—প্রতীকী চিত্র।
ইরান যুদ্ধের জেরে বন্ধ হরমুজ় প্রণালী। এর জেরে ভারত-সহ গোটা বিশ্বেই বাড়ছে জ্বালানি সঙ্কট। এত দিন পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্রগুলি থেকে খনিজ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু, সংঘাত পরিস্থিতিতে সেটা থমকে যাওয়ায় বিকল্প উৎসের খোঁজ চালাচ্ছে কেন্দ্র। অন্য দিকে, ঘরোয়া বাজারে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। ফলে পকেট বাঁচাতে তড়িঘড়ি ইন্ডাকশান অভেন কিনতে দোকানে ছুটতে দেখা যাচ্ছে আমজনতার একাংশকে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ-হেন পরিস্থিতিতে বাজারের সেরা ইন্ডাকশান অভেন কিনতে হলে মাথায় রাখতে হবে ছ’টি বিষয়। সেই তালিকার প্রথমেই আসবে ওয়াট। বৈদ্যুতিন উনুন সাধারণত ১২০০-২০০০ ওয়াটের হয়ে থাকে। ইন্ডাকশান অভেন যত বেশি ওয়াটের হবে, ততই দ্রুত রান্না হবে তাতে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ধরনের রান্না করার সুবিধা পাবেন গ্রাহক। আর তাই ন্যূনতম ১,৮০০ ওয়াটের বৈদ্যুতিন উনুন কেনারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন গ্যাজেট বিশ্লেষকেরা।
দ্বিতীয়ত, যে কোনও বাসনে ইন্ডাকশান অভেনে রান্না করতে পারবেন না গ্রাহক। এর জন্য চাই ইস্পাত বা কাস্ট আয়রনের পাত্র। কিন্তু অ্যালুমিনিয়ামের বাসনে খাবার তৈরি বা গরম প্রায় করা যাব না বললেই চলে। বৈদ্যুতিন উনুন কেনার সময় অবশ্যই তার নিরাপত্তার দিকটা খুঁটিয়ে দেখা উচিত। সেগুলির মধ্যে ওভার হিট প্রোটেকশান, অটো শাপ অফ এবং চাইল্ড লক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাজারে দু’ধরনের ইন্ডাকশান অভেন রয়েছে। একটিতে থাকে স্মার্টফোনের মতো টাচ সিস্টেম। এগুলি পরিষ্কার করা বেশ সহজ। তবে কোনও ভাবেই এতে অসাবধানে রান্না করতে পারবেন না গ্রাহক। আর দ্বিতীয়টি চলবে বোতাম বা সুইচে। এই শ্রেণির বৈদ্যুতিন উনুনে কিন্তু ভেজা হাতেও রান্না করতে বা খাবার গরম করতে পারবেন ব্যবহারকারী।
ইন্ডাকশান অভেনের রান্না করা একেবারেই এলপিজি গ্যাসের মতো নয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, গোড়ার দিকে এতে কত ক্ষণে ভাত ফুটছে বা আলু সেদ্ধ হচ্ছে, তা বুঝতে গ্রাহকের কিছুটা সময় লেগে যাবে। আর তাই কেনার সময় টাইমা- যুক্ত বৈদ্যুতিন উনুন কেনাই ভাল। তা হলে দুধ গরম করার সময় তা উপচে পড়ার মতো কোনও কেলেঙ্কারি হবে না।
ইন্ডাকশান অভেনে অবশ্যই প্রিসেট মেনু থাকলে বাড়তি সুবিধা পাবেন গ্রাহক। কেনার সময় যন্ত্রটা কতটা শক্তপোক্ত তাও দেখে নেওয়া দরকার। বহু বৈদ্যুতিন উনুনের উপরের অংশ তৈরি হয়েছে কাচ দিয়ে। এই ধরনের ইন্ডাকশান অভেন একটু বেশি দাম দিয়ে কেনা ভাল। কারণ, সস্তা হলে কিছু দিন পরই ওই কাচে চোখে পড়তে পারে চিড় বা ক্র্যাক।
সব শেষে অবশ্যই যে ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশান অভেন কেনা হচ্ছে, বাড়ির আশপাশে থাকতে হবে তার সার্ভিস সেন্টার। কারণ, মেরামতির প্রয়োজন হলে লোকান ব্র্যান্ড ব্যবহার না করাই ভাল। সে ক্ষেত্রে দ্রুত খারাপ হতে পারে বৈদ্যুতিন উনুন। উল্লেখ্য, ২০০০-৩০০০ টাকার পার্থক্যে কিন্তু অমূল বদলে যেতে পারে ইন্ডাকশান অভেনের মান, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।