা করা হতে পারে। সেই সময় সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদকে পাওয়া না গেলে তা উচ্চ সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
গত ৫ জানুয়ারি বিনেশকে ডোপ পরীক্ষা না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনি ১৯ জানুয়ারি উত্তরে জানিয়েছিলেন, হরিয়ানা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে হবে বলে চণ্ডীগড় গিয়েছিলেন। পাশাপাশি সন্তানের দেখভাল করার কারণেও তাঁকে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। বিনেশের উত্তরে সন্তুষ্ট হয়নি আইটিএ। তারা জানিয়েছেন, যতই বিনেশ বিধায়ক হোন বা তাঁর অন্য দায়িত্ব থাকুক, তিনি কোথায় আছেন সেটা জানানো সকল ক্রীড়াবিদের কর্তব্য। আর দু’বার একই কাজ করলে নির্বাসিত হতে পারেন বিনেশ।
উল্লেখ্য, যাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন বিনেশ, সেই ব্রিজভূষণ সিংহের এলাকা গোন্ডাতেই হবে ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতা। কিছু দিন আগে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিনেশ। বলেছিলেন, “যদি আমার, আমার দল বা সমর্থকের উপরে কোনও খারাপ ঘটনা ঘটে তা হলে ভারত সরকার দায়ী থাকবে। এমন এলাকায় প্রতিযোগিতা হচ্ছে যেখানে ওর (ব্রিজভূষণ) প্রবল প্রতিপত্তি রয়েছে। কে ম্যাচ পরিচালনা করবে, কত পয়েন্ট দেওয়া হবে, কে ম্যাট চেয়ারম্যান হবে সব ওর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”
বিনেশের আশঙ্কা ছিল, তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, “অভিযোগ জানানো ছ’জনের মধ্যে আমি একজন। মামলা এখনও আদালতে রয়েছে এবং সাক্ষীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেখানে ওর এলাকায় খেলতে নামা, ওর নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিদের সামনে থাকা আমার উপরে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আমি নিশ্চিত ভাবেই ১০০ শতাংশ দিতে পারব না।” এ বার জানা গেল, সেই প্রতিযোগিতায় নামতেই পারবেন না বিনেশ।