তিন বছরেই পাল্টে দিয়েছেন ছবিটা। সাফল্যের পরিধি থেকে তাই সরাসরি কেন্দ্রে আটলেটিকো মাদ্রিদ। সৌজন্যে তাদের আর্জেন্তাইন কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মরসুমের শুরুতেও যাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে প্রতিপক্ষরা কোনও চিন্তাই করেনি। মরসুম শেষে লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন সেই আটলেটিকো মাদ্রিদই।
আঠারো বছর পর শনিবার রাতে লা লিগা জয়ের পর আটলেটিকো সমর্থকরা তাই স্প্যানিশ লিগ খেতাব জয়ের যাবতীয় কৃতিত্ব দিচ্ছেন দিয়েগো সিমিওনেকেই। তবে খেতাব জয়ের দিনেও ট্রফি হাতে তুলতে পারলেন না সিমিওনে ও তাঁর ছেলেরা। কারণ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেল মারিয়া ভিয়ার ব্যক্তিগত কারণে শনিবার মাঠে ছিলেন না। তাই ট্রফি দেওয়া যায়নি। কিন্তু আঠারো বছর পর আটলেটিকোকে খেতাব এনে দিয়ে সিমিওনে সে বিষয়ে ভাবতে নারাজ। বলছেন, “এটা কোনও ব্যাপারই নয়। একটা ইতিহাস তৈরি হল আজ। মাদ্রিদ এখন লাল-সাদা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটলেটিকো মাদ্রিদের সমর্থক এর পর থেকে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে।”
আটলেটিকো কোচ সঙ্গে স্মরণ করছেন তাঁর দল এবং স্পেনের প্রবাদপ্রতিম প্রয়াত কোচ লুই আরাগোনেসকেও। তাঁর কথায়, “লুইকে আজ খুব মনে পড়ছে। শেষ দিকে নিজেদের বক্সে আমরা যখন ডিফেন্স করছিলাম তখন লুই আরাগোনেসও নিশ্চয়ই আমার দলের সঙ্গে ছিলেন। আর মনে পড়ছে হেসুস গিলকে (আটলেটিকোর প্রাক্তন মালিক)। যাঁরা আমার কোচিং জীবনে সর্বদা অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গিয়েছেন।”
এখানেই থামেননি সিমিওনে। বলেছেন, “জয়ের অনেক রাস্তা রয়েছে।” এ ক্ষেত্রে ইঙ্গিতটা অবশ্যই শুরুতে দিয়েগো কোস্তা এবং তুরানের মতো নির্ভরযোগ্য দুুই ফুটবলারের চোট পেয়ে বসে যাওয়া ও বার্সেলোনার কাছে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার দিকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ১-১ করে লা লিগা খেতাব নিজের পকেটে পুরে নেওয়ার পর ন্যু কাম্প স্টেডিয়ামের দর্শকরাও উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান সিমিওনেকে। যে সম্মান পেয়ে অভিভূত গডিনদের কোচ। বলছেন, “জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত তো বটেই। দ্বিতীয়ার্ধে ছেলেরা অনবদ্য পারফর্ম করল।”
আর গোটা মরসুমের পারফরম্যান্স? সিমিওনের জবাব, “গোটা মরসুমটাই দুর্দান্ত গিয়েছে। বিলবাও, সেভিয়া, বের্নাবাওতে গিয়ে জিতেছি। ন্যু কাম্পে এসে ড্র করলাম। ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা ভাবনা করেই এগিয়েছিলাম। তাতেই সাফল্য এসেছে।”