বৃষ্টিতে আটকে বাংলা দুইয়ে

বর্ষাপাড়ায় বর্ষাই পাবেন। ভরসা তো আর পাবেন না। মাঠে দাঁড়িয়ে অসম ক্রিকেট সংস্থার এক কর্তা হাসতে হাসতে বলছিলেন। রীতিমতো উল্লসিত তিনি ও তাঁর সংস্থার অন্যান্য কর্তা। ক্রিকেটাররা তো বটেই। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা কয়েক জন এসে বর্তমানদের ছোট করে একটা সংবর্ধনাও দিয়ে গেলেন!

Advertisement

রাজীব ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:২২
Share:

বর্ষাপাড়ায় বর্ষাই পাবেন। ভরসা তো আর পাবেন না। মাঠে দাঁড়িয়ে অসম ক্রিকেট সংস্থার এক কর্তা হাসতে হাসতে বলছিলেন।

Advertisement

রীতিমতো উল্লসিত তিনি ও তাঁর সংস্থার অন্যান্য কর্তা। ক্রিকেটাররা তো বটেই। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা কয়েক জন এসে বর্তমানদের ছোট করে একটা সংবর্ধনাও দিয়ে গেলেন!

কে বলবে, আগের রাতের বৃষ্টির বদান্যতায় একটু আগেই কোনও রকমে হার বাঁচিয়েছে তারা।

Advertisement

উল্টো দিকে বাংলা শিবিরে তখন শুকনো হাসি-মস্করা-ঠাট্টা একে অপরের মধ্যে। তাদেরও দেখে বোঝার উপায় নেই যে, বিপক্ষের আটটা উইকেট ফেলতে না পেরে প্রায় নিশ্চিত জয় ও বোনাস পয়েন্ট হাতছাড়া হয়েছে। রঞ্জি ট্রফির নক আউটে পৌঁছলেও গ্রুপসেরা হওয়ার গর্বে কলার তুলে সেখানে যাওয়ার উপায় আর নেই। যেতে হবে দু’নম্বর হয়ে।

ছবিগুলো যেন কেমন উল্টো উল্টো। যেমন হওয়ার কথা, তেমন নয়।

আসলে হার বাঁচালেও গত বারের চ্যাম্পিয়ন কর্নাটক এ দিন হেরে ছিটকে যাওয়ায় অসমের কোয়ার্টার ফাইনালের দরজা খুলে গেল যে। সে জন্যই এই উল্লাস। আগের রাতে ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টি। তাতেই শুক্রবার বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের উইকেট ও তার আশপাশের অঞ্চল এমন স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায় যে, নির্ধারিত সময়ের পৌনে চার ঘণ্টা আগে খেলা শুরু করা যায়নি। তার পর তিন ঘণ্টা ১২ মিনিটের ক্রিকেট। ৩৮ ওভার। তাতে ছ’টার বেশি উইকেট ফেলতে পারলেন না প্রজ্ঞান, দিন্দা, মুকেশ, গনিরা। কুড়ি মিনিটে ঝড় তোলা দিন্দার এক উইকেট। প্রজ্ঞান ওঝার ঝুলিতেও একটা।

সকালের ওই দেরিতেই বাংলার সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-টপার হওয়ার স্বপ্ন শেষ। তাও একা আমির গনিই পাঁচ জনকে ফেরান। তাতেও শেষরক্ষা হল না। বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ লাইট-মিটার আনিয়ে আম্পায়াররা যখন খেলা বন্ধ করে দিলেন, তখন অসম সেই আগের ইনিংসের রানেই— ১৪৩। তবে অল আউট নয়। ওপেনার পল্লব দাসের ৫৫ ছাড়া বাকিরা ফ্লপ। তা সত্ত্বেও অসম কোয়ার্টার ফাইনালে!

সিলি পয়েন্ট, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগ, স্লিপ, লেগ স্লিপ— যত রকমের ক্লোজ ইন ফিল্ডার দেওয়া যায়, সব দিয়েও অসমকে পুরো ফেলতে পারল না বাংলা। প্রকৃতিই যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে, সেখানে আর কীই বা করার থাকতে পারে! এই বলেই নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বাংলা শিবিরে।

এই সুযোগে পূর্বাঞ্চলীয় ভ্রাতৃত্বের সুবাতাস বইয়ে দিলেন মনোজ তিওয়ারিরা। দলের সবচেয়ে জুনিয়র সদস্য আমির গনি পর্যন্ত বললেন, ‘‘ভালই তো হল, পূর্বাঞ্চল থেকে আরও একটা টিম নক আউটে গেল। আমরা ওদের নিয়েই নক আউটে উঠলাম।’’

গত বারের চ্যাম্পিয়ন কর্নাটক যে পুণেতে দুর্বল মহারাষ্ট্রের কাছে ৫৩ রানে হেরে যাবে, তা ভাবতেই পারেননি গোকুল শর্মারা। চা বিরতিতে রবিন উথাপ্পাদের হারের সম্ভাবনার খবর অসম ড্রেসিংরুমে আসার পর থেকেই অসম ব্যাটসম্যানদের ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকা ও সময় নষ্টের মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়।

চায়ের পরও তিনটে উইকেট পড়ে গিয়েছে দেখে সময় নষ্টের খেলা শুরু হয়। কিপার ওয়াসিকুর রহমানের আঙুলে এক বার সামান্য আঘাত লাগে। সেই আঘাতের পরিচর্যার জন্যই বারবার ফিজিওকে দৌড় করাচ্ছিলেন তিনি। ব্যাট বদল, জলের বোতল আনানো, এ সবও চলছিল সমানে। মনোজ দু-এক বার বিরক্তিও প্রকাশ করেন। তার জেরে এক বার আম্পায়াররা দৌড়ে আসা অসম ফিজিওকে ফিরিয়েও দেন। মনোজ অবশ্য তা নিয়ে পরে অভিযোগ করেননি। বললেন, ‘‘ওই সময় ওদের যা করার কথা তা-ই করেছে। এটা খেলারই অঙ্গ। এটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আমরা তো আগেই নক আউটে চলে গিয়েছি।’’

নাগপুরে বোর্ড প্রেসিডেন্ট শশাঙ্ক মনোহরের দল বিদর্ভ হরিয়ানাকে ইনিংসে হারিয়ে মোট ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে চলে গেল। বাংলা ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও ২৬ পয়েন্ট পেয়ে অসম তিনে। সিএবি সূত্রের খবর, বোর্ডের সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নাকি বাংলা খেলবে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে আর অসম পঞ্জাবের বিরুদ্ধে। অপর দুই কোয়ার্টার ফাইনালে বিদর্ভ-সৌরাষ্ট্র ও মুম্বই ঝাড়খণ্ড মুখোমুখি। সেমিফাইনালে নাকি বাংলা-মুম্বই মুখোমুখি হতে পারে। তা হলে রঞ্জির ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা মোটেই সহজ হবে না মনোজদের পক্ষে।

আত্মবিশ্বাসী কোচ সাইরাজ বাহুতুলে অবশ্য স্টেডিয়াম থেকে বেরোতে বেরোতে বললেন, ‘‘কোয়ার্টার ফাইনালেই মুম্বই পড়ুক না, দেখে নেব।’’

বাংলার কোচ হয়ে আসার সময় মুম্বই ক্রিকেট কর্তাদের গর্জন বোধহয় ফের তাঁর কানে বেজে উঠল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলা ৪৪৪-৬ ডিঃ।

অসম ১৪৩ এবং ১৪৩-৮

(পল্লব দাস ৫৫, আমির গনি ৫-৬২)।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement