ফিটনেস চার্ট আর ইচ্ছাশক্তিতে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হরভজনের

রবিবাসরীয় ওয়াংখেড়ের সিরিজ ফাইনালের সম্ভাব্য সেরা যুদ্ধ-তালিকা করতে বসলে, মেন্যুতে কী কী রাখা যেতে পারে? ১) বিরাট কোহলি বনাম ডেল স্টেইন। ২) রোহিত শর্মা বনাম কাগিসো রাবাদা। ৩) এবি ডে’ভিলিয়ার্স বনাম মোহিত শর্মা। ক্রিকেট-বুভুক্ষুদের উপরোক্ত সুপাচ্য ‘খাদ্যতালিকা’ নিয়ে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। ধরে নেওয়া যায়, মোটামুটি এটাই সেরা তিন হিসেবে জনপ্রিয় হবে এবং সেখানে একজনকে কোনও একটা ডুয়েলে নামানোর ভাবনা খুব একটা কারও মাথাতে আসবে না।

Advertisement

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:৩৫
Share:

আইপিএলের দুরন্ত ফর্ম দেশের জার্সিতেও।

রবিবাসরীয় ওয়াংখেড়ের সিরিজ ফাইনালের সম্ভাব্য সেরা যুদ্ধ-তালিকা করতে বসলে, মেন্যুতে কী কী রাখা যেতে পারে?
১) বিরাট কোহলি বনাম ডেল স্টেইন। ২) রোহিত শর্মা বনাম কাগিসো রাবাদা। ৩) এবি ডে’ভিলিয়ার্স বনাম মোহিত শর্মা।
ক্রিকেট-বুভুক্ষুদের উপরোক্ত সুপাচ্য ‘খাদ্যতালিকা’ নিয়ে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। ধরে নেওয়া যায়, মোটামুটি এটাই সেরা তিন হিসেবে জনপ্রিয় হবে এবং সেখানে একজনকে কোনও একটা ডুয়েলে নামানোর ভাবনা খুব একটা কারও মাথাতে আসবে না।
ভদ্রলোকের নাম, হরভজন সিংহ।
মুশকিল হল, প্রত্যক্ষ ভাবে ততটা না হলেও পরোক্ষ ভাবে হরভজন সিংহকে আবার রিংয়ের বাইরে রাখার উপায়ও নেই। চলতি ওয়ান ডে সিরিজে যে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলে একজনকে ভারতীয় জার্সিতে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে না, ‘সর্দার’ সেটা বুঝতে দিচ্ছেন কি? তিনটে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ওয়ান ডে সিরিজে। উইকেটসংখ্যা পাঁচ। প্রায় ম্যাচ পিছু দু’টো, কিন্তু তার চেয়েও বড় হল ওভার পিছু রান খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। দশ ওভারে ষাট এখনও একটা ম্যাচেও দেননি। আর রবিবারের ওয়াংখেড়ে যদি রোহিত শর্মা-অজিঙ্ক রাহানের বাস্তুভিটে হয়, তা হলে এটা তাঁরও এক দিক থেকে ঘরের মাঠ। আইপিএলে তাঁর টিম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অরণ্য-গুহা এটা। এটা তাঁর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের মাঠ। কে না জানে, ঘরোয়া ক্রিকেট তাঁকে দু’বছর নির্বাসনের পর আবার জাতীয় দলের জার্সি হাতে তুলে দেয়নি। দিয়েছে আইপিএলের ফর্ম। দিয়েছে ওয়াংখেড়ে। আর এ দিন নেটে তাঁর দীর্ঘক্ষণ রগড়ানি দেখলে, গত দু’বছরে দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধের কাহিনি শুনলে রবি-ফাইনালের আগে আশাবাদ আরও বেড়ে থাকা উচিত।

Advertisement

শোনা গেল, তিনটে জিনিস ফের জাতীয় সার্কিটে ফিরিয়ে এনেছে হরভজনকে। এক, তাঁর ওয়ার্ক-এথিক্স। একটার পর একটা নির্বাচনী বৈঠকে উপেক্ষিত থেকেও কাজকর্মে ঢিলেমি না দেওয়া। দুই, তাঁর অমোঘ ইচ্ছেশক্তি। যা অদৃষ্টের কঠোর আঘাতেও কখনও চূর্ণ হয়নি। আর তিন, ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতা। খেলাটাকে কখনও অবিশ্বাস না করা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কারও কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলে যা এ দিন পাওয়া গেল।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচিং স্টাফের সদস্য রাহুল সঙ্ঘবি যেমন একজন। টার্বুনেটরের প্রত্যাবর্তন নিয়ে এ দিন দুপুরে ফোনে যিনি বলছিলেন যে, মধ্যবর্তী দুঃসময়ে স্রেফ একটা বল নিয়েও দিনের পর দিন হরভজনকে তিনি পড়ে থাকতে দেখেছেন। ‘‘ফ্লোটারটা ঠিকঠাক পড়ছিল না একটা সময়। দেখেছিলাম, ওটা নিয়ে পরপর কয়েক দিন লড়ে গেল। ঠিকও করে ফেলল শেষ পর্যন্ত,’’ বলছিলেন প্রাক্তন জাতীয় স্পিনার। শোনা গেল, নিজের আলাদা ডায়েট চার্ট তৈরি করেছিলেন হরভজন। বুঝে গিয়েছিলেন, কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রত্যাবর্তন ঘটাতে হলে ফিটনেসটা ঠিক রাখা দরকার। মাঝে মনখারাপ এসেছে, যেমন আর পাঁচটা মানুষের জীবনে আসে। জাতীয় দল থেকে প্রথম বাদ পড়ার ধাক্কাটা নাকি এত জোরালো ছিল যে, পরিচিত ফুরফুরে মেজাজটাই জীবন থেকে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। নিজে নাকি খুঁজতে চেষ্টা করতেন খামতিটা কোথায়। সঙ্ঘবি দেখেছেন সে সব দিন। বলছিলেন, ‘‘এটাও বুঝতে হবে যে, হরভজন সিংহও আসলে মানুষ। দুঃখ-কষ্ট ওরও আছে। কিন্তু ভেঙে পড়লেও হারতে দেখিনি। বরং সব সময় বলত যে, ফুরিয়ে যাইনি আমি। দেখে নিও, ফিরব।’’

Advertisement

ফিরেছেন। নিজের দুঃসময়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স নেটে তিন ঘণ্টা টানা বল করে যেতেও দু’বার ভাবেননি। ব্যাট করতে ঢুকে বেরোতেন সবার শেষে। আর নিজের যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ কখনও টিমের উপর পড়তে দেননি। উন্মুক্ত চন্দের মতো কোনও কোনও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সতীর্থ যেমন মনে করতে পারেন না, কখনও জাতীয় দলের ব্যাপারে মেজাজ খারাপ করে সতীর্থদের সঙ্গে বসে থাকতেন বলে। রাত দু’টোতেও যে কোনও দরকারে নাকি পাওয়া যেত হরভজনকে।

রবিবার ভারত জিতলে বোধহয় হরভজন সিংহের দু’বছরের নিরন্তর ক্রিকেট-যুদ্ধ মর্যাদা পাবে। তা তিনি সম্ভাব্য যুদ্ধ-তালিকায় থাকুন চাই না থাকুন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement