একাধিক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট কর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি স্বার্থসংঘাতের একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন যিনি, এ বার সেই নীরজ গুন্ডের স্বার্থ নিয়েই প্রশ্ন উঠল ভারতীয় বোর্ডে। প্রশ্ন তুললেন খোদ বোর্ডের এথিক্স অফিসার বা ‘ওম্বুডসম্যান’ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অজিত প্রকাশ শাহ এবং বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুর।
ক্রিকেট প্রশাসনে স্বার্থসংঘাত ঠেকাতে বিচারপতি শাহকে নিয়োগ করা হয়েছে বোর্ডে। সারা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে কোথায়, কে স্বার্থসংঘাতে জড়িয়ে আছেন, তা খতিয়ে দেখাই যাঁর কাজ। এর আগে হরভজন সিংহ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ তুলে এপি শাহর কাছে ই-মেল পাঠিয়েছেন গুন্ডে। কিন্তু এর পর এক ধাপ এগিয়ে তিনি বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধেও একই তোপ দাগতেই গুন্ডের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। বোর্ডে এপি শাহর দফতর থেকে তাঁর কাছে ই-মেল করে যা জানতে চাওয়া হয়েছে বলে খবর, তার মোদ্দা হল, এই অভিযোগগুলি তোলার তিনি কে? কোন যোগ্যতাবলে এই সব অভিযোগগ এনেছেন তিনি?
সম্প্রতি অনুরাগ ঠাকুর ও অন্যতম জাতীয় নির্বাচক বিক্রম রাঠৌড়ের বিরুদ্ধে স্বার্থসংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ তুলে গুন্ডের বক্তব্য ছিল, দু’জনের মধ্যে পারিবারিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এবং অনুরাগ বোর্ডে প্রভাবশালী জায়গায় থাকাকালীন রাঠৌড়কে নির্বাচক হিসেবে আনা হয়েছিল এবং তিনি সচিব হওয়ার পর ওই নির্বাচকের মেয়াদ বাড়ানোও হয়।
এর পরই গুন্ডের কাছে ই-মেল করে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর অবস্থান ও উদ্দেশ্য। পরপর অভিযোগে তাঁর কী স্বার্থ রয়েছে, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। মুম্বইয়ে এ দিন বিচারপতি শাহ শুধু বলেন, ‘‘হ্যাঁ, গুন্ডের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’’ রাঠৌড়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা স্বীকার করে নিয়ে অনুরাগ ঠাকুর এ দিন দিল্লি থেকে ফোনে বলেলন, ‘‘বিক্রমের সঙ্গে আমার বহু বছরের সম্পর্ক। কিন্তু আমাদের ব্যবসার সঙ্গে ক্রিকেটের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু একই লোক বারবার কেন অভিযোগ আনছে, তা একবার ভেবে দেখেছেন?’’
বোর্ডের একাংশের অভিযোগ, এই গুন্ডে ভদ্রলোক নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনের অনুগত। গত বছর অনুরাগের সঙ্গে আইসিসির দুর্নীতিদমন বিভাগের নজরে থাকা এক ক্রিকেট জুয়াড়ি কর্ণ গিলহোত্রর ছবি প্রকাশ করে তাঁকে প্যাঁচে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন ইনিই।
নীরজ গুন্ডে অবশ্য এ সব কথা মানতে নারাজ। মুম্বইয়ের চেম্বুরে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসে বললেন, ‘‘যে অভিযোগগুলো করেছি, সেগুলো যে ভুল, তা আগে প্রমাণ করে দেখাক বোর্ড। তার পর আমি কে, কার লোক, সে সব দেখা যাবে।’’ তবে তিনি যে শ্রীনিবাসনকে চেনেন তা স্বীকার করে নিচ্ছেন, ‘‘আমার সঙ্গে অনেক বড় বড় লোকেদেরই যোগাযোগ আছে। শ্রীনিবাসন তাঁদের একজন। কিন্তু আমি একজন সমাজকর্মী, ক্রিকেট ভক্ত এবং ক্রিকেট থেকে ধান্দাবাজদের সরানোই আমার উদ্দেশ্য। এ সবই আমি বিচারপতি শাহকে জানিয়েছি। এ বার দেখা যাক উনি কী করেন।’’
বোর্ড রাজনীতি থেকে আপাতত ছিটকে গেলেও শ্রীনিবাসন যে ফিরে আসার জন্য শশাঙ্ক মনোহর ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ খেলছেন, এ বোধহয় তারই ইঙ্গিত।